১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরও দুই দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন।
তাঁর শাসনামলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, সংসদীয় ব্যবস্থার সুদৃঢ়করণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে রাজনৈতিক বিরোধ, আন্দোলন-সংঘাত এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি এবং পরবর্তীতে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতির দাবিতে তার দল ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার আন্দোলন ও আবেদন জানানো হলেও আপোষহীন এই নেত্রী নেতাকর্মীদের ছেড়ে যেতে রাজি হননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরে আসেন।

বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনায় নিয়মিত দোয়া ও কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে। অন্তর্বর্তী সরকার একদিনের সাধারণ ছুটিসহ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
আজ জানাজা শেষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই কিংবদন্তি নেত্রী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন; তিনি নারী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ক্ষমতার পালাবদলের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে তার ভূমিকা ও অবদান নিয়ে আলোচনা চলবে—রাজনীতির পাতায় তিনি থাকবেন এক অনিবার্য নাম হয়েই।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরও দুই দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন।
তাঁর শাসনামলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, সংসদীয় ব্যবস্থার সুদৃঢ়করণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে রাজনৈতিক বিরোধ, আন্দোলন-সংঘাত এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি এবং পরবর্তীতে গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতির দাবিতে তার দল ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার আন্দোলন ও আবেদন জানানো হলেও আপোষহীন এই নেত্রী নেতাকর্মীদের ছেড়ে যেতে রাজি হননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরে আসেন।

বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনায় নিয়মিত দোয়া ও কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে। অন্তর্বর্তী সরকার একদিনের সাধারণ ছুটিসহ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
আজ জানাজা শেষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই কিংবদন্তি নেত্রী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন; তিনি নারী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ক্ষমতার পালাবদলের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে তার ভূমিকা ও অবদান নিয়ে আলোচনা চলবে—রাজনীতির পাতায় তিনি থাকবেন এক অনিবার্য নাম হয়েই।

আপনার মতামত লিখুন