নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

সংসারে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন: গাংনীতে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে কুমড়ো বড়ি

সংসারে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন: গাংনীতে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে কুমড়ো বড়ি

নজরবিডি, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গেই মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে পুরোনো ঐতিহ্য ‘কুমড়ো বড়ি’ তৈরির মহোৎসব। এক সময়ের পারিবারিক এই কাজ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। মাষকলাইয়ের ডালের সঙ্গে চালকুমড়া, পেঁপে কিংবা মুলা মিশিয়ে তৈরি এই মুখরোচক খাবারটি এখন গ্রাম থেকে শহর—সবখানের ভোজনরসিকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।

স্থানীয় বাসিন্দা জলী খাতুন ও ঝরনা খাতুনের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় এর প্রস্তুতি পর্ব। তারা জানান, বড়ি তৈরির জন্য প্রথমে মাষকলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে নরম করা হয়। এরপর এর সঙ্গে চালকুমড়া, মুলা বা পেঁপে মিশিয়ে মিলে ভাঙানো হয়।

বর্তমানে জলী ও ঝরনার মতো গ্রামের শত শত নারী এখন এই বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে শোল, টাকি, টেংরা মাছ কিংবা ডিমের সঙ্গে এই বড়ি রান্নার স্বাদ অতুলনীয় বলে জানান তারা।

শীত মৌসুমে বড়ি তৈরির ধুম পড়ায় বাজারে চালকুমড়া ও মাষকলাইয়ের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে মাষকলাই প্রতি কেজি ৯০-৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মিল মালিক মো. মহিবুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকে মিলে বড়ি ভাঙাতে আসছেন। প্রতি কেজি ডাল ও কুমড়োর মিশ্রণ ভাঙাতে মিল খরচ নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা।

অনেকেই নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বড়ি বাজারে বিক্রি করে সংসারের হাল ধরছেন। কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ জানান:

বর্তমানে বাজারে কুমড়ো বড়ি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে এবার মাষকলাইয়ের দাম বেশি হওয়ার কারণে বড়ির দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ বলেন, "কুমড়ো বড়ি এমন একটি খাবার যা প্রায় সব ধরনের তরকারির সঙ্গে মানিয়ে যায়। পরিবারের ছোট-বড় সবাই এটি পছন্দ করায় শীতের এই ঐতিহ্যের কদর দিন দিন বাড়ছে।"

গাংনীর এই ঐতিহ্যবাহী বড়ি এখন শুধু রসনাবিলাস নয়, বরং অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সংসারে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন: গাংনীতে বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে কুমড়ো বড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নজরবিডি, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গেই মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে পুরোনো ঐতিহ্য ‘কুমড়ো বড়ি’ তৈরির মহোৎসব। এক সময়ের পারিবারিক এই কাজ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। মাষকলাইয়ের ডালের সঙ্গে চালকুমড়া, পেঁপে কিংবা মুলা মিশিয়ে তৈরি এই মুখরোচক খাবারটি এখন গ্রাম থেকে শহর—সবখানের ভোজনরসিকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।

স্থানীয় বাসিন্দা জলী খাতুন ও ঝরনা খাতুনের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় এর প্রস্তুতি পর্ব। তারা জানান, বড়ি তৈরির জন্য প্রথমে মাষকলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে নরম করা হয়। এরপর এর সঙ্গে চালকুমড়া, মুলা বা পেঁপে মিশিয়ে মিলে ভাঙানো হয়।

বর্তমানে জলী ও ঝরনার মতো গ্রামের শত শত নারী এখন এই বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে শোল, টাকি, টেংরা মাছ কিংবা ডিমের সঙ্গে এই বড়ি রান্নার স্বাদ অতুলনীয় বলে জানান তারা।

শীত মৌসুমে বড়ি তৈরির ধুম পড়ায় বাজারে চালকুমড়া ও মাষকলাইয়ের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে মাষকলাই প্রতি কেজি ৯০-৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মিল মালিক মো. মহিবুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকে মিলে বড়ি ভাঙাতে আসছেন। প্রতি কেজি ডাল ও কুমড়োর মিশ্রণ ভাঙাতে মিল খরচ নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা।

অনেকেই নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বড়ি বাজারে বিক্রি করে সংসারের হাল ধরছেন। কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ জানান:

বর্তমানে বাজারে কুমড়ো বড়ি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে এবার মাষকলাইয়ের দাম বেশি হওয়ার কারণে বড়ির দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ বলেন, "কুমড়ো বড়ি এমন একটি খাবার যা প্রায় সব ধরনের তরকারির সঙ্গে মানিয়ে যায়। পরিবারের ছোট-বড় সবাই এটি পছন্দ করায় শীতের এই ঐতিহ্যের কদর দিন দিন বাড়ছে।"

গাংনীর এই ঐতিহ্যবাহী বড়ি এখন শুধু রসনাবিলাস নয়, বরং অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত