নজরবিডি, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
৩৫ বছরের দীর্ঘ অন্ধত্বকে জয় করে তিনি আজ এলাকার মানুষের কাছে এক ভরসার নাম। চোখের আলো না থাকলেও হাতের স্পর্শে তিনি মেরামত করছেন জটিল সব কৃষি যন্ত্রপাতি, যা দেখে অবাক হন সুস্থ-সবল মানুষও।
মঙ্গল মিয়ার বয়স বাড়লেও তাঁর জীবনীশক্তি যেন হার মানায় তরুণদেরও। প্রতিদিন ভোরে লাঠি হাতে একাই পৌঁছে যান নিজের মেকানিকের দোকানে। সাধারণ বাইসাইকেল থেকে শুরু করে পানির পাম্প, শ্যালো মেশিন, এমনকি পাওয়ার টিলারের মতো জটিল যন্ত্রও তিনি অনায়াসে মেরামত করেন। স্থানীয় কৃষকদের কাছে তিনি এক নির্ভরযোগ্য কারিগর। দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে দৃষ্টিশক্তি হারালেও ছোটবেলায় শেখা সাইকেল মেরামতের কাজকে পুঁজি করে তিনি আজ স্বশিক্ষিত এক দক্ষ মেকানিক।

মঙ্গল মিয়ার দক্ষতাকে স্থানীয়রা দেখেন ‘জাদুকরের স্পর্শ’ হিসেবে। তিনি কেবল মেশিনই নয়, হাতের স্পর্শে নোটের আকার বুঝে বলে দিতে পারেন টাকার পরিমাণ। এমনকি একবার শোনা যেকোনো ফোন নম্বর মুখস্থ রাখার এক বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। স্থানীয়দের ভাষায়, মঙ্গল মিয়া একজন ‘দৃষ্টিমান হৃদয়ের’ মানুষ, যাঁর কাছে কাজ দিলে নিশ্চিন্তে থাকা যায়।
নিজের সংগ্রাম নিয়ে মঙ্গল মিয়া জানান, "৩৫ বছর হলো চোখে দেখি না। ছোটবেলায় সাইকেল সারাতে শিখেছিলাম, পরে নিজের চেষ্টায় শ্যালো মেশিন ও পাওয়ার টিলারের কাজ আয়ত্ত করেছি। একটা সময় বিদ্যুতের কাজও করতাম।" জীবনযুদ্ধের এই অকুতোভয় যোদ্ধা প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো সফলতার পথে বাধা হতে পারে না যদি মনে অটুট মনোবল থাকে।
মঙ্গল মিয়ার এই অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধের খবর নজর কেড়েছে স্থানীয় প্রশাসনেরও। আলমডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা ভট্টাচার্য্য তাঁর এই অদম্য কর্মস্পৃহার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ইউএনও স্নিগ্ধা ভট্টাচার্য্য বলেন, "মঙ্গল মিয়া আমাদের সমাজের জন্য এক বিরল দৃষ্টান্ত। দৃষ্টিহীন হয়েও তিনি যেভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করেছেন এবং কৃষি যন্ত্রপাতির মতো জটিল কাজ করছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানে, তিনি তা প্রমাণ করেছেন।" তিনি আরও জানান, মঙ্গল মিয়ার দোকানের মানোন্নয়ন বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
চুয়াডাঙ্গার এই অদম্য মানুষটি কেবল মেশিন মেরামত করছেন না, বরং তাঁর এই সংগ্রাম সমাজকে শিখিয়ে দিচ্ছে প্রতিকূলতাকে জয় করার মন্ত্র। তিনি চোখে না দেখেও স্বনির্ভরতার যে আলো ছড়াচ্ছেন, তা সারা বাংলাদেশের সংগ্রামীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
নজরবিডি, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
৩৫ বছরের দীর্ঘ অন্ধত্বকে জয় করে তিনি আজ এলাকার মানুষের কাছে এক ভরসার নাম। চোখের আলো না থাকলেও হাতের স্পর্শে তিনি মেরামত করছেন জটিল সব কৃষি যন্ত্রপাতি, যা দেখে অবাক হন সুস্থ-সবল মানুষও।
মঙ্গল মিয়ার বয়স বাড়লেও তাঁর জীবনীশক্তি যেন হার মানায় তরুণদেরও। প্রতিদিন ভোরে লাঠি হাতে একাই পৌঁছে যান নিজের মেকানিকের দোকানে। সাধারণ বাইসাইকেল থেকে শুরু করে পানির পাম্প, শ্যালো মেশিন, এমনকি পাওয়ার টিলারের মতো জটিল যন্ত্রও তিনি অনায়াসে মেরামত করেন। স্থানীয় কৃষকদের কাছে তিনি এক নির্ভরযোগ্য কারিগর। দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে দৃষ্টিশক্তি হারালেও ছোটবেলায় শেখা সাইকেল মেরামতের কাজকে পুঁজি করে তিনি আজ স্বশিক্ষিত এক দক্ষ মেকানিক।

মঙ্গল মিয়ার দক্ষতাকে স্থানীয়রা দেখেন ‘জাদুকরের স্পর্শ’ হিসেবে। তিনি কেবল মেশিনই নয়, হাতের স্পর্শে নোটের আকার বুঝে বলে দিতে পারেন টাকার পরিমাণ। এমনকি একবার শোনা যেকোনো ফোন নম্বর মুখস্থ রাখার এক বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। স্থানীয়দের ভাষায়, মঙ্গল মিয়া একজন ‘দৃষ্টিমান হৃদয়ের’ মানুষ, যাঁর কাছে কাজ দিলে নিশ্চিন্তে থাকা যায়।
নিজের সংগ্রাম নিয়ে মঙ্গল মিয়া জানান, "৩৫ বছর হলো চোখে দেখি না। ছোটবেলায় সাইকেল সারাতে শিখেছিলাম, পরে নিজের চেষ্টায় শ্যালো মেশিন ও পাওয়ার টিলারের কাজ আয়ত্ত করেছি। একটা সময় বিদ্যুতের কাজও করতাম।" জীবনযুদ্ধের এই অকুতোভয় যোদ্ধা প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো সফলতার পথে বাধা হতে পারে না যদি মনে অটুট মনোবল থাকে।
মঙ্গল মিয়ার এই অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধের খবর নজর কেড়েছে স্থানীয় প্রশাসনেরও। আলমডাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা ভট্টাচার্য্য তাঁর এই অদম্য কর্মস্পৃহার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ইউএনও স্নিগ্ধা ভট্টাচার্য্য বলেন, "মঙ্গল মিয়া আমাদের সমাজের জন্য এক বিরল দৃষ্টান্ত। দৃষ্টিহীন হয়েও তিনি যেভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করেছেন এবং কৃষি যন্ত্রপাতির মতো জটিল কাজ করছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানে, তিনি তা প্রমাণ করেছেন।" তিনি আরও জানান, মঙ্গল মিয়ার দোকানের মানোন্নয়ন বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
চুয়াডাঙ্গার এই অদম্য মানুষটি কেবল মেশিন মেরামত করছেন না, বরং তাঁর এই সংগ্রাম সমাজকে শিখিয়ে দিচ্ছে প্রতিকূলতাকে জয় করার মন্ত্র। তিনি চোখে না দেখেও স্বনির্ভরতার যে আলো ছড়াচ্ছেন, তা সারা বাংলাদেশের সংগ্রামীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপনার মতামত লিখুন