ত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান মেজর হার্ট অ্যাটাক করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ। গত সপ্তাহে তিনি একটি ‘মেজর হার্ট অ্যাটাক’-এর শিকার হয়েছেন।
আগামীকাল সোমবার (৩০ মার্চ) তাঁর হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৮টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ।
স্নিগ্ধ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “এত বছরেও আব্বুকে কখনো এত বড় অসুস্থতায় পড়তে দেখিনি। ছোটখাটো অসুখ হলে তিনি নিজেই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যেতেন। আমাদের সবার মাঝে আব্বুই সবচেয়ে সাহসী মানুষ। কিন্তু মুগ্ধকে হারানোর পর থেকেই আব্বু ধীরে ধীরে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন।”
ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণের পর এনজিওগ্রামে মীর মুস্তাফিজুর রহমানের হৃদযন্ত্রে অসংখ্য ব্লক ধরা পড়েছে। সোমবারের অপারেশনের কথা জানিয়ে স্নিগ্ধ লিখেছেন, “ডাক্তার বলেছেন কালকের অপারেশন করতে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে। আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি।”
ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধ আরও জানান, তাঁর বাবা ৯০-এর দশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির একজন একনিষ্ঠ ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে তিনি সবসময় সন্তানদেরও একই আদর্শ ধারণ করতে বলতেন। যদিও তিন ভাই অরাজনৈতিক ছিলেন, তবে বাবার নির্দেশেই স্নিগ্ধর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন উত্তরার আজমপুরে তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী তখন বিইউপিতে (BUP) এমবিএ করছিলেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তাঁর সেই ডাক— “পানি লাগবে কারও, পানি?” আজ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অমর প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
ত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান মেজর হার্ট অ্যাটাক করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ। গত সপ্তাহে তিনি একটি ‘মেজর হার্ট অ্যাটাক’-এর শিকার হয়েছেন।
আগামীকাল সোমবার (৩০ মার্চ) তাঁর হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৮টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ।
স্নিগ্ধ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “এত বছরেও আব্বুকে কখনো এত বড় অসুস্থতায় পড়তে দেখিনি। ছোটখাটো অসুখ হলে তিনি নিজেই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যেতেন। আমাদের সবার মাঝে আব্বুই সবচেয়ে সাহসী মানুষ। কিন্তু মুগ্ধকে হারানোর পর থেকেই আব্বু ধীরে ধীরে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন।”
ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণের পর এনজিওগ্রামে মীর মুস্তাফিজুর রহমানের হৃদযন্ত্রে অসংখ্য ব্লক ধরা পড়েছে। সোমবারের অপারেশনের কথা জানিয়ে স্নিগ্ধ লিখেছেন, “ডাক্তার বলেছেন কালকের অপারেশন করতে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে। আপনারা যে মানবিক মুগ্ধকে দেখেছেন, সে ছিল পুরোপুরি আব্বুরই প্রতিচ্ছবি।”
ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধ আরও জানান, তাঁর বাবা ৯০-এর দশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির একজন একনিষ্ঠ ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে তিনি সবসময় সন্তানদেরও একই আদর্শ ধারণ করতে বলতেন। যদিও তিন ভাই অরাজনৈতিক ছিলেন, তবে বাবার নির্দেশেই স্নিগ্ধর রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন উত্তরার আজমপুরে তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী তখন বিইউপিতে (BUP) এমবিএ করছিলেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তাঁর সেই ডাক— “পানি লাগবে কারও, পানি?” আজ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অমর প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন