খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী এবং সুন্দরবন সংলগ্ন হওয়ায় এলাকাটি বরাবরই অপরাধপ্রবণ। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অপরাধীদের দাপট আরও বেড়েছে।
এলাকায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা, হত্যা মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমেই তালিকাভুক্ত অপরাধীরা এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন, চিহ্নিত অপরাধী ও রাজনৈতিক ক্যাডাররা যদি এখনো সক্রিয় থাকে, তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে?
অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসী তার সহযোগীদের নিয়ে পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নে আস্তানা গেড়েছে। স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ নাজমুল হুদা মিন্টুর নেতৃত্বে সেখানে একটি ‘সেফ জোন’ তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি, চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি এবং সেনাসদস্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে এই মিন্টুর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, মিন্টুর সাথে পাইকগাছা থানা পুলিশের গভীর সখ্যতা রয়েছে, যার ফলে অস্ত্র মামলার আসামিরাও সেখানে নিরাপদে অবস্থান করছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম অনাগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো অভিযোগ দিতে গেলে ওসি অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দাবি করেন, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান নির্দেশনার পরিপন্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, “পুলিশকে তথ্য দিলেও তারা গুরুত্ব দেয় না, উল্টো তথ্যদাতাকেই হয়রানির শিকার হতে হয়।”
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাঁদখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চললেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অপরাধী আটক হলেও ওসি তাদের গ্রহণে অনাগ্রহ দেখান বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের আগে পুলিশি সোর্স মারফত অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যায়, যার ফলে কয়েক দফায় অপরাধীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সেনাবাহিনীকে তথ্য দেওয়ার অপরাধে চাঁদখালী বাজারে এক ব্যক্তিকে মাটি ব্যবসায়ীরা নির্মমভাবে মারধর করে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ উল্টো ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করে বলে, “তুমি চাঁদাবাজি করেছ, তাই মার খেয়েছ।” পরে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক মাটি ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে, যা পুলিশের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি এবং পুলিশের নির্লিপ্ততা আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী এবং সুন্দরবন সংলগ্ন হওয়ায় এলাকাটি বরাবরই অপরাধপ্রবণ। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অপরাধীদের দাপট আরও বেড়েছে।
এলাকায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা, হত্যা মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমেই তালিকাভুক্ত অপরাধীরা এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন, চিহ্নিত অপরাধী ও রাজনৈতিক ক্যাডাররা যদি এখনো সক্রিয় থাকে, তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে?
অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসী তার সহযোগীদের নিয়ে পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নে আস্তানা গেড়েছে। স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ নাজমুল হুদা মিন্টুর নেতৃত্বে সেখানে একটি ‘সেফ জোন’ তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি, চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি এবং সেনাসদস্যের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে এই মিন্টুর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, মিন্টুর সাথে পাইকগাছা থানা পুলিশের গভীর সখ্যতা রয়েছে, যার ফলে অস্ত্র মামলার আসামিরাও সেখানে নিরাপদে অবস্থান করছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম অনাগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো অভিযোগ দিতে গেলে ওসি অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দাবি করেন, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান নির্দেশনার পরিপন্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, “পুলিশকে তথ্য দিলেও তারা গুরুত্ব দেয় না, উল্টো তথ্যদাতাকেই হয়রানির শিকার হতে হয়।”
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাঁদখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চললেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অপরাধী আটক হলেও ওসি তাদের গ্রহণে অনাগ্রহ দেখান বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের আগে পুলিশি সোর্স মারফত অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যায়, যার ফলে কয়েক দফায় অপরাধীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সেনাবাহিনীকে তথ্য দেওয়ার অপরাধে চাঁদখালী বাজারে এক ব্যক্তিকে মাটি ব্যবসায়ীরা নির্মমভাবে মারধর করে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ উল্টো ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করে বলে, “তুমি চাঁদাবাজি করেছ, তাই মার খেয়েছ।” পরে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক মাটি ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে, যা পুলিশের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি এবং পুলিশের নির্লিপ্ততা আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন