চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে আবুল হাশেমের দীর্ঘদিনের বন্ধু বাচ্চু পাটওয়ারীর মৃত্যু হয়।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুকে হারিয়ে শোক সইতে না পেরে বন্ধুর জন্য কবর খোঁড়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন আবুল হাশেম (৯০) নামে আরেক বন্ধু।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু পাটওয়ারী ও আবুল হাশেম ছিলেন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের ছায়ার মতো ছিলেন। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ হলেও তাদের বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি। এলাকার কারও মৃত্যু হলে এই দুই বন্ধু মিলে বিনা পারিশ্রমিকে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কবর খুঁড়তেন। জানা যায়, তাদের হাতে শতাধিক কবর খোঁড়ার রেকর্ড রয়েছে।
সোমবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে দ্রুত ছুটে যান আবুল হাশেম। দুপুরে বন্ধুর মরদেহ দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে নামেন তিনি। কবর খোঁড়ার কাজ যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কবরেই ঢলে পড়েন আবুল হাশেম। দ্রুত তাকে উপরে তোলা হলে দেখা যায়, তিনি আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন জানান, তার বাবা ও বাচ্চু পাটওয়ারী একে অপরের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। সারাক্ষণ তারা একসঙ্গেই থাকতেন। এমনকি রোববারের রাতেও তারা একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন এবং সোমবার ভোরেও একসঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করেছিলেন।
বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, “কবর খোঁড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরের ভেতরে শুয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে দেখি তিনি আর বেঁচে নেই।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেনি।
দুই বন্ধুর একসাথে এমন চিরবিদায়ের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে আবুল হাশেমের দীর্ঘদিনের বন্ধু বাচ্চু পাটওয়ারীর মৃত্যু হয়।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুকে হারিয়ে শোক সইতে না পেরে বন্ধুর জন্য কবর খোঁড়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন আবুল হাশেম (৯০) নামে আরেক বন্ধু।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু পাটওয়ারী ও আবুল হাশেম ছিলেন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের ছায়ার মতো ছিলেন। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ হলেও তাদের বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি। এলাকার কারও মৃত্যু হলে এই দুই বন্ধু মিলে বিনা পারিশ্রমিকে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কবর খুঁড়তেন। জানা যায়, তাদের হাতে শতাধিক কবর খোঁড়ার রেকর্ড রয়েছে।
সোমবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে দ্রুত ছুটে যান আবুল হাশেম। দুপুরে বন্ধুর মরদেহ দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে নামেন তিনি। কবর খোঁড়ার কাজ যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কবরেই ঢলে পড়েন আবুল হাশেম। দ্রুত তাকে উপরে তোলা হলে দেখা যায়, তিনি আগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন জানান, তার বাবা ও বাচ্চু পাটওয়ারী একে অপরের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। সারাক্ষণ তারা একসঙ্গেই থাকতেন। এমনকি রোববারের রাতেও তারা একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন এবং সোমবার ভোরেও একসঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করেছিলেন।
বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, “কবর খোঁড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরের ভেতরে শুয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে দেখি তিনি আর বেঁচে নেই।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেনি।
দুই বন্ধুর একসাথে এমন চিরবিদায়ের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন