নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালীর নিঝুমদ্বীপে পুকুরে মিলল ‘রুপালি ইলিশ’

নোয়াখালীর নিঝুমদ্বীপে পুকুরে মিলল ‘রুপালি ইলিশ’

নোনা পানির রুপালি ইলিশ সাধারণত নদী কিংবা সাগরেই দেখা যায়। তবে এবার নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে একটি পুকুরে জালের টানে উঠে এসেছে আধাকেজি ওজনের একটি তাজা ইলিশ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ‘আগমনী কিল্লা’ গুচ্ছ গ্রামের একটি সাধারণ পুকুরে মাছটি ধরা পড়ে।

জানা গেছে, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ‘আগমনী কিল্লা’ গুচ্ছ গ্রামের পুকুরটি প্রায় ৪০টি পরিবার ব্যবহার করে। পুকুরটি স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন। সোমবার সকালে পুকুরে জাল ফেলা হলে অন্যান্য মাছের সঙ্গে প্রায় আধাকেজি ওজনের একটি রুপালি ইলিশ ধরা পড়ে। এর আগেও একই পুকুরে একাধিকবার ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান হৃদয় আমাদেরকে বলেন, ২০২২ সালে প্রথম দফায় এই পুকুরে ৩৫টি ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আবারও ইলিশ ধরা পড়ে। ২০২৪ সালে প্রথম ধাপে প্রায় ১০ কেজি ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। আজ একটি ইলিশ পাওয়া গেলেও পুকুরে সেচ দিলে আরও ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। পুকুরের লিজগ্রহীতা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান আমাদেরকে বলেন, আগমনী কিল্লা গুচ্ছ গ্রামের পুকুরটি প্রায় ৪০টি পরিবার ব্যবহার করে। সোমবার পুরো পুকুরে জেলেদের দিয়ে জাল ফেলা হলে অন্যান্য মাছের সঙ্গে একটি আধাকেজি ওজনের ইলিশ ধরা পড়ে। প্রতি বছর জাল অথবা সেচ দিলে এই পুকুরে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন আমাদেরকে বলেন, প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় নিঝুমদ্বীপের প্রায় সব পুকুরই প্লাবিত হয়। আগমনী কিল্লা পুকুরটিও এর ব্যতিক্রম নয়। জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশ পুকুরে প্রবেশ করে এবং পানি বের হতে না পারায় মাছগুলো সেখানে থেকে যায় ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ আমাদেরকে বলেন, পুকুরে ইলিশ চাষ হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। মূলত জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশ পুকুরে প্রবেশ করেছে। নিঝুমদ্বীপ নিম্নাঞ্চল হওয়ায় জোয়ারে প্লাবিত হয় এবং সে সময় ইলিশ পুকুরে ঢুকে পড়ে। এর বাইরে আলাদা কোনো কারণ নেই। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান আমাদেরকে বলেন, হাতিয়ার এমন কয়েকটি পুকুর পরিদর্শন করেছি যেখানে ইলিশ পাওয়া গেছে- আগমনী কিল্লা পুকুর তার মধ্যে একটি। বর্তমানে আমরা গবেষণা করছি কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে ইলিশ চাষ করা সম্ভব। জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনের কারণে ইলিশ তার আবাসস্থল পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এবং নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নোয়াখালীর নিঝুমদ্বীপে পুকুরে মিলল ‘রুপালি ইলিশ’

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নোনা পানির রুপালি ইলিশ সাধারণত নদী কিংবা সাগরেই দেখা যায়। তবে এবার নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে একটি পুকুরে জালের টানে উঠে এসেছে আধাকেজি ওজনের একটি তাজা ইলিশ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ‘আগমনী কিল্লা’ গুচ্ছ গ্রামের একটি সাধারণ পুকুরে মাছটি ধরা পড়ে।

জানা গেছে, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ‘আগমনী কিল্লা’ গুচ্ছ গ্রামের পুকুরটি প্রায় ৪০টি পরিবার ব্যবহার করে। পুকুরটি স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন। সোমবার সকালে পুকুরে জাল ফেলা হলে অন্যান্য মাছের সঙ্গে প্রায় আধাকেজি ওজনের একটি রুপালি ইলিশ ধরা পড়ে। এর আগেও একই পুকুরে একাধিকবার ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান হৃদয় আমাদেরকে বলেন, ২০২২ সালে প্রথম দফায় এই পুকুরে ৩৫টি ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আবারও ইলিশ ধরা পড়ে। ২০২৪ সালে প্রথম ধাপে প্রায় ১০ কেজি ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। আজ একটি ইলিশ পাওয়া গেলেও পুকুরে সেচ দিলে আরও ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। পুকুরের লিজগ্রহীতা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান আমাদেরকে বলেন, আগমনী কিল্লা গুচ্ছ গ্রামের পুকুরটি প্রায় ৪০টি পরিবার ব্যবহার করে। সোমবার পুরো পুকুরে জেলেদের দিয়ে জাল ফেলা হলে অন্যান্য মাছের সঙ্গে একটি আধাকেজি ওজনের ইলিশ ধরা পড়ে। প্রতি বছর জাল অথবা সেচ দিলে এই পুকুরে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন আমাদেরকে বলেন, প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় নিঝুমদ্বীপের প্রায় সব পুকুরই প্লাবিত হয়। আগমনী কিল্লা পুকুরটিও এর ব্যতিক্রম নয়। জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশ পুকুরে প্রবেশ করে এবং পানি বের হতে না পারায় মাছগুলো সেখানে থেকে যায় ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ আমাদেরকে বলেন, পুকুরে ইলিশ চাষ হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। মূলত জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশ পুকুরে প্রবেশ করেছে। নিঝুমদ্বীপ নিম্নাঞ্চল হওয়ায় জোয়ারে প্লাবিত হয় এবং সে সময় ইলিশ পুকুরে ঢুকে পড়ে। এর বাইরে আলাদা কোনো কারণ নেই। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান আমাদেরকে বলেন, হাতিয়ার এমন কয়েকটি পুকুর পরিদর্শন করেছি যেখানে ইলিশ পাওয়া গেছে- আগমনী কিল্লা পুকুর তার মধ্যে একটি। বর্তমানে আমরা গবেষণা করছি কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে ইলিশ চাষ করা সম্ভব। জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনের কারণে ইলিশ তার আবাসস্থল পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এবং নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত