নজরবিডি. ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
১৮৯৩ সালে কালীপদ বিশ্বাসের হাত ধরে এই জলযোগের পথচলা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তার উত্তরসূরি সাধন বিশ্বাস এটি পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ব্যবসা নয়, বংশপরম্পরায় ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। দোকানের ভেতরের পুরনো আমলের চেয়ার-টেবিল আজও সেই আদি রূপ মনে করিয়ে দেয়। সংস্কার হলেও আমরা ঐতিহ্যের সেই আদি ঘ্রাণ হারিয়ে যেতে দেইনি।”
জলযোগ কেবল সাধারণ মানুষের নয়, বরং বরেণ্য সব ব্যক্তিত্বদের আড্ডার কেন্দ্র ছিল। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে বিখ্যাত ‘মেমসাহেব’ উপন্যাসের স্রষ্টা নিমাই ভট্টাচার্য—সবাই এখানে লুচি-মিষ্টির স্বাদ নিয়েছেন। জাদুকর জুয়েল আইচ এবং কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী ও ফকির আলমগীরের পদধূলিতেও ধন্য হয়েছে এই দোকানটি।
জলযোগের প্রধান আকর্ষণ হলো সকালের গরম লুচি ও ডাল। এর স্বাদ যেন অন্য সব জায়গার চেয়ে আলাদা।
সকাল: গরম লুচি (প্রতিটি ৭ টাকা) ও স্পেশাল ঘন ডাল (১৫ টাকা)।
সন্ধ্যা: গরম লুচি ও রকমারি সবজি।
শীতের বিশেষত্ব: নলেন গুড়ের প্যাড়া সন্দেশ, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতেও পাড়ি জমায়।
সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা স্বাদের জন্য জলযোগ বরাবরই সমাদৃত:
রসমালাই: ৪৮০ টাকা।
নলেন গুড়ের সন্দেশ: ৪৬০-৪৮০ টাকা।
রসমঞ্জরী ও ক্ষীর চমচম: ৩৪০ টাকা।
রসগোল্লা ও রাজভোগ: ৩০০ টাকা।
কালোজাম ও চমচম: ২৮০ টাকা।
দোকানটিতে টানা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস। কেবল কাজের জন্য নয়, মায়ার টানেই তিনি এখানে পড়ে আছেন। নিয়মিত গ্রাহক শুভ বিশ্বাসের মতে, “জলযোগের ডালের স্বাদ শহরের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।”
আধুনিকতার এই যুগেও শত বছরের পুরনো সেই নিখাদ স্বাদ আর সাশ্রয়ী মূল্যই জলযোগকে করে তুলেছে যশোরের এক অনন্য পরিচয়। আপনি যদি যশোরে ভ্রমণে আসেন, তবে এই ইতিহাসের স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
নজরবিডি. ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
১৮৯৩ সালে কালীপদ বিশ্বাসের হাত ধরে এই জলযোগের পথচলা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তার উত্তরসূরি সাধন বিশ্বাস এটি পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ব্যবসা নয়, বংশপরম্পরায় ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। দোকানের ভেতরের পুরনো আমলের চেয়ার-টেবিল আজও সেই আদি রূপ মনে করিয়ে দেয়। সংস্কার হলেও আমরা ঐতিহ্যের সেই আদি ঘ্রাণ হারিয়ে যেতে দেইনি।”
জলযোগ কেবল সাধারণ মানুষের নয়, বরং বরেণ্য সব ব্যক্তিত্বদের আড্ডার কেন্দ্র ছিল। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে বিখ্যাত ‘মেমসাহেব’ উপন্যাসের স্রষ্টা নিমাই ভট্টাচার্য—সবাই এখানে লুচি-মিষ্টির স্বাদ নিয়েছেন। জাদুকর জুয়েল আইচ এবং কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী ও ফকির আলমগীরের পদধূলিতেও ধন্য হয়েছে এই দোকানটি।
জলযোগের প্রধান আকর্ষণ হলো সকালের গরম লুচি ও ডাল। এর স্বাদ যেন অন্য সব জায়গার চেয়ে আলাদা।
সকাল: গরম লুচি (প্রতিটি ৭ টাকা) ও স্পেশাল ঘন ডাল (১৫ টাকা)।
সন্ধ্যা: গরম লুচি ও রকমারি সবজি।
শীতের বিশেষত্ব: নলেন গুড়ের প্যাড়া সন্দেশ, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতেও পাড়ি জমায়।
সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা স্বাদের জন্য জলযোগ বরাবরই সমাদৃত:
রসমালাই: ৪৮০ টাকা।
নলেন গুড়ের সন্দেশ: ৪৬০-৪৮০ টাকা।
রসমঞ্জরী ও ক্ষীর চমচম: ৩৪০ টাকা।
রসগোল্লা ও রাজভোগ: ৩০০ টাকা।
কালোজাম ও চমচম: ২৮০ টাকা।
দোকানটিতে টানা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস। কেবল কাজের জন্য নয়, মায়ার টানেই তিনি এখানে পড়ে আছেন। নিয়মিত গ্রাহক শুভ বিশ্বাসের মতে, “জলযোগের ডালের স্বাদ শহরের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।”
আধুনিকতার এই যুগেও শত বছরের পুরনো সেই নিখাদ স্বাদ আর সাশ্রয়ী মূল্যই জলযোগকে করে তুলেছে যশোরের এক অনন্য পরিচয়। আপনি যদি যশোরে ভ্রমণে আসেন, তবে এই ইতিহাসের স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

আপনার মতামত লিখুন