বাংলাদেশ
নজরবিডি, ০২ জানুয়ারী-২০২৬
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনের কোনো নদী বা খাল থেকে কাঁকড়া ধরা যাবে না। এই সময়ে জেলেদের পাস-পারমিট (অনুমতিপত্র) ইস্যু বন্ধ রাখার পাশাপাশি বনাঞ্চলে অবস্থানরত জেলেদের লোকালয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস কাঁকড়ার ডিম পাড়ার প্রধান সময়। এই সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তিনি বলেন, "এখন শিকার বন্ধ না করলে বংশবিস্তার ব্যাহত হবে, যা পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।" পশ্চিম সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও বনরক্ষীর যোগসাজশে কিছু অসাধু চক্র ডিমওয়ালা মা কাঁকড়া শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়রা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, "নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই বেশি থাকে; বাস্তবে ঘাটে টাকা দিলেই কাঁকড়া কেনাবেচা করা যায়।"

'জলবায়ু সচেতনতা এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন'-এর প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক শুভ্র শচীন সতর্ক করে বলেন, প্রজনন মৌসুমে মা কাঁকড়া রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। মাগুরখালী ইউনিয়নের চাষী অরুণ গোলদার জানান, প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যাদের ভবিষ্যৎ এখন ঝুঁকির মুখে।
ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান এই নিষেধাজ্ঞাকে মৎস্যজীবীদের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণের জন্য একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ডুমুরিয়ার প্রায় ৭০০ জেলেকে সচেতন করার পাশাপাশি ‘সফট সেল’ কাঁকড়া ও কাঁকড়া মোটাতাজাকরণে চাষীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছে মৎস্য বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনের স্বচ্ছ নজরদারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং বনজীবী জেলেদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা। তবেই টেকসই হবে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবিকা ও রক্ষা পাবে জলজ জীববৈচিত্র্য।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ
নজরবিডি, ০২ জানুয়ারী-২০২৬
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনের কোনো নদী বা খাল থেকে কাঁকড়া ধরা যাবে না। এই সময়ে জেলেদের পাস-পারমিট (অনুমতিপত্র) ইস্যু বন্ধ রাখার পাশাপাশি বনাঞ্চলে অবস্থানরত জেলেদের লোকালয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস কাঁকড়ার ডিম পাড়ার প্রধান সময়। এই সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তিনি বলেন, "এখন শিকার বন্ধ না করলে বংশবিস্তার ব্যাহত হবে, যা পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।" পশ্চিম সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও বনরক্ষীর যোগসাজশে কিছু অসাধু চক্র ডিমওয়ালা মা কাঁকড়া শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়রা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, "নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই বেশি থাকে; বাস্তবে ঘাটে টাকা দিলেই কাঁকড়া কেনাবেচা করা যায়।"

'জলবায়ু সচেতনতা এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন'-এর প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক শুভ্র শচীন সতর্ক করে বলেন, প্রজনন মৌসুমে মা কাঁকড়া রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। মাগুরখালী ইউনিয়নের চাষী অরুণ গোলদার জানান, প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যাদের ভবিষ্যৎ এখন ঝুঁকির মুখে।
ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান এই নিষেধাজ্ঞাকে মৎস্যজীবীদের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণের জন্য একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ডুমুরিয়ার প্রায় ৭০০ জেলেকে সচেতন করার পাশাপাশি ‘সফট সেল’ কাঁকড়া ও কাঁকড়া মোটাতাজাকরণে চাষীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছে মৎস্য বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনের স্বচ্ছ নজরদারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং বনজীবী জেলেদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা। তবেই টেকসই হবে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবিকা ও রক্ষা পাবে জলজ জীববৈচিত্র্য।

আপনার মতামত লিখুন