সরকারের কোনো অনুদান কিংবা দক্ষ প্রকৌশলীর সহায়তা ছাড়াই কেবল গ্রামবাসীর একতা আর ৫৬ যুবকের অদম্য ইচ্ছায় নির্মিত হয়েছে যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়ের ওপর দেশের দীর্ঘতম ভাসমান সেতু।
গত ১৬ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর থেকেই এই বিস্ময়কর সেতুটি একনজর দেখতে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে রাজগঞ্জের ঝাঁপা এলাকা।

যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যবর্তী মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামটি বাওড় বেষ্টিত। দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট লাঘব করতে গ্রামের ৫৬ জন যুবক মিলে পরিকল্পনা করেন বাওড়ের ওপর সেতু নির্মাণের। প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর ভাসমান অবস্থায় তৈরি করা হয়েছে।
দৈর্ঘ্য: ১০০০ ফুট। উপকরণ: সেতুটি ভাসিয়ে রাখতে ৮৩৯টি প্লাস্টিক ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠামো: লোহার এঙ্গেল ও পাত ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২০ টন এবং পাটাতনের জন্য ১৩ টন লোহার সিট ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তা: ড্রামগুলো যাতে লিক না হয় সেজন্য 'থ্রেট টেপ' দিয়ে মুখ আটকানো হয়েছে এবং দুই পাশে দড়ির রেলিং দেওয়া হয়েছে।
আগে যেখানে নৌকায় পারাপার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে নিমিষেই মানুষ হেঁটে বাওড় পার হচ্ছে। ১৬গাধা মল্লিকপুর গ্রাম থেকে আসা রুহুল আমিন নামের এক বৃদ্ধ জানান, ২০ বছর আগে মেয়েকে এখানে বিয়ে দিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতেন, আজ সেতু দিয়ে হেঁটে মেয়ের বাড়ি যেতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
খুলনার ডুমুরিয়া থেকে সপরিবারে আসা আজহারুল ইসলাম ও সালেহা বেগম বলেন, "অনলাইন পত্রিকা ও টিভিতে দেখে কৌতুহল নিয়ে এসেছি। গ্রামবাসীদের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্যোগ দেখে সত্যি অবাক হতে হয়।"

উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান জানান, সেতুটি দিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে আগে নৌকায় যেমন খরচ হতো, সেই নিয়মই বজায় রাখা হবে। মূলত এলাকার ১৫-২০ হাজার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ঘুচাতেই তারা এই স্বেচ্ছাশ্রমের কাজ হাতে নিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি কেবল চলাচলের মাধ্যম নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারের কোনো অনুদান কিংবা দক্ষ প্রকৌশলীর সহায়তা ছাড়াই কেবল গ্রামবাসীর একতা আর ৫৬ যুবকের অদম্য ইচ্ছায় নির্মিত হয়েছে যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়ের ওপর দেশের দীর্ঘতম ভাসমান সেতু।
গত ১৬ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর থেকেই এই বিস্ময়কর সেতুটি একনজর দেখতে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে রাজগঞ্জের ঝাঁপা এলাকা।

যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যবর্তী মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামটি বাওড় বেষ্টিত। দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট লাঘব করতে গ্রামের ৫৬ জন যুবক মিলে পরিকল্পনা করেন বাওড়ের ওপর সেতু নির্মাণের। প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর ভাসমান অবস্থায় তৈরি করা হয়েছে।
দৈর্ঘ্য: ১০০০ ফুট। উপকরণ: সেতুটি ভাসিয়ে রাখতে ৮৩৯টি প্লাস্টিক ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠামো: লোহার এঙ্গেল ও পাত ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২০ টন এবং পাটাতনের জন্য ১৩ টন লোহার সিট ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তা: ড্রামগুলো যাতে লিক না হয় সেজন্য 'থ্রেট টেপ' দিয়ে মুখ আটকানো হয়েছে এবং দুই পাশে দড়ির রেলিং দেওয়া হয়েছে।
আগে যেখানে নৌকায় পারাপার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে নিমিষেই মানুষ হেঁটে বাওড় পার হচ্ছে। ১৬গাধা মল্লিকপুর গ্রাম থেকে আসা রুহুল আমিন নামের এক বৃদ্ধ জানান, ২০ বছর আগে মেয়েকে এখানে বিয়ে দিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতেন, আজ সেতু দিয়ে হেঁটে মেয়ের বাড়ি যেতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
খুলনার ডুমুরিয়া থেকে সপরিবারে আসা আজহারুল ইসলাম ও সালেহা বেগম বলেন, "অনলাইন পত্রিকা ও টিভিতে দেখে কৌতুহল নিয়ে এসেছি। গ্রামবাসীদের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্যোগ দেখে সত্যি অবাক হতে হয়।"

উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান জানান, সেতুটি দিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে আগে নৌকায় যেমন খরচ হতো, সেই নিয়মই বজায় রাখা হবে। মূলত এলাকার ১৫-২০ হাজার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ঘুচাতেই তারা এই স্বেচ্ছাশ্রমের কাজ হাতে নিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি কেবল চলাচলের মাধ্যম নয়, বরং দক্ষিণবঙ্গের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন