নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা যুবক, নবম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে বিয়ে

প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা যুবক, নবম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে বিয়ে

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসেছেন এক যুবক। এরপর মায়া আক্তার নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন তিনি।


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

ভালোবাসার কোনো সীমান্ত নেই—এ কথাটিই যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসে স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারকে বিয়ে করেছেন তিনি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরি গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে মায়া আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। জানা যায়, মাসখানেক আগে জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের জংজিয়া মামুসার সাথে মায়ার পরিচয় হয়। বন্ধুত্ব থেকে দ্রুতই তা প্রেমে রূপ নেয়।

এরই মধ্যে মায়ার পরিবার অন্য জায়গায় তার বিয়ের আলাপ শুরু করলে মায়া বিষয়টি মামুসাকে জানান। ভালোবাসার টানে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ছুটে আসেন মামুসা। প্রথমে মায়ার বাবা রাজি না থাকলেও মেয়ের জেদের মুখে শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দেন।

২১ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর গত কয়েকদিন ধরে এই নবদম্পতিকে গ্রামের মেঠোপথে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। চীনা জামাই দেশীয় মাছ, মাংস ও সবজি খেয়েও বেশ তৃপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়োজনীয় আইনি ও পাসপোর্ট-ভিসার প্রক্রিয়া শেষ করে মায়াকে নিয়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মামুসা।

মায়া আক্তার বলেন, "উইচ্যাটে পরিচয়ের পর ও আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে ও সত্যি বাংলাদেশে আসবে। ও যখন এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছাল, তখন আমি অবাক হয়ে যাই। বাবার অমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি ওর সাথে চীনে চলে যাচ্ছি।"

মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, "প্রথমে আমি খুব রাগ করেছিলাম, আমার একমাত্র মেয়েকে বিদেশে দিতে চাইনি। কিন্তু মেয়ের জেদের কাছে হার মানতে হলো। ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি সব। তারা যেন সুখে থাকে এটাই দোয়া করি।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা যুবক, নবম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে বিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসেছেন এক যুবক। এরপর মায়া আক্তার নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন তিনি।


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

ভালোবাসার কোনো সীমান্ত নেই—এ কথাটিই যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসে স্কুলছাত্রী মায়া আক্তারকে বিয়ে করেছেন তিনি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরি গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে মায়া আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। জানা যায়, মাসখানেক আগে জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের জংজিয়া মামুসার সাথে মায়ার পরিচয় হয়। বন্ধুত্ব থেকে দ্রুতই তা প্রেমে রূপ নেয়।

এরই মধ্যে মায়ার পরিবার অন্য জায়গায় তার বিয়ের আলাপ শুরু করলে মায়া বিষয়টি মামুসাকে জানান। ভালোবাসার টানে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ছুটে আসেন মামুসা। প্রথমে মায়ার বাবা রাজি না থাকলেও মেয়ের জেদের মুখে শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দেন।

২১ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় কাজীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর গত কয়েকদিন ধরে এই নবদম্পতিকে গ্রামের মেঠোপথে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। চীনা জামাই দেশীয় মাছ, মাংস ও সবজি খেয়েও বেশ তৃপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়োজনীয় আইনি ও পাসপোর্ট-ভিসার প্রক্রিয়া শেষ করে মায়াকে নিয়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মামুসা।

মায়া আক্তার বলেন, "উইচ্যাটে পরিচয়ের পর ও আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে ও সত্যি বাংলাদেশে আসবে। ও যখন এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছাল, তখন আমি অবাক হয়ে যাই। বাবার অমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি ওর সাথে চীনে চলে যাচ্ছি।"

মায়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, "প্রথমে আমি খুব রাগ করেছিলাম, আমার একমাত্র মেয়েকে বিদেশে দিতে চাইনি। কিন্তু মেয়ের জেদের কাছে হার মানতে হলো। ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি সব। তারা যেন সুখে থাকে এটাই দোয়া করি।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত