নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

শালিখায় এক বছরে ৫৮১ তালাক: সিংহভাগই দিলেন নারীরা

শালিখায় এক বছরে ৫৮১ তালাক: সিংহভাগই দিলেন নারীরা

মাগুরার শালিখা উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। গত এক বছরে উপজেলায় ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে, যার অধিকাংশ নোটিশই এসেছে নারীদের পক্ষ থেকে।

পরকীয়া, মাদকাসক্তি, ফেসবুক-টিকটক আসক্তি এবং পারিবারিক কলহকে এই বিচ্ছেদের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে। একই সময়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ১ হাজার ৪২টি। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৮টি করে সংসার ভেঙেছে।

ইউনিয়নভিত্তিক তালাকের সংখ্যা: তালখড়ি: ১৪৪টি (সর্বোচ্চ), শতখালী: ১২২টি, আড়পাড়া: ১০৪টি, শালিখা: ৭৯টি বুনাগাতী: ৬৪টি, ধনেশ্বরগাতী: ৪৪টি, গঙ্গারামপুর: ২৪টি (সর্বনিম্ন)

২০২৫ সালের তালাকের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে মাত্র ৩৮টি। অন্যদিকে, উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১৯৩টি এবং নারীদের পক্ষ থেকে ৩৪৮টি তালাক হয়েছে। পুরুষ পক্ষের তুলনায় নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের হার প্রায় ৯ গুণ বেশি। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

তালাক রেজিস্ট্রার এবং স্থানীয়দের মতে, বিচ্ছেদের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করছে: ১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার: ফেসবুক ও টিকটক আসক্তি নিয়ে দাম্পত্য কলহ। ২. পরকীয়া ও প্রবাস জীবন: স্বামীর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের সুযোগে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। ৩. মাদক ও নির্যাতন: মাদকাসক্ত স্বামীর শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে নারীদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত। ৪. ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয়: ধর্মীয় বিধি-বিধান না মানা এবং পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব।

শালিখা উপজেলা কোর্ট মসজিদের খতিব মুফতি মোশারফ হোসেন কাসেমী বলেন, "ইসলামি জ্ঞানের অভাব এবং পরকীয়া সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।" বিচ্ছেদের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্তানরা। তারা অনাদর ও অবহেলার শিকার হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক শৈশব।

শালিখা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল (অতি. দা.) জানান, তারা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক বন্ধন রক্ষায় সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শালিখায় এক বছরে ৫৮১ তালাক: সিংহভাগই দিলেন নারীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মাগুরার শালিখা উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। গত এক বছরে উপজেলায় ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে, যার অধিকাংশ নোটিশই এসেছে নারীদের পক্ষ থেকে।

পরকীয়া, মাদকাসক্তি, ফেসবুক-টিকটক আসক্তি এবং পারিবারিক কলহকে এই বিচ্ছেদের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ৫৮১টি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে। একই সময়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ১ হাজার ৪২টি। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৮টি করে সংসার ভেঙেছে।

ইউনিয়নভিত্তিক তালাকের সংখ্যা: তালখড়ি: ১৪৪টি (সর্বোচ্চ), শতখালী: ১২২টি, আড়পাড়া: ১০৪টি, শালিখা: ৭৯টি বুনাগাতী: ৬৪টি, ধনেশ্বরগাতী: ৪৪টি, গঙ্গারামপুর: ২৪টি (সর্বনিম্ন)

২০২৫ সালের তালাকের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে মাত্র ৩৮টি। অন্যদিকে, উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১৯৩টি এবং নারীদের পক্ষ থেকে ৩৪৮টি তালাক হয়েছে। পুরুষ পক্ষের তুলনায় নারীদের পক্ষ থেকে তালাকের হার প্রায় ৯ গুণ বেশি। তালাকপ্রাপ্ত নারীদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

তালাক রেজিস্ট্রার এবং স্থানীয়দের মতে, বিচ্ছেদের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করছে: ১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার: ফেসবুক ও টিকটক আসক্তি নিয়ে দাম্পত্য কলহ। ২. পরকীয়া ও প্রবাস জীবন: স্বামীর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের সুযোগে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। ৩. মাদক ও নির্যাতন: মাদকাসক্ত স্বামীর শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে নারীদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত। ৪. ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয়: ধর্মীয় বিধি-বিধান না মানা এবং পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব।

শালিখা উপজেলা কোর্ট মসজিদের খতিব মুফতি মোশারফ হোসেন কাসেমী বলেন, "ইসলামি জ্ঞানের অভাব এবং পরকীয়া সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।" বিচ্ছেদের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্তানরা। তারা অনাদর ও অবহেলার শিকার হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক শৈশব।

শালিখা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল (অতি. দা.) জানান, তারা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক বন্ধন রক্ষায় সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত