নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

পাইকগাছায় পতীত আওয়ামীলীগ ও সন্ত্রাসীদের অবাধ চলাফেরা, নিশ্চুপ পাইকগাছা থানা পুলিশ

পাইকগাছায় পতীত আওয়ামীলীগ ও সন্ত্রাসীদের অবাধ চলাফেরা, নিশ্চুপ পাইকগাছা থানা পুলিশ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা খুলনা সদর থেকে দূরে ও সুন্দরবন সংলগ্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলে অপরাধপ্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ৫ আগস্টের পরেও এলাকায় আওয়ামীলীগের পদধারী নেতা, দোসর, হত্যা মামলার আসামিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে থানা পুলিশের তৎপরতা না থাকায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করেই এসব অপরাধী বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই বলছেন, এলাকায় এখনো যদি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় থাকে, তাহলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু হবে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বেড়েছে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা: এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আগমন বেড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীরা ৫ আগস্টের পর চাঁদখালী ইউনিয়নে এসে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজ "মিন্টুর" নেতৃত্ব চাঁদখালীতে ‘সেফ জোন’ তৈরি করেছে। চাঁদখালীতে ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি, চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি এবং সেনাসদস্যর সম্পত্তি দখলের জেরে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছিলো নাজমুল হুদা মিন্টুর বিরুদ্ধে। জানা যায় এই মিন্টুর নেতৃত্বে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সহ অস্ত্র মামলার আসামিরাও সেভ জন তৈরি করেছে‌। থানাপুলিশের সাথে মিন্টুর গভীর সম্পর্ক হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সে কারনে পুলিশের নজরদারিতে থাকার পরও তাদের গ্রেপ্তারে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “অপরাধের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ গ্রহণ বা আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চান। যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্তে গিয়ে ওসি গোলাম কিবরিয়ার দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহের বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে। অবৈধ মাটি কাটায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাঃচলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সপ্তাহে চাঁদখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে পুলিশকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও ওসি গোলাম কিবরিয়া ওই আসামি গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, অভিযানের আগে পুলিশের মাধ্যমে অপরাধীরা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যায়—এমন অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রথম দুই দফা অভিযানে যৌথ বাহিনী ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যায়। পরে মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তথ্যদাতাদের ওপর হামলা, পুলিশের নিরবতা:মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে চাঁদখালী বাজারে একাধিকবার তথ্যদাতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীকে তথ্য দেওয়ার কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা এক ব্যক্তিকে মারধর করে আহত করে।পরে থানায় জানালে পুলিশ থেকে বলা হয়, “তুমি চাঁদাবাজি করেছো, তাই মার খেয়েছো।যথাযথ প্রমাণ থাকার পরেও পুলিশ মামলা নেই নি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে এক মাটি ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে।পুলিশের নিরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা: সংশ্লিষ্ট সব ঘটনায় থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং ওসি গোলাম কিবরিয়ার নীরবতা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা:আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাইকগাছা থানা পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে নির্বাচন কীভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পাইকগাছায় পতীত আওয়ামীলীগ ও সন্ত্রাসীদের অবাধ চলাফেরা, নিশ্চুপ পাইকগাছা থানা পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা খুলনা সদর থেকে দূরে ও সুন্দরবন সংলগ্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলে অপরাধপ্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ৫ আগস্টের পরেও এলাকায় আওয়ামীলীগের পদধারী নেতা, দোসর, হত্যা মামলার আসামিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে থানা পুলিশের তৎপরতা না থাকায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করেই এসব অপরাধী বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই বলছেন, এলাকায় এখনো যদি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় থাকে, তাহলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু হবে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বেড়েছে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা: এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আগমন বেড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীরা ৫ আগস্টের পর চাঁদখালী ইউনিয়নে এসে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজ "মিন্টুর" নেতৃত্ব চাঁদখালীতে ‘সেফ জোন’ তৈরি করেছে। চাঁদখালীতে ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি, চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি এবং সেনাসদস্যর সম্পত্তি দখলের জেরে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছিলো নাজমুল হুদা মিন্টুর বিরুদ্ধে। জানা যায় এই মিন্টুর নেতৃত্বে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সহ অস্ত্র মামলার আসামিরাও সেভ জন তৈরি করেছে‌। থানাপুলিশের সাথে মিন্টুর গভীর সম্পর্ক হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সে কারনে পুলিশের নজরদারিতে থাকার পরও তাদের গ্রেপ্তারে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “অপরাধের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ গ্রহণ বা আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চান। যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্তে গিয়ে ওসি গোলাম কিবরিয়ার দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহের বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে। অবৈধ মাটি কাটায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাঃচলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক সপ্তাহে চাঁদখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে পুলিশকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও ওসি গোলাম কিবরিয়া ওই আসামি গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, অভিযানের আগে পুলিশের মাধ্যমে অপরাধীরা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যায়—এমন অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রথম দুই দফা অভিযানে যৌথ বাহিনী ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অপরাধীরা পালিয়ে যায়। পরে মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তথ্যদাতাদের ওপর হামলা, পুলিশের নিরবতা:মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে চাঁদখালী বাজারে একাধিকবার তথ্যদাতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীকে তথ্য দেওয়ার কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা এক ব্যক্তিকে মারধর করে আহত করে।পরে থানায় জানালে পুলিশ থেকে বলা হয়, “তুমি চাঁদাবাজি করেছো, তাই মার খেয়েছো।যথাযথ প্রমাণ থাকার পরেও পুলিশ মামলা নেই নি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে এক মাটি ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে।পুলিশের নিরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা: সংশ্লিষ্ট সব ঘটনায় থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং ওসি গোলাম কিবরিয়ার নীরবতা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এমন ভূমিকার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা:আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাইকগাছা থানা পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে নির্বাচন কীভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত