খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
রবিবার ৪ জানুয়ারি সকাল ৯টায় খুলনা জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে ৫০ মিটারের নিচে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়।
তীব্র শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই শীতের কারণে কাজে বের হতে না পারায় দৈনন্দিন আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদের বলেন,
“কুয়াশার কারণে সকালেও সূর্য দেখা যায় না। শীত এত বেশি যে কাজে বের হওয়া কষ্টকর। কাজ না থাকলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে জরুরি বিভাগে।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ভোর ও সকালবেলা ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চারদিকে সাদা কুয়াশার চাদর—দূরের গাছপালা আবছা, যেন জলরঙে আঁকা কোনো অস্পষ্ট ছবি। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু মুক্তোর মতো ঝিলমিল করে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানো মানুষ, আবার মেঠোপথ ধরে খেজুরের রস নিয়ে যাওয়া গাছি—সব মিলিয়ে শীতের কুয়াশায় ঢাকা এক চিরচেনা রূপসী বাংলার দৃশ্যপট।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
রবিবার ৪ জানুয়ারি সকাল ৯টায় খুলনা জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে ৫০ মিটারের নিচে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়।
তীব্র শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই শীতের কারণে কাজে বের হতে না পারায় দৈনন্দিন আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদের বলেন,
“কুয়াশার কারণে সকালেও সূর্য দেখা যায় না। শীত এত বেশি যে কাজে বের হওয়া কষ্টকর। কাজ না থাকলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে জরুরি বিভাগে।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ভোর ও সকালবেলা ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চারদিকে সাদা কুয়াশার চাদর—দূরের গাছপালা আবছা, যেন জলরঙে আঁকা কোনো অস্পষ্ট ছবি। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু মুক্তোর মতো ঝিলমিল করে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানো মানুষ, আবার মেঠোপথ ধরে খেজুরের রস নিয়ে যাওয়া গাছি—সব মিলিয়ে শীতের কুয়াশায় ঢাকা এক চিরচেনা রূপসী বাংলার দৃশ্যপট।

আপনার মতামত লিখুন