শখ আর ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই—এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার আব্দুল কাদের প্রামাণিক। বড় নাতনির বিয়ের দেড় বছর পর তার ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিয়ে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের ও তার মরহুমা স্ত্রী বড় মেয়ের প্রথম সন্তান নাইমা খাতুনের জন্মের পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নাতনিকে তার ওজনের সমান কয়েন উপহার দেবেন। তবে সেই সময় আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। নাতনির জন্মের পর থেকেই মাটির ব্যাংকে ৫ টাকার কয়েন জমাতে শুরু করেন এই দম্পতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জমানো সেই সঞ্চয় দিয়ে অবশেষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে নাতনির বিয়ের পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে এই ইচ্ছা পূরণ করেন নানা।
শুক্রবার রাতে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে বসেছিল অনেকটা বিয়ের মতোই উৎসবমুখর আসর। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে একটি বড় দাঁড়িপাল্লার এক পাশে বসানো হয় নাতনি নাইমা খাতুনকে। অন্য পাশে তুলে দেওয়া হয় দীর্ঘদিনের জমানো শত শত ৫ টাকার কয়েন। পাল্লার দুই দিক সমান হওয়ার পর সেই সব কয়েন নাতনির হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন নানা।
আব্দুল কাদের প্রামাণিক জানান, একটি পত্রিকায় এমন একটি খবর পড়ে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, "ইচ্ছা ছিল নাতনি ছোট থাকতেই দেব, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। আজ শখ পূরণ হলো, তবে আফসোস আমার স্ত্রী এই আনন্দ দেখে যেতে পারলেন না।"
উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত নাতনি নাইমা খাতুন বলেন, "নানা-নানির এই ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। নানি বেঁচে থাকলে আনন্দটা আরও পূর্ণতা পেত।"
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, "এমন ঘটনা আগে শুধু গল্পে শুনেছি, আজ বাস্তবে দেখলাম। নানা-নাতনির এই ভালোবাসা সত্যিই বিরল ও আনন্দদায়ক।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল একটি উপহার নয়, বরং একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত আবেগ ও ভালোবাসার অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
শখ আর ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই—এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার আব্দুল কাদের প্রামাণিক। বড় নাতনির বিয়ের দেড় বছর পর তার ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিয়ে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের ও তার মরহুমা স্ত্রী বড় মেয়ের প্রথম সন্তান নাইমা খাতুনের জন্মের পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নাতনিকে তার ওজনের সমান কয়েন উপহার দেবেন। তবে সেই সময় আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। নাতনির জন্মের পর থেকেই মাটির ব্যাংকে ৫ টাকার কয়েন জমাতে শুরু করেন এই দম্পতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জমানো সেই সঞ্চয় দিয়ে অবশেষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে নাতনির বিয়ের পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে এই ইচ্ছা পূরণ করেন নানা।
শুক্রবার রাতে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে বসেছিল অনেকটা বিয়ের মতোই উৎসবমুখর আসর। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে একটি বড় দাঁড়িপাল্লার এক পাশে বসানো হয় নাতনি নাইমা খাতুনকে। অন্য পাশে তুলে দেওয়া হয় দীর্ঘদিনের জমানো শত শত ৫ টাকার কয়েন। পাল্লার দুই দিক সমান হওয়ার পর সেই সব কয়েন নাতনির হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন নানা।
আব্দুল কাদের প্রামাণিক জানান, একটি পত্রিকায় এমন একটি খবর পড়ে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, "ইচ্ছা ছিল নাতনি ছোট থাকতেই দেব, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। আজ শখ পূরণ হলো, তবে আফসোস আমার স্ত্রী এই আনন্দ দেখে যেতে পারলেন না।"
উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত নাতনি নাইমা খাতুন বলেন, "নানা-নানির এই ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। নানি বেঁচে থাকলে আনন্দটা আরও পূর্ণতা পেত।"
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, "এমন ঘটনা আগে শুধু গল্পে শুনেছি, আজ বাস্তবে দেখলাম। নানা-নাতনির এই ভালোবাসা সত্যিই বিরল ও আনন্দদায়ক।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল একটি উপহার নয়, বরং একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত আবেগ ও ভালোবাসার অনন্য বহিঃপ্রকাশ।

আপনার মতামত লিখুন