নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

দোরগোড়ায় বৈসাবি, প্রস্তুতির জোয়ার খাগড়াছড়িতে

দোরগোড়ায় বৈসাবি, প্রস্তুতির জোয়ার খাগড়াছড়িতে

পাহাড়ে আবারও ফিরে এসেছে প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। বছরজুড়ে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। 


পাহাড়ে উৎসবের আমেজ 

অরণ্যঘেরা পাহাড়ি জনপদে আবারও ফিরে এসেছে প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। বছরজুড়ে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলের ঘরে ঘরে এখন সাজ সাজ রব। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বর্ণিল রূপে সাজতে শুরু করেছে পাহাড়ের জনপদগুলো।

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

‘বৈসাবি’ নামটি মূলত তিনটি প্রধান পাহাড়ি সম্প্রদায়ের উৎসবের আদ্যক্ষর থেকে এসেছে ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ চাকমাদের ‘বিজু’

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা নববর্ষের সাথে মিল রেখে এই উৎসব উদযাপিত হয়। এরই মধ্যে পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মেলা এবং সাংস্কৃতিক মহড়া।

তাদের তিন দিনের উৎসব শুরু হয় ‘হারি বৈসু’ দিয়ে। তরুণ-তরুণীরা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। দ্বিতীয় দিন ‘বৈসু’ এবং শেষ দিন ‘বিছিকাতাল’। এদিন বড়দের গোসল করানো ও বস্ত্রদানের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।

চার দিনব্যাপী ‘সাংগ্রাই’ উৎসবে চলে জলকেলি বা পানি উৎসব, বিশেষ রান্না এবং অতিথি আপ্যায়ন। সাংগ্রাই, আক্যে, আতাদা ও আতং—প্রতিটি দিনের রয়েছে আলাদা তাৎপর্য।

তাদের উৎসবের প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’। এদিন নদীতে ফুল ভাসিয়ে মঙ্গল কামনা করা হয়। দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’ এবং তৃতীয় দিন ‘গজ্জাপজ্জা’ পালিত হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ আগামী ৭ এপ্রিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও ডিসপ্লের আয়োজন করেছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউটে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকছে।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি আগামী ১৪ এপ্রিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশেষ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার জানান, গতবারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উৎসব চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবায়দুল হক জানান, উৎসবটি যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

দরিদ্র ও প্রান্তিক পাহাড়ি পরিবারগুলো তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। পাহাড় থেকে সমতল—সবখানেই এখন বৈসাবির আনন্দ বারতা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


দোরগোড়ায় বৈসাবি, প্রস্তুতির জোয়ার খাগড়াছড়িতে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পাহাড়ে আবারও ফিরে এসেছে প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। বছরজুড়ে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। 


পাহাড়ে উৎসবের আমেজ 

অরণ্যঘেরা পাহাড়ি জনপদে আবারও ফিরে এসেছে প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’। বছরজুড়ে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলের ঘরে ঘরে এখন সাজ সাজ রব। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বর্ণিল রূপে সাজতে শুরু করেছে পাহাড়ের জনপদগুলো।

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

‘বৈসাবি’ নামটি মূলত তিনটি প্রধান পাহাড়ি সম্প্রদায়ের উৎসবের আদ্যক্ষর থেকে এসেছে ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ চাকমাদের ‘বিজু’

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা নববর্ষের সাথে মিল রেখে এই উৎসব উদযাপিত হয়। এরই মধ্যে পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মেলা এবং সাংস্কৃতিক মহড়া।

তাদের তিন দিনের উৎসব শুরু হয় ‘হারি বৈসু’ দিয়ে। তরুণ-তরুণীরা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। দ্বিতীয় দিন ‘বৈসু’ এবং শেষ দিন ‘বিছিকাতাল’। এদিন বড়দের গোসল করানো ও বস্ত্রদানের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।

চার দিনব্যাপী ‘সাংগ্রাই’ উৎসবে চলে জলকেলি বা পানি উৎসব, বিশেষ রান্না এবং অতিথি আপ্যায়ন। সাংগ্রাই, আক্যে, আতাদা ও আতং—প্রতিটি দিনের রয়েছে আলাদা তাৎপর্য।

তাদের উৎসবের প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’। এদিন নদীতে ফুল ভাসিয়ে মঙ্গল কামনা করা হয়। দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’ এবং তৃতীয় দিন ‘গজ্জাপজ্জা’ পালিত হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ আগামী ৭ এপ্রিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও ডিসপ্লের আয়োজন করেছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউটে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকছে।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি আগামী ১৪ এপ্রিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশেষ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার জানান, গতবারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উৎসব চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবায়দুল হক জানান, উৎসবটি যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

দরিদ্র ও প্রান্তিক পাহাড়ি পরিবারগুলো তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। পাহাড় থেকে সমতল—সবখানেই এখন বৈসাবির আনন্দ বারতা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত