নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে: ইমামকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা, ভিডিও ভাইরাল

হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে: ইমামকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা, ভিডিও ভাইরাল

নজরবিডি, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। লাঞ্ছনার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এর আগে রোববার সকালে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা এলাকায় এই লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল করিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহমুদ হকের ছেলে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রায় ২০ দিন আগে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, ইমাম আব্দুল করিম তাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। গত রবিবার স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনে এবং ইমামকে আটক করে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা ইমাম আব্দুল করিমকে ঘিরে ধরে মিছিল করছে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে। এ সময় তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।

মাওলানা আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় ডেকে আনা হয়। এরপর তাকে মারধর ও অপমান করা হয়। তিনি বলেন, “মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল এবং শরিয়াহ মোতাবেক আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমার অপরাধ থাকলে আইনি শাস্তি হবে, কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতন কেন?”

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে সারাদিন আটকে রেখে রাতে একতরফা সালিশের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ করানো হয়েছে এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান জানান, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তবে একজন আলেমকে এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে হেনস্তা করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, বাল্যবিবাহ অপরাধ হলে তার জন্য প্রচলিত আইন ও আদালত আছে। কিন্তু কাউকে এভাবে রাস্তায় নামিয়ে অপমান করা মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং ভিডিওটি দেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে: ইমামকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নজরবিডি, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। লাঞ্ছনার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এর আগে রোববার সকালে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা এলাকায় এই লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল করিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহমুদ হকের ছেলে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রায় ২০ দিন আগে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, ইমাম আব্দুল করিম তাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। গত রবিবার স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনে এবং ইমামকে আটক করে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা ইমাম আব্দুল করিমকে ঘিরে ধরে মিছিল করছে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে। এ সময় তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।

মাওলানা আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় ডেকে আনা হয়। এরপর তাকে মারধর ও অপমান করা হয়। তিনি বলেন, “মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল এবং শরিয়াহ মোতাবেক আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমার অপরাধ থাকলে আইনি শাস্তি হবে, কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতন কেন?”

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে সারাদিন আটকে রেখে রাতে একতরফা সালিশের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ করানো হয়েছে এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান জানান, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তবে একজন আলেমকে এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে হেনস্তা করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, বাল্যবিবাহ অপরাধ হলে তার জন্য প্রচলিত আইন ও আদালত আছে। কিন্তু কাউকে এভাবে রাস্তায় নামিয়ে অপমান করা মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং ভিডিওটি দেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত