নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

রংপুরে অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষিদের কপাল পুড়ল: লোকসানের মুখে ৫৬ লাখ টন আলু

রংপুরে অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষিদের কপাল পুড়ল: লোকসানের মুখে ৫৬ লাখ টন আলু
রংপুরে আলুর দামে যখন ধস নেমেছে ঠিক তখন অকাল বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল চাষিদের। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতে আলুক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে আলুতে পচন ধরার তীব্র আশঙ্কা। 

রংপুর

রংপুরে আলুর বাজারে দরপতনের হাহাকারের মাঝেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে অকাল বৃষ্টি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে রংপুর বিভাগের বিস্তীর্ণ আলুক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে আলুতে পচন ধরার তীব্র আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে পীরগাছার তাম্বুলপুর, ছাওলা এবং নগরীর মাহিগঞ্জ ও আমাশু কুকরুল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত তলিয়ে আছে। কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, বাজারে আলুর দাম নেই, কেজি মাত্র ৮-১০ টাকা। এই বৃষ্টির কারণে আলুর মান খারাপ হয়ে দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন তারা। আরেক চাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, "সারের সংকট আর সিন্ডিকেটের কারণে এমনিতেই বিপাকে ছিলাম, এখন বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।"

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে এবার ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯২ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। তবে হিমাগারে সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে মাত্র ১১ লাখ টন। বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ সংকট ও দরপতনের কারণে শুধু হিমাগারে থাকা আলুতেই এবার প্রায় ১ হাজার ৯৯৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী ৪-৫ দিন থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম চাষিদের দ্রুত ক্ষেত থেকে পানি সরিয়ে আলু রক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, "আলুর বাজারদর ৩-৪ টাকায় নেমেছে। সরকারের উচিত লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট বন্ধ করে কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে সার দেওয়া।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


রংপুরে অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষিদের কপাল পুড়ল: লোকসানের মুখে ৫৬ লাখ টন আলু

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image
রংপুরে আলুর দামে যখন ধস নেমেছে ঠিক তখন অকাল বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল চাষিদের। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতে আলুক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে আলুতে পচন ধরার তীব্র আশঙ্কা। 

রংপুর

রংপুরে আলুর বাজারে দরপতনের হাহাকারের মাঝেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে অকাল বৃষ্টি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে রংপুর বিভাগের বিস্তীর্ণ আলুক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে আলুতে পচন ধরার তীব্র আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে পীরগাছার তাম্বুলপুর, ছাওলা এবং নগরীর মাহিগঞ্জ ও আমাশু কুকরুল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে ক্ষেত তলিয়ে আছে। কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, বাজারে আলুর দাম নেই, কেজি মাত্র ৮-১০ টাকা। এই বৃষ্টির কারণে আলুর মান খারাপ হয়ে দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন তারা। আরেক চাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, "সারের সংকট আর সিন্ডিকেটের কারণে এমনিতেই বিপাকে ছিলাম, এখন বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।"

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে এবার ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯২ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। তবে হিমাগারে সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে মাত্র ১১ লাখ টন। বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ সংকট ও দরপতনের কারণে শুধু হিমাগারে থাকা আলুতেই এবার প্রায় ১ হাজার ৯৯৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী ৪-৫ দিন থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম চাষিদের দ্রুত ক্ষেত থেকে পানি সরিয়ে আলু রক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, "আলুর বাজারদর ৩-৪ টাকায় নেমেছে। সরকারের উচিত লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট বন্ধ করে কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে সার দেওয়া।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত