নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ: বাজারে তীব্র সংকট

কুষ্টিয়ায় বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ: বাজারে তীব্র সংকট
কুষ্টিয়ায় রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলার বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের এই কৃত্রিম ঘাটতিকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে চড়া দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়ে শহর ও গ্রামের শত শত মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বাজারের প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে কোম্পানি থেকে নতুন কোনো লোড বা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্টকে থাকা গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার ‘বড়বাজার’ এলাকাতেও অনেক দোকানে ‘বসুন্ধরা গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা গেছে। সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি ২০০-৩০০ টাকা: বসুন্ধরা গ্যাসের সংকটকে পুঁজি করে বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের গ্যাসের দামও হু হু করে বেড়ে গেছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ১,৩৮০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত গ্রাহক না হলে বা ডিলারের গুদাম থেকে সরাসরি না নিলে গ্যাস পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শহরের এক বাসিন্দা বলেন, "কুষ্টিয়ায় লাইনের গ্যাস নেই, আমরা পুরোপুরি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বাজারে এসে শুনি বসুন্ধরা গ্যাস নেই। অন্য যে কোম্পানির গ্যাস আছে, সেগুলোর দামও আকাশছোঁয়া। শীতের দিনে পরিবার নিয়ে রান্নার কষ্টে পড়েছি।" কয়েকজন ডিলার দাবি করেছেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তারা অসহায়। কোম্পানি থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা নেই। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ডিলাররা অনেক সময় বেশি লাভের আশায় গুদামে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। উল্লেখ্য, আজ সকালেই কুষ্টিয়া বড়বাজারের একটি গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় দাহ্য পদার্থ হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের যত্রতত্র মজুত এবং সংকটকালে অনিয়ন্ত্রিত কেনাবেচা শহরবাসীর মধ্যে অগ্নিঝুঁকির আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কুষ্টিয়াবাসী। তারা বলছেন, দ্রুত বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও চরমে পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


কুষ্টিয়ায় বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ: বাজারে তীব্র সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
কুষ্টিয়ায় রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলার বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের এই কৃত্রিম ঘাটতিকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে চড়া দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়ে শহর ও গ্রামের শত শত মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বাজারের প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে কোম্পানি থেকে নতুন কোনো লোড বা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্টকে থাকা গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার ‘বড়বাজার’ এলাকাতেও অনেক দোকানে ‘বসুন্ধরা গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা গেছে। সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি ২০০-৩০০ টাকা: বসুন্ধরা গ্যাসের সংকটকে পুঁজি করে বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের গ্যাসের দামও হু হু করে বেড়ে গেছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ১,৩৮০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত গ্রাহক না হলে বা ডিলারের গুদাম থেকে সরাসরি না নিলে গ্যাস পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শহরের এক বাসিন্দা বলেন, "কুষ্টিয়ায় লাইনের গ্যাস নেই, আমরা পুরোপুরি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বাজারে এসে শুনি বসুন্ধরা গ্যাস নেই। অন্য যে কোম্পানির গ্যাস আছে, সেগুলোর দামও আকাশছোঁয়া। শীতের দিনে পরিবার নিয়ে রান্নার কষ্টে পড়েছি।" কয়েকজন ডিলার দাবি করেছেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তারা অসহায়। কোম্পানি থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা নেই। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ডিলাররা অনেক সময় বেশি লাভের আশায় গুদামে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। উল্লেখ্য, আজ সকালেই কুষ্টিয়া বড়বাজারের একটি গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় দাহ্য পদার্থ হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের যত্রতত্র মজুত এবং সংকটকালে অনিয়ন্ত্রিত কেনাবেচা শহরবাসীর মধ্যে অগ্নিঝুঁকির আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কুষ্টিয়াবাসী। তারা বলছেন, দ্রুত বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও চরমে পৌঁছাবে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত