‘কখনো মানুষের বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাই, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে কাজ করলে কোনোমতে খাবার জোটে। কোনো দিন দুই বেলা খেতে পারলেও...
জেলা প্রতিনিধি, ভোলা
‘কখনো মানুষের বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাই, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কাজ করলে কোনোমতে খাবার জোটে। কোনো দিন দুই বেলা খেতে পারলেও আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়, আবার কোনো দিন না খেয়েই থাকতে হয়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা এভাবেই বলছিলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বৃদ্ধা জহুরা খাতুন (৭২)।
একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে ও দুই এতিম নাতনিকে নিয়ে বর্তমানে তার সংসার চলে অনাহারে-অর্ধাহারে। জহুরার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই জরাজীর্ণ টিনের ঘরটিও এখন বসবাসের অনুপযোগী।
চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জহুরার বড় ছেলে মো. মিজান। স্থানীয় বাজারে ছোট ব্যবসার আয় দিয়ে ৭ সদস্যের পরিবারটি ভালোই চলছিল। কিন্তু তিন বছর আগে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মিজানের মৃত্যুতে পরিবারটি অথৈ সাগরে পড়ে। এরপর মিজানের স্ত্রী সুরমা বেগম দুই সন্তানকে রেখে চলে গেলে বৃদ্ধা মা জহুরার কাঁধে চাপে প্রতিবন্ধী বোন ও দুই এতিম নাতনির দায়িত্ব।
বর্তমানে এই পরিবারে সদস্য চারজন: বৃদ্ধা জহুরা খাতুন, তার প্রতিবন্ধী বোন তাছলিমা (২৫), নাতনি তহমিনা (১৬) ও মুনতাহা (১২)। মিজানের বড় মেয়ে তহমিনা স্থানীয় মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। বাবার মৃত্যুর পর অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনাও এখন বন্ধের পথে।
বৃদ্ধা জহুরা আক্ষেপ করে বলেন, “টাকার অভাবে পোলাডার চিকিৎসা করাইতে পারি নাই। এহন আমাগো দুঃখ দেখার কেউই নাই। বৃষ্টি আইলে টিনের ছিদ্র দিয়া ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। আমারে কেউ একটা ভাতার কার্ডও করে দেয় নাই। সরকারের সাহায্য ছাড়া আমাগো আর চলার পথ নাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাদী হাসান ও জুয়েল জানান, পবিত্র রমজান মাসেও এই চার নারীকে খাবারের দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জহুরার অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ভাতার কার্ড পাননি তিনি। জরাজীর্ণ ঘরটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবারটির সাথে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৮৭-৭৫৩৪৭১।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘কখনো মানুষের বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাই, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে কাজ করলে কোনোমতে খাবার জোটে। কোনো দিন দুই বেলা খেতে পারলেও...
জেলা প্রতিনিধি, ভোলা
‘কখনো মানুষের বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাই, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কাজ করলে কোনোমতে খাবার জোটে। কোনো দিন দুই বেলা খেতে পারলেও আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়, আবার কোনো দিন না খেয়েই থাকতে হয়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা এভাবেই বলছিলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বৃদ্ধা জহুরা খাতুন (৭২)।
একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে ও দুই এতিম নাতনিকে নিয়ে বর্তমানে তার সংসার চলে অনাহারে-অর্ধাহারে। জহুরার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই জরাজীর্ণ টিনের ঘরটিও এখন বসবাসের অনুপযোগী।
চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জহুরার বড় ছেলে মো. মিজান। স্থানীয় বাজারে ছোট ব্যবসার আয় দিয়ে ৭ সদস্যের পরিবারটি ভালোই চলছিল। কিন্তু তিন বছর আগে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মিজানের মৃত্যুতে পরিবারটি অথৈ সাগরে পড়ে। এরপর মিজানের স্ত্রী সুরমা বেগম দুই সন্তানকে রেখে চলে গেলে বৃদ্ধা মা জহুরার কাঁধে চাপে প্রতিবন্ধী বোন ও দুই এতিম নাতনির দায়িত্ব।
বর্তমানে এই পরিবারে সদস্য চারজন: বৃদ্ধা জহুরা খাতুন, তার প্রতিবন্ধী বোন তাছলিমা (২৫), নাতনি তহমিনা (১৬) ও মুনতাহা (১২)। মিজানের বড় মেয়ে তহমিনা স্থানীয় মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। বাবার মৃত্যুর পর অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনাও এখন বন্ধের পথে।
বৃদ্ধা জহুরা আক্ষেপ করে বলেন, “টাকার অভাবে পোলাডার চিকিৎসা করাইতে পারি নাই। এহন আমাগো দুঃখ দেখার কেউই নাই। বৃষ্টি আইলে টিনের ছিদ্র দিয়া ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। আমারে কেউ একটা ভাতার কার্ডও করে দেয় নাই। সরকারের সাহায্য ছাড়া আমাগো আর চলার পথ নাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাদী হাসান ও জুয়েল জানান, পবিত্র রমজান মাসেও এই চার নারীকে খাবারের দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জহুরার অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা ভাতার কার্ড পাননি তিনি। জরাজীর্ণ ঘরটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবারটির সাথে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৮৭-৭৫৩৪৭১।

আপনার মতামত লিখুন