নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা চাষে সফল কৃষক ইমন খান

ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা চাষে সফল কৃষক ইমন খান
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক ইমন খান।

খুলনা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক ইমন খান। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। ইমন খান জানান, প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে পেয়ারা চাষ শুরু করেন তিনি। চলতি মৌসুমে তার বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রির আশা করছেন। উন্নত জাতের গাছ হওয়ায় বছরে ১২ মাসই ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি পেয়ারা আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে এবং একটি গাছ টানা সাত বছর পর্যন্ত ফল দেয়। বর্তমানে প্রতি কেজি পেয়ারা বাজারে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। [caption id="attachment_25227" align="alignnone" width="244"]ছবি: নজরবিডি.কম ছবি: নজরবিডি.কম[/caption] প্রায় ৫ বিঘা জমিতে ১ হাজার ৫০টি পেয়ারা গাছ লাগিয়েছেন ইমন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশপাশের অনেক কৃষক এখন পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। গুটুদিয়া ইউনিয়নের পঞ্চুর গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম এবং শলুয়া গ্রামের পূর্ণেন্দু বিশ্বাসও ইতোমধ্যে পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন। ফলে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন পেয়ারা বাগান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, চলতি বছরে ডুমুরিয়ায় ২৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে। সাধারণ ফসলের তুলনায় পেয়ারা চাষে প্রায় তিন গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায়। খুলনা হর্টিকালচার থেকে সংগৃহীত চারা বৈশাখের শেষের দিকে রোপণ করা হয় এবং প্রায় ৯ মাসের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করে। তিনি আরও জানান, একটি গাছে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি ফল ধরে। তবে গাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ থেকে ২৫টি ফল রাখা হয়। যদিও সারা বছর ফলন পাওয়া যায়, শীত মৌসুমে পেয়ারার দাম বেশি থাকে। পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে সুষম সার প্রয়োগ এবং ফল পলিথিন দিয়ে মোড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পেয়ারা চাষ বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪০০টি গাছ লাগানো সম্ভব এবং প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে এক মণ পেয়ারা প্রায় ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ফলে একটি গাছ থেকেই বছরে তিন হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, বিষমুক্ত ফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে লেবু ও মালটা চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা চাষে সফল কৃষক ইমন খান

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক ইমন খান।

খুলনা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষক ইমন খান। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। ইমন খান জানান, প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে পেয়ারা চাষ শুরু করেন তিনি। চলতি মৌসুমে তার বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রির আশা করছেন। উন্নত জাতের গাছ হওয়ায় বছরে ১২ মাসই ফলন পাওয়া যায়। প্রতিটি পেয়ারা আধা কেজি থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে এবং একটি গাছ টানা সাত বছর পর্যন্ত ফল দেয়। বর্তমানে প্রতি কেজি পেয়ারা বাজারে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। [caption id="attachment_25227" align="alignnone" width="244"]ছবি: নজরবিডি.কম ছবি: নজরবিডি.কম[/caption] প্রায় ৫ বিঘা জমিতে ১ হাজার ৫০টি পেয়ারা গাছ লাগিয়েছেন ইমন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশপাশের অনেক কৃষক এখন পেয়ারা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। গুটুদিয়া ইউনিয়নের পঞ্চুর গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম এবং শলুয়া গ্রামের পূর্ণেন্দু বিশ্বাসও ইতোমধ্যে পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন। ফলে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন পেয়ারা বাগান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, চলতি বছরে ডুমুরিয়ায় ২৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে। সাধারণ ফসলের তুলনায় পেয়ারা চাষে প্রায় তিন গুণ বেশি লাভ পাওয়া যায়। খুলনা হর্টিকালচার থেকে সংগৃহীত চারা বৈশাখের শেষের দিকে রোপণ করা হয় এবং প্রায় ৯ মাসের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করে। তিনি আরও জানান, একটি গাছে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি ফল ধরে। তবে গাছের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ থেকে ২৫টি ফল রাখা হয়। যদিও সারা বছর ফলন পাওয়া যায়, শীত মৌসুমে পেয়ারার দাম বেশি থাকে। পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে সুষম সার প্রয়োগ এবং ফল পলিথিন দিয়ে মোড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পেয়ারা চাষ বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪০০টি গাছ লাগানো সম্ভব এবং প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ২০ কেজি ফল পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে এক মণ পেয়ারা প্রায় ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ফলে একটি গাছ থেকেই বছরে তিন হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, বিষমুক্ত ফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে লেবু ও মালটা চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত