নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের সাফল্য দেখতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের সাফল্য দেখতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ সময় তিনি বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষী ক্লাস্টার পরিদর্শন করেন এবং চিংড়ির হারভেস্টিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন ও স্থানীয় চিংড়ি চাষীদের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (খুলনা) মোঃ বদরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (বাগেরহাট) রাজকুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খুলনা বিভাগ) এইস এম বদরুজ্জামান এবং ডুমুরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও উপদেষ্টা মহোদয়কে সার্বিক ব্রিফিং প্রদান করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান। তিনি বলেন, “পূর্বে চাষীদের উৎপাদন শতক প্রতি মাত্র ১.৫ থেকে ২ কেজি ছিল। কিন্তু মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শের ফলে বর্তমানে তা দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে শতক প্রতি ৬ থেকে ৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় চাষীরা ঘেরের গভীরতা ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি, পাড় প্রশস্তকরণ, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহার, উন্নতমানের পিএল ও গুণগতমানের খাদ্য ব্যবহার করছেন।” চিংড়ি চাষী মিতালি মন্ডল বলেন, “কোস্টাল প্রকল্প ও উপজেলা মৎস্য অফিসের স্যারদের পরামর্শে এখন আমরা অনেক ভালো আছি। উৎপাদন বেড়েছে, স্বামীর আয়ের পাশাপাশি আমরাও সংসারে অবদান রাখতে পারছি।” অপর চাষী শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন, “স্যারেরা আমাদের চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন—পানির গভীরতা বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভালো মানের পিএল এবং গুণগতমানের খাদ্য। এগুলো মেনেই আমরা সফলতা পাচ্ছি। প্রয়োজনে মৎস্য অফিসে জানালে স্যারেরা দ্রুত চলে আসেন। আমাদের এলাকায় কোস্টাল প্রকল্পের মতো আরও প্রকল্প প্রয়োজন।” ডুমুরিয়া উপজেলার ইউএনও সবিতা সরকার বলেন, “মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের আগমনে আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত। ডুমুরিয়ার অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা, যা মৎস্য চাষিদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি এবং এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “নারীরা মাছ ও চিংড়ি চাষে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নত করছে—এটি অত্যন্ত আনন্দের। আমাদের নিরাপদ মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার মৎস্য ও চিংড়ি চাষীদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” এ সময় চিংড়ি চাষীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজিত বিশ্বাস, জয়প্রকাশ বিশ্বাস, মারুফ সরদার, দীপঙ্কর গাইন, দীপংকর মিস্ত্রী, শিউলি মন্ডল, বিথিকা মন্ডল, লাভলি মন্ডল, কল্পনা মন্ডল, মিতা বিশ্বাস ও নয়ন বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ জন ক্লাস্টারভুক্ত চিংড়ি চাষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। শেখ মাহতাব হোসেন। ডুমুরিয়া খুলনা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের সাফল্য দেখতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এ সময় তিনি বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষী ক্লাস্টার পরিদর্শন করেন এবং চিংড়ির হারভেস্টিং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন ও স্থানীয় চিংড়ি চাষীদের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (খুলনা) মোঃ বদরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (বাগেরহাট) রাজকুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খুলনা বিভাগ) এইস এম বদরুজ্জামান এবং ডুমুরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও উপদেষ্টা মহোদয়কে সার্বিক ব্রিফিং প্রদান করেন ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান। তিনি বলেন, “পূর্বে চাষীদের উৎপাদন শতক প্রতি মাত্র ১.৫ থেকে ২ কেজি ছিল। কিন্তু মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শের ফলে বর্তমানে তা দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে শতক প্রতি ৬ থেকে ৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় চাষীরা ঘেরের গভীরতা ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি, পাড় প্রশস্তকরণ, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রিবায়োটিক ও প্রবায়োটিক ব্যবহার, উন্নতমানের পিএল ও গুণগতমানের খাদ্য ব্যবহার করছেন।” চিংড়ি চাষী মিতালি মন্ডল বলেন, “কোস্টাল প্রকল্প ও উপজেলা মৎস্য অফিসের স্যারদের পরামর্শে এখন আমরা অনেক ভালো আছি। উৎপাদন বেড়েছে, স্বামীর আয়ের পাশাপাশি আমরাও সংসারে অবদান রাখতে পারছি।” অপর চাষী শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন, “স্যারেরা আমাদের চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন—পানির গভীরতা বৃদ্ধি, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভালো মানের পিএল এবং গুণগতমানের খাদ্য। এগুলো মেনেই আমরা সফলতা পাচ্ছি। প্রয়োজনে মৎস্য অফিসে জানালে স্যারেরা দ্রুত চলে আসেন। আমাদের এলাকায় কোস্টাল প্রকল্পের মতো আরও প্রকল্প প্রয়োজন।” ডুমুরিয়া উপজেলার ইউএনও সবিতা সরকার বলেন, “মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের আগমনে আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত। ডুমুরিয়ার অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা, যা মৎস্য চাষিদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি এবং এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “নারীরা মাছ ও চিংড়ি চাষে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নত করছে—এটি অত্যন্ত আনন্দের। আমাদের নিরাপদ মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার মৎস্য ও চিংড়ি চাষীদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” এ সময় চিংড়ি চাষীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজিত বিশ্বাস, জয়প্রকাশ বিশ্বাস, মারুফ সরদার, দীপঙ্কর গাইন, দীপংকর মিস্ত্রী, শিউলি মন্ডল, বিথিকা মন্ডল, লাভলি মন্ডল, কল্পনা মন্ডল, মিতা বিশ্বাস ও নয়ন বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০ জন ক্লাস্টারভুক্ত চিংড়ি চাষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। শেখ মাহতাব হোসেন। ডুমুরিয়া খুলনা।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত