নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজবাড়ীতে এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

রাজবাড়ীতে এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন
রাজবাড়ী জেলায় বর্তমানে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। যা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

রাজবাড়ী জেলায় তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। দিনরাত মিলিয়ে প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ—উভয় সেবা সংস্থার গ্রাহকরাই এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভয়াবহ এই লোডশেডিংয়ের প্রভাবে তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। পরীক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার পোলট্রি খামারিরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়ে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়ছেন তারা। এছাড়া আমন ও বোরো চাষের সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সজ্জনকান্দা এলাকার বাসিন্দা আইরিন সুলতানা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ যাচ্ছে, যা ছোট বাচ্চাদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে। শহরের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, "কম্পিউটার ও ফটোকপির ব্যবসা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা লাটে ওঠার দশা।"

রাজবাড়ী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন-অর-রশিদ জানান, ১ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহকের জন্য গড়ে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ২০ মেগাওয়াটে নামলে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী গোলাম আহম্মদ জানান, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের ২ লাখ ৪১ হাজার গ্রাহকের জন্য ৫৫-৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


রাজবাড়ীতে এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
রাজবাড়ী জেলায় বর্তমানে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। যা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

রাজবাড়ী জেলায় তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। দিনরাত মিলিয়ে প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ—উভয় সেবা সংস্থার গ্রাহকরাই এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভয়াবহ এই লোডশেডিংয়ের প্রভাবে তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। পরীক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার পোলট্রি খামারিরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়ে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়ছেন তারা। এছাড়া আমন ও বোরো চাষের সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সজ্জনকান্দা এলাকার বাসিন্দা আইরিন সুলতানা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ যাচ্ছে, যা ছোট বাচ্চাদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে। শহরের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, "কম্পিউটার ও ফটোকপির ব্যবসা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা লাটে ওঠার দশা।"

রাজবাড়ী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন-অর-রশিদ জানান, ১ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহকের জন্য গড়ে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ২০ মেগাওয়াটে নামলে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী গোলাম আহম্মদ জানান, জেলায় পল্লী বিদ্যুতের ২ লাখ ৪১ হাজার গ্রাহকের জন্য ৫৫-৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত