নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে ডুমুরিয়ায় পানি কমিটির সভা

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে ডুমুরিয়ায় পানি কমিটির সভা

দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা (SRBM) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলা পানি কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'উত্তরণ'-এর সহযোগিতায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলা শেখ আব্দুল মজিদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী খান। প্রধান অতিথি: মনোজ কান্তি রায়।সঞ্চালনা: উত্তরণ প্রতিনিধি দিলীপ কুমার সানা।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক হাসেম আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, সহ-সভাপতি জি এম আমানুল্লাহ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহসহ পানি কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের প্রায় ৪০ বছরের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসা মূল বিষয়গুলো হলো:

২৫, ২৭ ও ২৮ নং পোল্ডারের অন্তর্গত প্রায় ২৭,০০০ হেক্টর এলাকা দীর্ঘকাল ধরে জলাবদ্ধ। যার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ।

ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, গুটুদিয়া ও ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মানুষ এই বিপর্যয়ের শিকার।

চাষাবাদ বন্ধ হওয়ায় এবং এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মানুষ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সভায় বিল ডাকাতিয়ার নদী ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়: ১. নদী বিচ্ছন্নকরণ: ১৯৬০-এর দশকে হামকুড়া ও আপার শৈলমারী নদীতে স্লুইসগেট নির্মাণের মাধ্যমে প্লাবন ভূমি থেকে নদীকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা নদী ভরাটের মূল কারণ। ২. জনগণের উদ্যোগ (১৯৯১): সরকারি প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ ১৯৯১ সালে বাঁধ কেটে জোয়ার-ভাটা চালু করলেও পরিকল্পনার অভাবে তা ১৯৯৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩. কেজেডিআরপি-র ব্যর্থতা: আপার শৈলমারী নদী বন্ধ করে ১০ ভেন্ট স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলেও হামকুড়া অববাহিকার সংকট কাটেনি।

পানি কমিটির পক্ষ থেকে হামকুড়া অববাহিকার মধুগ্রাম অথবা মাধবক্যাট বিলে অবিলম্বে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি (TRM) চালুর জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিপূর্বে এই পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে ডুমুরিয়ায় পানি কমিটির সভা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা (SRBM) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলা পানি কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'উত্তরণ'-এর সহযোগিতায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলা শেখ আব্দুল মজিদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী খান। প্রধান অতিথি: মনোজ কান্তি রায়।সঞ্চালনা: উত্তরণ প্রতিনিধি দিলীপ কুমার সানা।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক হাসেম আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, সহ-সভাপতি জি এম আমানুল্লাহ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহসহ পানি কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের প্রায় ৪০ বছরের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসা মূল বিষয়গুলো হলো:

২৫, ২৭ ও ২৮ নং পোল্ডারের অন্তর্গত প্রায় ২৭,০০০ হেক্টর এলাকা দীর্ঘকাল ধরে জলাবদ্ধ। যার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ।

ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, গুটুদিয়া ও ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মানুষ এই বিপর্যয়ের শিকার।

চাষাবাদ বন্ধ হওয়ায় এবং এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মানুষ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সভায় বিল ডাকাতিয়ার নদী ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়: ১. নদী বিচ্ছন্নকরণ: ১৯৬০-এর দশকে হামকুড়া ও আপার শৈলমারী নদীতে স্লুইসগেট নির্মাণের মাধ্যমে প্লাবন ভূমি থেকে নদীকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা নদী ভরাটের মূল কারণ। ২. জনগণের উদ্যোগ (১৯৯১): সরকারি প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ ১৯৯১ সালে বাঁধ কেটে জোয়ার-ভাটা চালু করলেও পরিকল্পনার অভাবে তা ১৯৯৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩. কেজেডিআরপি-র ব্যর্থতা: আপার শৈলমারী নদী বন্ধ করে ১০ ভেন্ট স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলেও হামকুড়া অববাহিকার সংকট কাটেনি।

পানি কমিটির পক্ষ থেকে হামকুড়া অববাহিকার মধুগ্রাম অথবা মাধবক্যাট বিলে অবিলম্বে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি (TRM) চালুর জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইতিপূর্বে এই পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত