বাংলাদেশ
নজরবিডি, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবার জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর, দেড়ুয়া, পাকাকাঞ্চনপুর, রাঘবদাড় ও পাটকেলবাড়ি গ্রামের মাঠে দেখা গেছে চোখজুড়ানো দৃশ্য। কোথাও হলুদের সমারোহ, আবার কোথাও ফুল ঝরে গিয়ে ফল ধরতে শুরু করেছে। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের মাঝ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করে এই সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ৯০ হেক্টর। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আবাদের চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| উপজেলার নাম | আবাদের পরিমাণ (হেক্টর) |
| মাগুরা সদর | ১০,৪০৮ |
| শালিখা | ৭,৩৬০ |
| মোহাম্মদপুর | ৩,৭২০ |
| শ্রীপুর | ১,৪০৫ |
সদর উপজেলার নরসিংহাটি গ্রামের কৃষক স্বপন মিয়া জানান, খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় সরিষা চাষ অত্যন্ত লাভজনক। তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলার আশা করছেন। চাউলিয়া ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন ও ছয়চার গ্রামের রফিকুল ইসলামও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের চেহারা ও ফুলের মান অনেক ভালো।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম বলেন,
"আবহাওয়া ও পরিবেশ সরিষা চাষের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। তীব্র শীত বা কুয়াশায় সরিষার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবার সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।"
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাগুরার এই হলুদাভ মাঠ শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং ভোজ্যতেলের চাহিদা মিটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ
নজরবিডি, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবার জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর, দেড়ুয়া, পাকাকাঞ্চনপুর, রাঘবদাড় ও পাটকেলবাড়ি গ্রামের মাঠে দেখা গেছে চোখজুড়ানো দৃশ্য। কোথাও হলুদের সমারোহ, আবার কোথাও ফুল ঝরে গিয়ে ফল ধরতে শুরু করেছে। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের মাঝ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করে এই সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ৯০ হেক্টর। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আবাদের চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| উপজেলার নাম | আবাদের পরিমাণ (হেক্টর) |
| মাগুরা সদর | ১০,৪০৮ |
| শালিখা | ৭,৩৬০ |
| মোহাম্মদপুর | ৩,৭২০ |
| শ্রীপুর | ১,৪০৫ |
সদর উপজেলার নরসিংহাটি গ্রামের কৃষক স্বপন মিয়া জানান, খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় সরিষা চাষ অত্যন্ত লাভজনক। তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলার আশা করছেন। চাউলিয়া ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন ও ছয়চার গ্রামের রফিকুল ইসলামও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের চেহারা ও ফুলের মান অনেক ভালো।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম বলেন,
"আবহাওয়া ও পরিবেশ সরিষা চাষের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। তীব্র শীত বা কুয়াশায় সরিষার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবার সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে।"
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাগুরার এই হলুদাভ মাঠ শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং ভোজ্যতেলের চাহিদা মিটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

আপনার মতামত লিখুন