খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজিতে লোকসান হলেও রঙিন কপির বাম্পার
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
সবুজ পাতার ভেতর উঁকি দিচ্ছে হলুদ, পিংক-বেগুনি আর নীল রঙের বাহারি সবজি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন কোনো ফুলের বাগান। কিন্তু এগুলো আসলে শীতকালীন সবজি রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির ক্ষেত।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজিতে লোকসান হলেও রঙিন কপির বাম্পার ফলন ও চড়া দামে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে রঙিন কপি। খর্নিয়া ইউনিয়নের সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল ২০ শতাংশ জমিতে প্রথমবারের মতো ১০০০টি চারা লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছেন।
যেখানে সাধারণ সাদা কপি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে রঙিন কপি ক্ষেত থেকেই পাইকারি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবু হানিফ জানান, ৭ হাজার টাকা খরচ করে ইতিমধ্যে ৫০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন এবং আরও ৬০-৭০ হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন।
[caption id="attachment_22235" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এসব সবজি চাষ করছেন। ক্ষতিকর কীটনাশকের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে:
ফেরোমন ফাঁদ: পোকা দমনের জন্য। হলুদ ট্যাপ/ফাঁদ: যা সবজিকে করছে স্বাস্থ্যকর ও বিষমুক্ত।
ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়নের মৃত্যুঞ্জয় এবং বরাতিয়া গ্রামের তাপস সরকার জানান, রঙিন কপির রোগবালাই কম এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকাররা ক্ষেত থেকেই মাল নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, এই কপি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও সুস্বাদু। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, সাধারণ কপির তুলনায় এতে ২৫ শতাংশের বেশি বেটা-ক্যারোটিন রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন এ, সি, কে এবং উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
আবাদি জমি: ডুমুরিয়ায় এ বছর ১১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ একর জমিতে রয়েছে রঙিন জাত।
ব্যয় ও আয়: ২২ শতক জমিতে ১২ হাজার টাকা খরচ করে অনেক কৃষক ৩০-৪০ হাজার টাকা লাভ করছেন।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছর ধরে এই চাষ হচ্ছে। উচ্চমূল্যের এই সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে, যা আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বিস্তৃত হবে।"

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজিতে লোকসান হলেও রঙিন কপির বাম্পার
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
সবুজ পাতার ভেতর উঁকি দিচ্ছে হলুদ, পিংক-বেগুনি আর নীল রঙের বাহারি সবজি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন কোনো ফুলের বাগান। কিন্তু এগুলো আসলে শীতকালীন সবজি রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির ক্ষেত।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন এই মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজিতে লোকসান হলেও রঙিন কপির বাম্পার ফলন ও চড়া দামে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে রঙিন কপি। খর্নিয়া ইউনিয়নের সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল ২০ শতাংশ জমিতে প্রথমবারের মতো ১০০০টি চারা লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছেন।
যেখানে সাধারণ সাদা কপি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে রঙিন কপি ক্ষেত থেকেই পাইকারি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবু হানিফ জানান, ৭ হাজার টাকা খরচ করে ইতিমধ্যে ৫০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন এবং আরও ৬০-৭০ হাজার টাকা আয়ের আশা করছেন।
[caption id="attachment_22235" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এসব সবজি চাষ করছেন। ক্ষতিকর কীটনাশকের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে:
ফেরোমন ফাঁদ: পোকা দমনের জন্য। হলুদ ট্যাপ/ফাঁদ: যা সবজিকে করছে স্বাস্থ্যকর ও বিষমুক্ত।
ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়নের মৃত্যুঞ্জয় এবং বরাতিয়া গ্রামের তাপস সরকার জানান, রঙিন কপির রোগবালাই কম এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকাররা ক্ষেত থেকেই মাল নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, এই কপি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও সুস্বাদু। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, সাধারণ কপির তুলনায় এতে ২৫ শতাংশের বেশি বেটা-ক্যারোটিন রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন এ, সি, কে এবং উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
আবাদি জমি: ডুমুরিয়ায় এ বছর ১১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ একর জমিতে রয়েছে রঙিন জাত।
ব্যয় ও আয়: ২২ শতক জমিতে ১২ হাজার টাকা খরচ করে অনেক কৃষক ৩০-৪০ হাজার টাকা লাভ করছেন।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছর ধরে এই চাষ হচ্ছে। উচ্চমূল্যের এই সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে, যা আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বিস্তৃত হবে।"

আপনার মতামত লিখুন