নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ডুমুরিয়ায় নদী ভরাট রোধে টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি

ডুমুরিয়ায় নদী ভরাট রোধে টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঘ্যাংরাইল নদীর পল্লীশ্রী কলেজ সংলগ্ন কদমতলা খেয়াঘাট এলাকায় নদীর শেষ ভাটিতে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। নদীতে দ্রুত পলি জমে ভরাট হওয়ায় স্থানীয়রা নদী রক্ষায় টিআরএম (টিডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, বাঁধ দিয়ে নদী খননের ফলে ডুমুরিয়ার খড়িয়া থেকে বারোআড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদীর উজানের প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকায় দ্রুত পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। ভাটায় স্রোত না থাকায় জোয়ারের সময় সাগর থেকে আসা পলি নদীতে জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। এই নদী ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। নদী মৃতপ্রায় হয়ে পড়লে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজীবী মানুষ মারাত্মক বিপাকে পড়বে।

এদিকে বিলডাকাতিয়ার মতো শৈলমারী নদীতেও পলি জমে ভরাট হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ৬-৭ মাস ধরে লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। এতে ওই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। একই ধরনের পরিস্থিতির ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের ভবদহ, মনিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলাসহ ডজনখানেক উপজেলার অন্তত ১১৪টি বিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময়ের খরস্রোতা তেলিগাতী নদীতে এখন ভাটার সময় মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার করছে। ডুমুরিয়ার কদমতলা খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, উজানে জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের ফলে ভাটির দিকে দ্রুত পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নদীতে ১০ ফুটেরও বেশি পলি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

কদমতলা খেয়াঘাটের পাটনি বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, “নদীর স্রোত আটকানোর কারণে দ্রুত পলি পড়ছে। এখন জোয়ারের সময় ছাড়া ভাটায় খেয়া চলতে পারে না। ফলে অনেক সময় মানুষ পায়ে হেঁটে নদী পারাপার করছে।”

ডুমুরিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহাজান জমাদ্দার বলেন, “খর্ডুয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বাঁধ দেওয়ায় দ্রুত পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যে ১০ ফুটের বেশি পলি জমেছে। এতে নদী খনন শেষ হওয়ার আগেই ভাটি এলাকার নদী মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

মধুগ্রাম বিল কমিটির সভাপতি জি.এম. আমান উল্লাহ বলেন, প্রবহমান নদীতে বাঁধ দিয়ে স্রোত বন্ধ করে খনন করায় দ্রুত পলি জমছে। ভাসমান এক্সকাভেটর বা ড্রেজার দিয়ে খনন করলে নদী নতুন করে ভরাট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকত।

কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মোতলেব সরদার বলেন, প্রবহমান নদী বাঁধ দিয়ে খনন করা অযৌক্তিক। নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খননের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যশোর পানি উন্নয়ন সার্কেল) বি.এম. আবদুল মোমিন জানান, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খনন কার্যক্রম চলছে। প্রায় ১৪০ কোটি টাকার এ প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং আগামী জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে।

তিনি আরও জানান, যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, তার ভাটির দিকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উজানে পানির চাপ বাড়লে বাঁধ কেটে দিয়ে স্রোতের গতি স্বাভাবিক করা হবে। এছাড়া শোলমারী নদী খননের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এবং দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় নদী ভরাট রোধে টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঘ্যাংরাইল নদীর পল্লীশ্রী কলেজ সংলগ্ন কদমতলা খেয়াঘাট এলাকায় নদীর শেষ ভাটিতে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। নদীতে দ্রুত পলি জমে ভরাট হওয়ায় স্থানীয়রা নদী রক্ষায় টিআরএম (টিডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, বাঁধ দিয়ে নদী খননের ফলে ডুমুরিয়ার খড়িয়া থেকে বারোআড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদীর উজানের প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকায় দ্রুত পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। ভাটায় স্রোত না থাকায় জোয়ারের সময় সাগর থেকে আসা পলি নদীতে জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। এই নদী ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। নদী মৃতপ্রায় হয়ে পড়লে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজীবী মানুষ মারাত্মক বিপাকে পড়বে।

এদিকে বিলডাকাতিয়ার মতো শৈলমারী নদীতেও পলি জমে ভরাট হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ৬-৭ মাস ধরে লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। এতে ওই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। একই ধরনের পরিস্থিতির ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের ভবদহ, মনিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলাসহ ডজনখানেক উপজেলার অন্তত ১১৪টি বিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময়ের খরস্রোতা তেলিগাতী নদীতে এখন ভাটার সময় মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার করছে। ডুমুরিয়ার কদমতলা খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, উজানে জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের ফলে ভাটির দিকে দ্রুত পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নদীতে ১০ ফুটেরও বেশি পলি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

কদমতলা খেয়াঘাটের পাটনি বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, “নদীর স্রোত আটকানোর কারণে দ্রুত পলি পড়ছে। এখন জোয়ারের সময় ছাড়া ভাটায় খেয়া চলতে পারে না। ফলে অনেক সময় মানুষ পায়ে হেঁটে নদী পারাপার করছে।”

ডুমুরিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহাজান জমাদ্দার বলেন, “খর্ডুয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বাঁধ দেওয়ায় দ্রুত পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যে ১০ ফুটের বেশি পলি জমেছে। এতে নদী খনন শেষ হওয়ার আগেই ভাটি এলাকার নদী মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

মধুগ্রাম বিল কমিটির সভাপতি জি.এম. আমান উল্লাহ বলেন, প্রবহমান নদীতে বাঁধ দিয়ে স্রোত বন্ধ করে খনন করায় দ্রুত পলি জমছে। ভাসমান এক্সকাভেটর বা ড্রেজার দিয়ে খনন করলে নদী নতুন করে ভরাট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকত।

কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মোতলেব সরদার বলেন, প্রবহমান নদী বাঁধ দিয়ে খনন করা অযৌক্তিক। নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খননের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যশোর পানি উন্নয়ন সার্কেল) বি.এম. আবদুল মোমিন জানান, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খনন কার্যক্রম চলছে। প্রায় ১৪০ কোটি টাকার এ প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং আগামী জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে।

তিনি আরও জানান, যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, তার ভাটির দিকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উজানে পানির চাপ বাড়লে বাঁধ কেটে দিয়ে স্রোতের গতি স্বাভাবিক করা হবে। এছাড়া শোলমারী নদী খননের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এবং দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত