শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গেছে। এই আসনে এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জয় হয়েছে বলে আলোচনা ছড়িয়েছে।
বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘আওয়ামী দুর্গে বিএনপির হানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এই জয়ের মাঝেও একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে—দলের অনেক প্রভাবশালী নেতার নিজস্ব ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের ভরাডুবি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক নারী ভোটার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচনী ফলাফল শিটে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভালোবাসা ও আস্থার জায়গা থেকেই এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কেন এই পরিবর্তন? এই অপ্রত্যাশিত জয়ের নেপথ্য কারণ খুঁজতে কথা হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজের সাথে। তিনি বলেন এখানে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই বাঙালি। হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই হিসেবে আমরা সুখে-দুখে মিশে থাকতে চাই। আমাদের আচরণ ও আশ্বাসে তারা আস্থাশীল হয়েছেন এবং ভোটের মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।"
সনাতনীদের এই সমর্থন আদায়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের জেলা আহ্বায়ক শিক্ষক নিত্যানন্দ মন্ডল। তিনি জানান, দীর্ঘ দিন ধরে সনাতনী সমাবেশ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং মতুয়া মহাসমাবেশের মাধ্যমে হিন্দুদের সংগঠিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে বান্দা কলেজিয়েট স্কুল মাঠে আয়োজিত মতুয়া মহাসমাবেশে ওড়াকান্দি শ্রীধামের মতুয়্যাচার্য্য শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মূলত এই আহ্বানের পরই সনাতনীদের মাঝে আস্থার জায়গা তৈরি হয় এবং তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন।
বিজয় এলেও প্রভাবশালী নেতাদের নিজস্ব কেন্দ্রে পরাজয় নিয়ে দলের ভেতর প্রশ্ন উঠেছে। তবে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মতে, অর্জিত এই আস্থা ধরে রাখতে হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুখে-দুখে বিএনপিকে আগের চেয়ে বেশি আন্তরিক হতে হবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গেছে। এই আসনে এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জয় হয়েছে বলে আলোচনা ছড়িয়েছে।
বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘আওয়ামী দুর্গে বিএনপির হানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এই জয়ের মাঝেও একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে—দলের অনেক প্রভাবশালী নেতার নিজস্ব ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের ভরাডুবি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক নারী ভোটার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচনী ফলাফল শিটে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভালোবাসা ও আস্থার জায়গা থেকেই এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কেন এই পরিবর্তন? এই অপ্রত্যাশিত জয়ের নেপথ্য কারণ খুঁজতে কথা হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজের সাথে। তিনি বলেন এখানে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই বাঙালি। হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই হিসেবে আমরা সুখে-দুখে মিশে থাকতে চাই। আমাদের আচরণ ও আশ্বাসে তারা আস্থাশীল হয়েছেন এবং ভোটের মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।"
সনাতনীদের এই সমর্থন আদায়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের জেলা আহ্বায়ক শিক্ষক নিত্যানন্দ মন্ডল। তিনি জানান, দীর্ঘ দিন ধরে সনাতনী সমাবেশ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং মতুয়া মহাসমাবেশের মাধ্যমে হিন্দুদের সংগঠিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে বান্দা কলেজিয়েট স্কুল মাঠে আয়োজিত মতুয়া মহাসমাবেশে ওড়াকান্দি শ্রীধামের মতুয়্যাচার্য্য শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মূলত এই আহ্বানের পরই সনাতনীদের মাঝে আস্থার জায়গা তৈরি হয় এবং তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন।
বিজয় এলেও প্রভাবশালী নেতাদের নিজস্ব কেন্দ্রে পরাজয় নিয়ে দলের ভেতর প্রশ্ন উঠেছে। তবে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মতে, অর্জিত এই আস্থা ধরে রাখতে হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুখে-দুখে বিএনপিকে আগের চেয়ে বেশি আন্তরিক হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন