নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

আখনি পোলাওয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা ক্রেতারা

আখনি পোলাওয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা ক্রেতারা

মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের ইফতারে অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো আখনি পোলাও। এই অঞ্চলের মানুষেরা নিজ বাড়িতে আখনি তৈরির পাশাপাশি রোজা মাসে বড় হাঁড়ির আখনি খাবারের স্বাদ নিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসেন


জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

সিলেট অঞ্চলের ইফতার মানেই বড় হাঁড়ির গরমে ভাপ ওঠা সুগন্ধি ‘আখনি পোলাও’। রোজা শুরুর সাথে সাথেই মৌলভীবাজারের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও রেস্তোরাঁয় এখন আখনির ম-ম ঘ্রাণ। যুগ যুগ ধরে সিলেটের ইফতার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা এই খাবারটি কিনতে প্রতিদিন ইফতার বাজারগুলোতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

সুগন্ধি চাল, গাওয়া ঘি, গরম মশলা এবং গরু বা মুরগির মাংসের সমন্বয়ে তৈরি হয় এই মুখরোচক খাবার। দেখতে তেহারির মতো মনে হলেও স্বাদ ও রান্নার বিশেষ পদ্ধতিতে এটি অনন্য। মুঘল আমলের বাবুর্চিদের হাত ধরে এ অঞ্চলে আসা এই খাবারটি আজ সিলেটের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য। স্থানীয়দের মতে, আখনির হাঁড়ি যত বড় হয়, এর স্বাদ তত বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ঘুরে দেখা যায়, বড় বড় হাঁড়িতে লাল কাপড় মুড়িয়ে আখনি বিক্রি করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের মানভেদে দামের কিছুটা তারতম্য রয়েছে গরুর মাংসের আখনি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। মুরগির মাংসের আখনি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা।

শ্রীমঙ্গলের পানসী রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে আসা কামরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের এলাকায় আখনি ছাড়া ইফতার পূর্ণতা পায় না। বন্ধুদের নিয়ে এই ঐতিহ্যের স্বাদ নিতেই রেস্টুরেন্টে আসা।" আবার অনেককে দেখা গেছে মেয়ের বাড়ি বা আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ১০-১৫ কেজি করে আখনি কিনছেন।

শহরের রেস্টুরেন্ট মালিক খায়রুল ইসলাম জানান, রমজান মাসে আখনির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন কয়েকশ কেজি আখনি বিক্রি হয়। বড় অর্ডারের জন্য ক্রেতাদের আগে থেকেই বুকিং দিতে হয়। পিয়াজু, বেগুনি, ছোলা ও জিলাপির সাথে আখনির কম্বিনেশন ইফতারকে করে তোলে আরও তৃপ্তিদায়ক।

পারিবারিক উৎসব, আকিকা বা ধর্মীয় আয়োজনেও মৌলভীবাজারবাসীর পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে এই সুস্বাদু আখনি পোলাও।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


আখনি পোলাওয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের ইফতারে অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো আখনি পোলাও। এই অঞ্চলের মানুষেরা নিজ বাড়িতে আখনি তৈরির পাশাপাশি রোজা মাসে বড় হাঁড়ির আখনি খাবারের স্বাদ নিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসেন


জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

সিলেট অঞ্চলের ইফতার মানেই বড় হাঁড়ির গরমে ভাপ ওঠা সুগন্ধি ‘আখনি পোলাও’। রোজা শুরুর সাথে সাথেই মৌলভীবাজারের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও রেস্তোরাঁয় এখন আখনির ম-ম ঘ্রাণ। যুগ যুগ ধরে সিলেটের ইফতার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা এই খাবারটি কিনতে প্রতিদিন ইফতার বাজারগুলোতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

সুগন্ধি চাল, গাওয়া ঘি, গরম মশলা এবং গরু বা মুরগির মাংসের সমন্বয়ে তৈরি হয় এই মুখরোচক খাবার। দেখতে তেহারির মতো মনে হলেও স্বাদ ও রান্নার বিশেষ পদ্ধতিতে এটি অনন্য। মুঘল আমলের বাবুর্চিদের হাত ধরে এ অঞ্চলে আসা এই খাবারটি আজ সিলেটের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্য। স্থানীয়দের মতে, আখনির হাঁড়ি যত বড় হয়, এর স্বাদ তত বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ঘুরে দেখা যায়, বড় বড় হাঁড়িতে লাল কাপড় মুড়িয়ে আখনি বিক্রি করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের মানভেদে দামের কিছুটা তারতম্য রয়েছে গরুর মাংসের আখনি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। মুরগির মাংসের আখনি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা।

শ্রীমঙ্গলের পানসী রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে আসা কামরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের এলাকায় আখনি ছাড়া ইফতার পূর্ণতা পায় না। বন্ধুদের নিয়ে এই ঐতিহ্যের স্বাদ নিতেই রেস্টুরেন্টে আসা।" আবার অনেককে দেখা গেছে মেয়ের বাড়ি বা আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ১০-১৫ কেজি করে আখনি কিনছেন।

শহরের রেস্টুরেন্ট মালিক খায়রুল ইসলাম জানান, রমজান মাসে আখনির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন কয়েকশ কেজি আখনি বিক্রি হয়। বড় অর্ডারের জন্য ক্রেতাদের আগে থেকেই বুকিং দিতে হয়। পিয়াজু, বেগুনি, ছোলা ও জিলাপির সাথে আখনির কম্বিনেশন ইফতারকে করে তোলে আরও তৃপ্তিদায়ক।

পারিবারিক উৎসব, আকিকা বা ধর্মীয় আয়োজনেও মৌলভীবাজারবাসীর পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে এই সুস্বাদু আখনি পোলাও।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত