নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

কেরানীগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের মুখে অবশেষে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ মার্কেটে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।


বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে পরিচালিত এই অভিযানে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোদ জেলা প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে তিনি মার্কেটের প্রতিটি ব্লক ঘুরে দেখেন এবং দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া আদায়ের নথিপত্র যাচাই করেন।

তদন্তে উঠে আসা প্রধান অনিয়মগুলো হলো, ভাড়া নৈরাজ্য: ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগৃহীত রসিদ যাচাই করে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল।

নকশা বহির্ভূত দোকান মার্কেটের মূল নকশা এবং সরকারি অনুমোদন তোয়াক্কা না করেই অসংখ্য অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। আর্থিক লুটপাট: সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের আদায়ের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পায়নি প্রশাসন।

অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন "সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে যারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, কেবল অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না প্রশাসন। ভবিষ্যতে এই ধরনের লুটপাট বন্ধে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

দীর্ঘদিন পর প্রশাসনের এমন সক্রিয় ভূমিকায় কেরানীগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই অভিযান দুর্নীতিবাজ চক্রের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, এই তৎপরতা যেন কেবল একদিনের 'শোডাউন' হয়ে না থাকে। সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


কেরানীগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের মুখে অবশেষে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ মার্কেটে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।


বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে পরিচালিত এই অভিযানে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোদ জেলা প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

সরেজমিন পরিদর্শনে তিনি মার্কেটের প্রতিটি ব্লক ঘুরে দেখেন এবং দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া আদায়ের নথিপত্র যাচাই করেন।

তদন্তে উঠে আসা প্রধান অনিয়মগুলো হলো, ভাড়া নৈরাজ্য: ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগৃহীত রসিদ যাচাই করে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল।

নকশা বহির্ভূত দোকান মার্কেটের মূল নকশা এবং সরকারি অনুমোদন তোয়াক্কা না করেই অসংখ্য অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। আর্থিক লুটপাট: সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের আদায়ের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পায়নি প্রশাসন।

অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন "সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে যারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করেছেন এবং অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, কেবল অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না প্রশাসন। ভবিষ্যতে এই ধরনের লুটপাট বন্ধে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

দীর্ঘদিন পর প্রশাসনের এমন সক্রিয় ভূমিকায় কেরানীগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই অভিযান দুর্নীতিবাজ চক্রের ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, এই তৎপরতা যেন কেবল একদিনের 'শোডাউন' হয়ে না থাকে। সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত