নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুতদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতে মুকসুদপুরে মতবিনিময়

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুতদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতে মুকসুদপুরে মতবিনিময়

গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর 

  জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতে মুকসুদপুরে মতবিনিময় সভা সুমাইয়া নূর প্রভা, স্টাফ রিপোর্টার    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের চরকলিগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণের দাবিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে এবং সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।   সভায় সভাপতিত্ব করেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ছিরু মিয়া। সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সভারজ্ঞন সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলাম এবং বানিয়াচর সেন্ট মাইকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রেমানন্দ হালদার। এছাড়া বক্তব্য দেন সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মাসুম বিল্লাহ সোহাগ, জলিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুবত মন্ডল, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সামচুল আরেফিন, হুসাইন আহম্মেদ কবির, দপ্তর সম্পাদক পরেশ বিশ্বাস, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইসমাইল হোসেন পান্নু। সভায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্বজিৎ বৈরাগী, অমৃত রায়, পলিনা বাড়ৈ, শিখা হালদার, প্রীতি দাস, কানন ঢালী, মিল্টন বৈরাগী, পূজা বিশ্বাস ও ঝরনা দাস।   বক্তারা জানান, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের চরকলিগ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার। ভাঙনে তাঁদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরবর্তীতে নদীর অপর পাড়ে জেগে ওঠা চরে এসে তাঁরা বসবাস শুরু করেন। অনেক পরিবার ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করলেও এখনো ভূমির স্থায়ী অধিকার পাননি। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, নতুন চরে বসতি স্থাপনের পর ঘর নির্মাণ, টয়লেট স্থাপন বা স্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে বাধা দেওয়া হয়। গাছ লাগানো বা বিক্রি করতেও বাধার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ দিয়ে ‘ফয়সালা’ করতে বাধ্য হন তাঁরা। কিছু ভুয়া সাংবাদিক ও নামধারী রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, নদীতে জমি হারানোর পর যে চরে তাঁরা বসতি গড়েছেন, সেটির ওপর তাঁদের স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করতে হবে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, মানবিক বিবেচনায় এবং ন্যায়সংগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভূমির অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি। সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন ও ভূমির আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুতদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতে মুকসুদপুরে মতবিনিময়

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর 

  জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ভূমির অধিকার নিশ্চিতে মুকসুদপুরে মতবিনিময় সভা সুমাইয়া নূর প্রভা, স্টাফ রিপোর্টার    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের চরকলিগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণের দাবিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে এবং সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।   সভায় সভাপতিত্ব করেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ছিরু মিয়া। সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সভারজ্ঞন সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলাম এবং বানিয়াচর সেন্ট মাইকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রেমানন্দ হালদার। এছাড়া বক্তব্য দেন সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মাসুম বিল্লাহ সোহাগ, জলিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুবত মন্ডল, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সামচুল আরেফিন, হুসাইন আহম্মেদ কবির, দপ্তর সম্পাদক পরেশ বিশ্বাস, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইসমাইল হোসেন পান্নু। সভায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্বজিৎ বৈরাগী, অমৃত রায়, পলিনা বাড়ৈ, শিখা হালদার, প্রীতি দাস, কানন ঢালী, মিল্টন বৈরাগী, পূজা বিশ্বাস ও ঝরনা দাস।   বক্তারা জানান, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের চরকলিগ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার। ভাঙনে তাঁদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরবর্তীতে নদীর অপর পাড়ে জেগে ওঠা চরে এসে তাঁরা বসবাস শুরু করেন। অনেক পরিবার ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করলেও এখনো ভূমির স্থায়ী অধিকার পাননি। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, নতুন চরে বসতি স্থাপনের পর ঘর নির্মাণ, টয়লেট স্থাপন বা স্থায়ী কাঠামো গড়ে তুলতে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে বাধা দেওয়া হয়। গাছ লাগানো বা বিক্রি করতেও বাধার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ দিয়ে ‘ফয়সালা’ করতে বাধ্য হন তাঁরা। কিছু ভুয়া সাংবাদিক ও নামধারী রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, নদীতে জমি হারানোর পর যে চরে তাঁরা বসতি গড়েছেন, সেটির ওপর তাঁদের স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করতে হবে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, মানবিক বিবেচনায় এবং ন্যায়সংগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভূমির অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি। সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন ও ভূমির আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত