নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

যমুনার করাল গ্রাস: অসময়ে ভাঙনে নিঃস্ব কয়েকশ পরিবার

যমুনার করাল গ্রাস: অসময়ে ভাঙনে নিঃস্ব কয়েকশ পরিবার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে দেখা দিয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন। ইতোমধ্যে ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা, বাড়িঘর ও ফসলি জমি


জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর 

বর্ষা মৌসুম আসার আগেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসময়ের এই ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শতশত মানুষ।

উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ী এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ৬৫ বছর বয়সী শুক্কুর আলী জানান, জীবনে সাতবার বাড়ি হারিয়েছেন তিনি। এবার অষ্টমবারের মতো ভাঙনের মুখে পড়ে রোজা মুখে নিয়েই শেষ আশ্রয়টুকু সরিয়ে নিচ্ছেন। শুক্কুর আলীর মতো গত কয়েক দিনে শতাধিক বাসিন্দা তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম জানান, দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ এরই মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। এর ফলে শুধু দেওয়ানগঞ্জ নয়, গাইবান্ধা ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গৃহিণী নাজমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া বা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে অনেকে আশ্বাস দিলেও এখন বিপদের সময় কাউকে পাশে পাচ্ছি না।"

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হতে পারে: চারটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বড় জামে মসজিদ। কয়েকশ বসতবাড়ি ও কয়েক বিঘা ফসলি জমি (ভুট্টা, মরিচ ও অন্যান্য রবিশস্য)।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, যমুনার বাম তীরে হঠাৎ চর জেগে ওঠায় স্রোতের গতিপথ বদলে ডান তীরের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "বিগত বন্যায় আমরা ১৫৭ মিটার এলাকায় কাজ করেছি। বর্তমানে নতুন করে ২২০ মিটার অংশে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


যমুনার করাল গ্রাস: অসময়ে ভাঙনে নিঃস্ব কয়েকশ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে দেখা দিয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন। ইতোমধ্যে ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা, বাড়িঘর ও ফসলি জমি


জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর 

বর্ষা মৌসুম আসার আগেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসময়ের এই ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শতশত মানুষ।

উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ী এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ৬৫ বছর বয়সী শুক্কুর আলী জানান, জীবনে সাতবার বাড়ি হারিয়েছেন তিনি। এবার অষ্টমবারের মতো ভাঙনের মুখে পড়ে রোজা মুখে নিয়েই শেষ আশ্রয়টুকু সরিয়ে নিচ্ছেন। শুক্কুর আলীর মতো গত কয়েক দিনে শতাধিক বাসিন্দা তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম জানান, দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ এরই মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। এর ফলে শুধু দেওয়ানগঞ্জ নয়, গাইবান্ধা ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গৃহিণী নাজমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া বা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে অনেকে আশ্বাস দিলেও এখন বিপদের সময় কাউকে পাশে পাচ্ছি না।"

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হতে পারে: চারটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বড় জামে মসজিদ। কয়েকশ বসতবাড়ি ও কয়েক বিঘা ফসলি জমি (ভুট্টা, মরিচ ও অন্যান্য রবিশস্য)।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, যমুনার বাম তীরে হঠাৎ চর জেগে ওঠায় স্রোতের গতিপথ বদলে ডান তীরের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "বিগত বন্যায় আমরা ১৫৭ মিটার এলাকায় কাজ করেছি। বর্তমানে নতুন করে ২২০ মিটার অংশে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত