নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

স্বপ্ন ছোঁয়া সাত হাতের কচু: ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডলের অভাবনীয় সাফল্য

স্বপ্ন ছোঁয়া সাত হাতের কচু: ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডলের অভাবনীয় সাফল্য

নজরবিডি, খুলনা

একসময় অভাবের সাথে নিত্য লড়াই ছিল তার সঙ্গী। শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণে পাটকলের কাজ ছেড়ে দিয়ে যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই মাটির পরশ আর কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের ঘোনা মাদারডাঙ্গা গ্রামের নিউটন মন্ডল। এলাকায় তিনি এখন পরিচিত ‘কচু নিউটন’ নামে। তার চাষ করা একেকটি পানিকচু লম্বায় প্রায় ৭ ফুট এবং ওজনে ২০ থেকে ৩২ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে।

২০০৫ সালে মাত্র ৩৪ শতক বর্গা জমিতে স্থানীয় জাতের পানিকচু চাষ শুরু করেন নিউটন। বর্তমানে জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতক। সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে তিনি এই চাষাবাদ করেন।

চাষ পদ্ধতি: ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এক ফুট গভীর গর্ত করে তিন ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করেন।

পরিচর্যা: সুষম জৈব ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মাত্র ৪৫ দিনেই লতি বিক্রি শুরু হয়।

আয়: বছরে লতি, কচু ও চারা বিক্রি করে তার আয় এখন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

নিউটন মন্ডলের এই বিশালাকার কচু এখন আর কেবল খুলনা বা ঢাকার বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে (ফেসবুক) তিনি তার এই পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সর্বত্র। এমনকি তার চাষ করা কচু এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানির প্রস্তুতি চলছে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কচু কেটে রোদে শুকিয়ে তা কোরিয়ান বায়ারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

নিউটন মন্ডল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "একসময় অবহেলিত থাকলেও আজ মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আমার ক্ষেত দেখতে আসে। আমার স্বপ্ন এখন একটাই—মেয়েকে ডাক্তার বানানো, যাতে সে গরিব মানুষের সেবা করতে পারে।" তার এই সাফল্যে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন স্ত্রী স্মৃতিলতা মালাকার। কচু চাষের পাশাপাশি তারা এখন গরুর খামার, পেয়ারা এবং চুঁইঝাল চাষেও সফলতা পেয়েছেন।

ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডল প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা আর শ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ব দরবারে নিজের পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


স্বপ্ন ছোঁয়া সাত হাতের কচু: ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডলের অভাবনীয় সাফল্য

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নজরবিডি, খুলনা

একসময় অভাবের সাথে নিত্য লড়াই ছিল তার সঙ্গী। শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কারণে পাটকলের কাজ ছেড়ে দিয়ে যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই মাটির পরশ আর কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের ঘোনা মাদারডাঙ্গা গ্রামের নিউটন মন্ডল। এলাকায় তিনি এখন পরিচিত ‘কচু নিউটন’ নামে। তার চাষ করা একেকটি পানিকচু লম্বায় প্রায় ৭ ফুট এবং ওজনে ২০ থেকে ৩২ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে।

২০০৫ সালে মাত্র ৩৪ শতক বর্গা জমিতে স্থানীয় জাতের পানিকচু চাষ শুরু করেন নিউটন। বর্তমানে জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতক। সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে তিনি এই চাষাবাদ করেন।

চাষ পদ্ধতি: ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এক ফুট গভীর গর্ত করে তিন ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করেন।

পরিচর্যা: সুষম জৈব ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মাত্র ৪৫ দিনেই লতি বিক্রি শুরু হয়।

আয়: বছরে লতি, কচু ও চারা বিক্রি করে তার আয় এখন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

নিউটন মন্ডলের এই বিশালাকার কচু এখন আর কেবল খুলনা বা ঢাকার বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে (ফেসবুক) তিনি তার এই পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সর্বত্র। এমনকি তার চাষ করা কচু এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানির প্রস্তুতি চলছে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কচু কেটে রোদে শুকিয়ে তা কোরিয়ান বায়ারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

নিউটন মন্ডল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "একসময় অবহেলিত থাকলেও আজ মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আমার ক্ষেত দেখতে আসে। আমার স্বপ্ন এখন একটাই—মেয়েকে ডাক্তার বানানো, যাতে সে গরিব মানুষের সেবা করতে পারে।" তার এই সাফল্যে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন স্ত্রী স্মৃতিলতা মালাকার। কচু চাষের পাশাপাশি তারা এখন গরুর খামার, পেয়ারা এবং চুঁইঝাল চাষেও সফলতা পেয়েছেন।

ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডল প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা আর শ্রম থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ব দরবারে নিজের পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত