উপকূলঘেঁষা এলাকা ও তালার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের চছে সাফল্য আসাত জেলায় ভোজতেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমিতে এখন হলুদ রঙের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। উপকূলঘেঁষা এই এলাকার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক সাফল্য আসায় জেলায় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। কম খরচ, স্বল্প সময় এবং সরকারি প্রণোদনার কারণে এই চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে খুলনার ৯টি উপজেলায় মোট ৪৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলাতেই আবাদ হয়েছে ১০৭ হেক্টর জমিতে। কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, এই আবাদ থেকে জেলায় যে পরিমাণ তেল উৎপাদিত হবে, তা প্রায় ২ লক্ষ মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাবে এবং সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।
[caption id="attachment_22751" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
ডুমুরিয়া উপজেলার মডেল মসজিদের সামনের মাঠে এখন বিস্তীর্ণ হলুদের আভা। কৃষক মো. জাহিদুর রহমান জানান, সূর্যমুখী চাষ অত্যন্ত লাভজনক। ফলন: প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ পাওয়া যায়।তেল উৎপাদন: প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার তেল পাওয়া সম্ভব। আয় বনাম খরচ: বর্তমানে প্রতি লিটার তেলের দাম অন্তত ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা।
লবণাক্ত জমিতে অন্য ফসল ভালো না হলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক ভালো ফলন দিচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। এছাড়া এর বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত বীজ-সার সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বাড়াতে চলতি মৌসুমে ৬০০ কৃষককে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়ার কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে সরাসরি বীজ ক্রয়ের ব্যবস্থা ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা হলে এই চাষ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উপকূলঘেঁষা এলাকা ও তালার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের চছে সাফল্য আসাত জেলায় ভোজতেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমিতে এখন হলুদ রঙের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। উপকূলঘেঁষা এই এলাকার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক সাফল্য আসায় জেলায় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। কম খরচ, স্বল্প সময় এবং সরকারি প্রণোদনার কারণে এই চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে খুলনার ৯টি উপজেলায় মোট ৪৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলাতেই আবাদ হয়েছে ১০৭ হেক্টর জমিতে। কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, এই আবাদ থেকে জেলায় যে পরিমাণ তেল উৎপাদিত হবে, তা প্রায় ২ লক্ষ মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাবে এবং সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।
[caption id="attachment_22751" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
ডুমুরিয়া উপজেলার মডেল মসজিদের সামনের মাঠে এখন বিস্তীর্ণ হলুদের আভা। কৃষক মো. জাহিদুর রহমান জানান, সূর্যমুখী চাষ অত্যন্ত লাভজনক। ফলন: প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ পাওয়া যায়।তেল উৎপাদন: প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার তেল পাওয়া সম্ভব। আয় বনাম খরচ: বর্তমানে প্রতি লিটার তেলের দাম অন্তত ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা।
লবণাক্ত জমিতে অন্য ফসল ভালো না হলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক ভালো ফলন দিচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। এছাড়া এর বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত বীজ-সার সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বাড়াতে চলতি মৌসুমে ৬০০ কৃষককে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়ার কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে সরাসরি বীজ ক্রয়ের ব্যবস্থা ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা হলে এই চাষ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন