জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
ভোরের আলো ফোটার আগেই ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ রাংচাপড়া গ্রামের রাস্তায় দেখা যায় এক অসাধারণ দৃশ্য। এক ব্যক্তি লাঠিতে ভর দিয়ে নয়, বরং এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তার গন্তব্যের দিকে। তিনি বাছির কুমার (৩৮)। জন্ম থেকেই যার ডান পা নেই এবং ডান হাতের কবজি থেকে আঙুল পর্যন্ত নেই। কিন্তু শরীরের এই সীমাবদ্ধতা বাছিরের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে।
বাছিরের জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবা আব্দুল কুমারকে হারান তিনি। মা হাজেরা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে ৮ সন্তানকে বড় করেছেন। সবার ছোট হয়েও বাছির নিজেকে পরিবারের বোঝা হতে দেননি। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে বড় ভাইয়ের চায়ের দোকানে কাজ শুরু করে নিজের ভাগ্য বদলের লড়াই শুরু করেন তিনি।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গত ২২ বছর ধরে ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের পাশে দক্ষিণ রাংচাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাচ্ছেন বাছির। এক হাতে চা বানানো থেকে শুরু করে কাপ ধোয়া—সব কাজই তিনি নিপুণভাবে করেন। ১৪ বছর আগে আকলিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তাদের দুই ছেলে, তানভীর (১২) ও রানা (১০)।
প্রতিদিন দোকান থেকে তার আয় হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলছে চারজনের সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনা। প্রতিদিন বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার পথ এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে পাড়ি দিয়ে দোকানে আসেন তিনি। "আমি ভিক্ষা করে বাঁচতে চাই না। যতদিন শক্তি আছে, নিজের কাজ করে সংসার চালাতে চাই।" — বাছির কুমার
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন মানিক বলেন, বাছিরের এই মানসিক শক্তি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের সম্মান ধরে রেখেছেন তিনি। ভালুকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মন্ডলও বাছিরের এই জীবনযুদ্ধের প্রশংসা করেছেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাছির কুমারের এই জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের প্রকৃত শক্তি তার শরীরে নয়, বরং তার মনে ও ইচ্ছাশক্তিতে থাকে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
ভোরের আলো ফোটার আগেই ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ রাংচাপড়া গ্রামের রাস্তায় দেখা যায় এক অসাধারণ দৃশ্য। এক ব্যক্তি লাঠিতে ভর দিয়ে নয়, বরং এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তার গন্তব্যের দিকে। তিনি বাছির কুমার (৩৮)। জন্ম থেকেই যার ডান পা নেই এবং ডান হাতের কবজি থেকে আঙুল পর্যন্ত নেই। কিন্তু শরীরের এই সীমাবদ্ধতা বাছিরের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে।
বাছিরের জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবা আব্দুল কুমারকে হারান তিনি। মা হাজেরা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে ৮ সন্তানকে বড় করেছেন। সবার ছোট হয়েও বাছির নিজেকে পরিবারের বোঝা হতে দেননি। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে বড় ভাইয়ের চায়ের দোকানে কাজ শুরু করে নিজের ভাগ্য বদলের লড়াই শুরু করেন তিনি।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গত ২২ বছর ধরে ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের পাশে দক্ষিণ রাংচাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাচ্ছেন বাছির। এক হাতে চা বানানো থেকে শুরু করে কাপ ধোয়া—সব কাজই তিনি নিপুণভাবে করেন। ১৪ বছর আগে আকলিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তাদের দুই ছেলে, তানভীর (১২) ও রানা (১০)।
প্রতিদিন দোকান থেকে তার আয় হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলছে চারজনের সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনা। প্রতিদিন বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার পথ এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে পাড়ি দিয়ে দোকানে আসেন তিনি। "আমি ভিক্ষা করে বাঁচতে চাই না। যতদিন শক্তি আছে, নিজের কাজ করে সংসার চালাতে চাই।" — বাছির কুমার
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন মানিক বলেন, বাছিরের এই মানসিক শক্তি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। ভিক্ষাবৃত্তি বেছে না নিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের সম্মান ধরে রেখেছেন তিনি। ভালুকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মন্ডলও বাছিরের এই জীবনযুদ্ধের প্রশংসা করেছেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাছির কুমারের এই জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের প্রকৃত শক্তি তার শরীরে নয়, বরং তার মনে ও ইচ্ছাশক্তিতে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন