জমিতে বসা এই পাখিরা ক্ষতিকারক পোকা, পোকার বাচ্চা ও ডিম খেয়ে ফেলে। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের এই সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিই হলো পার্চিং।
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসম্মত ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বোরো ধান ক্ষেতে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে কৃষকরা এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পার্চিংয়ের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে নিশ্চিত হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন।
‘পার্চিং’ একটি ইংরেজি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ ‘পাখির বসা’। ফসলের জমিতে গাছের ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের খুঁটি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়। জমিতে বসা এই পাখিরা ক্ষতিকারক পোকা, পোকার বাচ্চা ও ডিম খেয়ে ফেলে। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের এই সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিই হলো পার্চিং।
ডুমুরিয়া উপজেলার বোরো চাষিরা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছেন। এর ফলে জমিতে বাড়তি কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ছে না, যা কৃষকের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় প্রায় ২১,৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বড় একটি অংশজুড়ে এই পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
[caption id="attachment_21479" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি ডট কম[/caption]
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদার নির্দেশনায় টিপনা ও গুটুদিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) সজল হাওলাদার ও নুরুন্নাহার নুরসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছেন। এ প্রসঙ্গে এসএপিপিও (SAPPO) আলী হাসান জানান, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে পার্চিং প্রযুক্তিকে আরও বাস্তবমুখী ও ঝামেলামুক্ত করতে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাজমুল হুদা জানান, "আমরা কৃষকদের নিরাপদ ও বিষমুক্ত ধান উৎপাদনে উৎসাহিত করছি। পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। কৃষকদের অভূতপূর্ব সাড়া আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।"

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জমিতে বসা এই পাখিরা ক্ষতিকারক পোকা, পোকার বাচ্চা ও ডিম খেয়ে ফেলে। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের এই সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিই হলো পার্চিং।
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্বাস্থ্যসম্মত ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বোরো ধান ক্ষেতে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে কৃষকরা এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পার্চিংয়ের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে নিশ্চিত হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন।
‘পার্চিং’ একটি ইংরেজি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ ‘পাখির বসা’। ফসলের জমিতে গাছের ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের খুঁটি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়। জমিতে বসা এই পাখিরা ক্ষতিকারক পোকা, পোকার বাচ্চা ও ডিম খেয়ে ফেলে। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের এই সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিই হলো পার্চিং।
ডুমুরিয়া উপজেলার বোরো চাষিরা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছেন। এর ফলে জমিতে বাড়তি কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ছে না, যা কৃষকের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় প্রায় ২১,৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বড় একটি অংশজুড়ে এই পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
[caption id="attachment_21479" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি ডট কম[/caption]
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদার নির্দেশনায় টিপনা ও গুটুদিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) সজল হাওলাদার ও নুরুন্নাহার নুরসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছেন। এ প্রসঙ্গে এসএপিপিও (SAPPO) আলী হাসান জানান, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে পার্চিং প্রযুক্তিকে আরও বাস্তবমুখী ও ঝামেলামুক্ত করতে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাজমুল হুদা জানান, "আমরা কৃষকদের নিরাপদ ও বিষমুক্ত ধান উৎপাদনে উৎসাহিত করছি। পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। কৃষকদের অভূতপূর্ব সাড়া আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।"

আপনার মতামত লিখুন