নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

স্কুল ছুটি, টয়লেটে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী!

স্কুল ছুটি, টয়লেটে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী!

মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর টয়লেটে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেও কারও সাড়া না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি।


মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ছুটির পর টয়লেটে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে চিৎকার ও কান্নাকাটি করার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা নিয়মিত কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। তবে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ওই সময় বাথরুমে থাকায় শিক্ষকরা তাকে ভেতরে রেখেই ভবনে তালা দিয়ে চলে যান।

নির্ধারিত সময়ে মেয়ে বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা মনিরুল ইসলাম। এদিকে সাদিয়ার চিৎকার স্কুল সংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়রা ও সাদিয়ার বাবা দ্রুত স্কুলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেও মূল ভবনের কলাপসিবল দরজা তালাবদ্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক সাদিয়াকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যকে খবর দিলে তিনি এসে তালা খুলে দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সাদিয়াকে আতঙ্কিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

রাতের দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেননি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাননি বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান "শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে—এটিই স্বস্তির। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আগামীকাল শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হবে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যালয় ভবনে তালা দেওয়ার আগে কেন পুরো প্রাঙ্গণ ও টয়লেট তল্লাশি করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


স্কুল ছুটি, টয়লেটে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী!

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটির পর টয়লেটে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেও কারও সাড়া না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি।


মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ছুটির পর টয়লেটে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে চিৎকার ও কান্নাকাটি করার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা নিয়মিত কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। তবে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ওই সময় বাথরুমে থাকায় শিক্ষকরা তাকে ভেতরে রেখেই ভবনে তালা দিয়ে চলে যান।

নির্ধারিত সময়ে মেয়ে বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা মনিরুল ইসলাম। এদিকে সাদিয়ার চিৎকার স্কুল সংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়রা ও সাদিয়ার বাবা দ্রুত স্কুলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেও মূল ভবনের কলাপসিবল দরজা তালাবদ্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক সাদিয়াকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যকে খবর দিলে তিনি এসে তালা খুলে দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সাদিয়াকে আতঙ্কিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

রাতের দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেননি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাননি বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান "শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে—এটিই স্বস্তির। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আগামীকাল শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হবে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্যালয় ভবনে তালা দেওয়ার আগে কেন পুরো প্রাঙ্গণ ও টয়লেট তল্লাশি করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত