নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

পাইকার সংকট ও কম দামে আলু বিক্রি: লোকসানের মুখে কৃষকরা

পাইকার সংকট ও কম দামে আলু বিক্রি: লোকসানের মুখে কৃষকরা

চলতি বছরে আলু আবাদ করে ভালো ফলন হলেও সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকরা। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে দূর থেকে তেমন কেনো পাইকার না আসায় কম দামেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, এমন অভিযোগ তাদের।


আলুর বাম্পার ফলন

বরগুনায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও মুখে হাসি নেই কৃষকদের। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পাইকার না আসা এবং জেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

সঠিক দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগে আলু উৎপাদনে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। এ বছর জেলায় ৯৪৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বিপণন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষকরা আলুর স্তূপ নিয়ে পাইকারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, দূর-দূরান্তের পাইকাররা জ্বালানি তেলের সংকটের কথা বলে এলাকায় আসছেন না। যারা আসছেন, তারা নামমাত্র দামে আলু কিনতে চাচ্ছেন। কৃষক জাকির হাওলাদার জানান, ৪ লাখ টাকা খরচ করে তিন একর জমিতে আলু চাষ করলেও এখন শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার টাকাও তুলতে পারছেন না। একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী চাষি খাদিজা ও মুক্তা রানী। তাদের দাবি, কাছাকাছি কোনো হিমাগার থাকলে তারা আলু সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করতে পারতেন, কিন্তু এখন পানির দামে আলু বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

স্থানীয় বেপারী খলিলুর রহমান বলেন, পরিবহন সমস্যার কারণে পাইকাররা আসতে পারছেন না। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় আলু পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে কৃষি বিভাগ ভিন্ন কথা বলছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, কৃষি পণ্য পরিবহনের জন্য বরগুনায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে প্রত্যয়নপত্র নিলে পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে। হিমাগার সমস্যার সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী আশ্বাস দিয়েছেন যে, কৃষকরা আলু বিক্রিতে সমস্যা বোধ করলে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পাইকার সংকট ও কম দামে আলু বিক্রি: লোকসানের মুখে কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চলতি বছরে আলু আবাদ করে ভালো ফলন হলেও সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকরা। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে দূর থেকে তেমন কেনো পাইকার না আসায় কম দামেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, এমন অভিযোগ তাদের।


আলুর বাম্পার ফলন

বরগুনায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও মুখে হাসি নেই কৃষকদের। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পাইকার না আসা এবং জেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

সঠিক দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগে আলু উৎপাদনে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। এ বছর জেলায় ৯৪৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৭৩ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বিপণন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষকরা আলুর স্তূপ নিয়ে পাইকারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, দূর-দূরান্তের পাইকাররা জ্বালানি তেলের সংকটের কথা বলে এলাকায় আসছেন না। যারা আসছেন, তারা নামমাত্র দামে আলু কিনতে চাচ্ছেন। কৃষক জাকির হাওলাদার জানান, ৪ লাখ টাকা খরচ করে তিন একর জমিতে আলু চাষ করলেও এখন শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার টাকাও তুলতে পারছেন না। একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী চাষি খাদিজা ও মুক্তা রানী। তাদের দাবি, কাছাকাছি কোনো হিমাগার থাকলে তারা আলু সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করতে পারতেন, কিন্তু এখন পানির দামে আলু বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

স্থানীয় বেপারী খলিলুর রহমান বলেন, পরিবহন সমস্যার কারণে পাইকাররা আসতে পারছেন না। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় আলু পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে কৃষি বিভাগ ভিন্ন কথা বলছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, কৃষি পণ্য পরিবহনের জন্য বরগুনায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে প্রত্যয়নপত্র নিলে পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে। হিমাগার সমস্যার সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী আশ্বাস দিয়েছেন যে, কৃষকরা আলু বিক্রিতে সমস্যা বোধ করলে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত