নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

খুলনায় জয়িতাদের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ১৭৭৫ জন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীর জীবন

খুলনায় জয়িতাদের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ১৭৭৫ জন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীর জীবন

এক সময় যারা ছিলেন পরিবারের বোঝা, সমাজের চোখে অবহেলিত— আজ তারাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। পোলিওতে পা হারানো টফি খাতুন কিংবা নির্যাতনের বিভীষিকা জয় করা রিখা কর্মকার ও শাহানারা বেগমরা এখন আর অসহায় নন।

তাদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প আজ বিদেশের বাজারে সমাদৃত। খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এই বদলে যাওয়ার নেপথ্যে কাজ করছে এক অনন্য সামাজিক উদ্যোগ।

যশোরের শিমুলিয়া গ্রামের টফি খাতুন (৩০) জন্মের এক বছর পর পোলিও টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পঙ্গু হয়ে যান। দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি এখন স্বাবলম্বী। খেজুর পাতা ও খড় দিয়ে তৈরি তার নান্দনিক হস্তশিল্প বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। একইভাবে বাগেরহাটের রিখা কর্মকার ও চুয়াডাঙ্গার শাহানারা বেগম তাদের অদম্য সাহসে অর্জন করেছেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’ পদক।

এক দশক আগেও যেসব প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা সরকারি অফিসের ঠিকানা জানতেন না, আজ তারা সেখানে সম্মানের সাথে সমাদৃত।

বর্তমানে তারা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান চেয়ার এগিয়ে দেন, ইউএনও পাশে বসিয়ে কথা বলেন এবং জেলা প্রশাসকের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান।

বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা বিধবা ভাতার আবেদনের জন্য এখন তাদের আর অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। তারা নিজের কাজ সেরে উল্টো অন্যদেরও সহযোগিতা করছেন।

খুলনা অঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নের (কার্পাসডাঙ্গা, শিমুলিয়া ও চাঁদপাই) ১ হাজার ৭৭৫ জন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীর উন্নয়নে ২০১৬ সাল থেকে নিরলস কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ-এর এসডিডিবি (SDDB) প্রকল্প।

প্রকল্পের মূল সাফল্যসমূহ: ১. অধিকার সচেতনতা: চ্যারিটি বা অনুদান নির্ভরতার বদলে তাদের আইনি অধিকার আদায়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। ২. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দর্জি প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি পালন এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে তাদের আয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩. প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: ২৪টি ওয়ার্ডে ২৪টি ক্লাব ও ৩টি প্রতিবন্ধী নারী ফোরাম গঠন করা হয়েছে, যা সরকারি নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

কারিতাস বাংলাদেশ-এর আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ বলেন, "প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী আমাদের বোঝা নয়, বরং অভিজ্ঞতার সম্ভার। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার। আমরা তাদের রাইট-বেসড (অধিকারভিত্তিক) কার্যক্রমে অভ্যস্ত করেছি যেন সংস্থা না থাকলেও তারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে।"

রিজিনাল মনিটর স্নিগ্ধা মৌ ঘোষ জানান, বর্তমানে এই জনগোষ্ঠীর ৮০% সদস্য সুবর্ণ নাগরিক কার্ড ও ভাতার আওতায় এসেছেন। তাদের এখন মূলধারার সমাজে পূর্ণ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

টফি খাতুন বা রিখা কর্মকারদের জীবনের গল্পটা অনেক কষ্টের হলেও বর্তমান চিত্রটি অনেক বেশি আশার। তারা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ ও সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়। সমাজের মূল স্রোতে মিশে আজ তারা সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


খুলনায় জয়িতাদের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ১৭৭৫ জন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীর জীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

এক সময় যারা ছিলেন পরিবারের বোঝা, সমাজের চোখে অবহেলিত— আজ তারাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। পোলিওতে পা হারানো টফি খাতুন কিংবা নির্যাতনের বিভীষিকা জয় করা রিখা কর্মকার ও শাহানারা বেগমরা এখন আর অসহায় নন।

তাদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প আজ বিদেশের বাজারে সমাদৃত। খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এই বদলে যাওয়ার নেপথ্যে কাজ করছে এক অনন্য সামাজিক উদ্যোগ।

যশোরের শিমুলিয়া গ্রামের টফি খাতুন (৩০) জন্মের এক বছর পর পোলিও টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পঙ্গু হয়ে যান। দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি এখন স্বাবলম্বী। খেজুর পাতা ও খড় দিয়ে তৈরি তার নান্দনিক হস্তশিল্প বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। একইভাবে বাগেরহাটের রিখা কর্মকার ও চুয়াডাঙ্গার শাহানারা বেগম তাদের অদম্য সাহসে অর্জন করেছেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’ পদক।

এক দশক আগেও যেসব প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা সরকারি অফিসের ঠিকানা জানতেন না, আজ তারা সেখানে সম্মানের সাথে সমাদৃত।

বর্তমানে তারা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান চেয়ার এগিয়ে দেন, ইউএনও পাশে বসিয়ে কথা বলেন এবং জেলা প্রশাসকের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান।

বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা বিধবা ভাতার আবেদনের জন্য এখন তাদের আর অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। তারা নিজের কাজ সেরে উল্টো অন্যদেরও সহযোগিতা করছেন।

খুলনা অঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নের (কার্পাসডাঙ্গা, শিমুলিয়া ও চাঁদপাই) ১ হাজার ৭৭৫ জন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীর উন্নয়নে ২০১৬ সাল থেকে নিরলস কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ-এর এসডিডিবি (SDDB) প্রকল্প।

প্রকল্পের মূল সাফল্যসমূহ: ১. অধিকার সচেতনতা: চ্যারিটি বা অনুদান নির্ভরতার বদলে তাদের আইনি অধিকার আদায়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। ২. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দর্জি প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি পালন এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে তাদের আয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩. প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: ২৪টি ওয়ার্ডে ২৪টি ক্লাব ও ৩টি প্রতিবন্ধী নারী ফোরাম গঠন করা হয়েছে, যা সরকারি নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

কারিতাস বাংলাদেশ-এর আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ বলেন, "প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী আমাদের বোঝা নয়, বরং অভিজ্ঞতার সম্ভার। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার। আমরা তাদের রাইট-বেসড (অধিকারভিত্তিক) কার্যক্রমে অভ্যস্ত করেছি যেন সংস্থা না থাকলেও তারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে।"

রিজিনাল মনিটর স্নিগ্ধা মৌ ঘোষ জানান, বর্তমানে এই জনগোষ্ঠীর ৮০% সদস্য সুবর্ণ নাগরিক কার্ড ও ভাতার আওতায় এসেছেন। তাদের এখন মূলধারার সমাজে পূর্ণ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

টফি খাতুন বা রিখা কর্মকারদের জীবনের গল্পটা অনেক কষ্টের হলেও বর্তমান চিত্রটি অনেক বেশি আশার। তারা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ ও সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়। সমাজের মূল স্রোতে মিশে আজ তারা সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত