খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধান কাটা উৎসব শুরু হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বর্তমান বাজারে ধানের দাম আর শ্রমিকের মজুরির মধ্যে যে চরম অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, তাতে কৃষিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মাঠের ধান ঘরে তুলতে গিয়ে কৃষকের পকেট থেকে উল্টো টাকা খসছে।
ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ও মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক মণ (৪০ কেজি) কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের একদিনের মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। অর্থাৎ, সারাদিন কাজ করার জন্য একজন শ্রমিককে যে টাকা দিতে হয়, তা এক মণ ধান বিক্রি করেও জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিজেল, সার এবং বীজের আকাশচুম্বী দামের কারণে বর্তমানে এক মণ বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ছে প্রায় ১২০০ টাকার বেশি। সেই তুলনায় বাজারের বর্তমান দর উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম। ফলে প্রত্যেক মণে কৃষককে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
[caption id="attachment_25915" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ৩৬ টাকা (মণ প্রতি ১৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করলেও ডুমুরিয়ার প্রান্তিক কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না। সরকারি সংগ্রহ অভিযান মে মাসের আগে শুরু না হওয়ায় ঋণের টাকা শোধ করতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়া বা চাতাল মালিকদের কাছে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান "প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগ্রহী কৃষকরা চাইলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রয় করতে পারবেন। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি সম্ভব হলে ধান মজুদ রাখতে, যাতে পরবর্তীতে ভালো দাম পাওয়া যায়।"

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধান কাটা উৎসব শুরু হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। বর্তমান বাজারে ধানের দাম আর শ্রমিকের মজুরির মধ্যে যে চরম অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, তাতে কৃষিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মাঠের ধান ঘরে তুলতে গিয়ে কৃষকের পকেট থেকে উল্টো টাকা খসছে।
ডুমুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ও মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক মণ (৪০ কেজি) কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের একদিনের মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। অর্থাৎ, সারাদিন কাজ করার জন্য একজন শ্রমিককে যে টাকা দিতে হয়, তা এক মণ ধান বিক্রি করেও জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিজেল, সার এবং বীজের আকাশচুম্বী দামের কারণে বর্তমানে এক মণ বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ছে প্রায় ১২০০ টাকার বেশি। সেই তুলনায় বাজারের বর্তমান দর উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম। ফলে প্রত্যেক মণে কৃষককে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
[caption id="attachment_25915" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ৩৬ টাকা (মণ প্রতি ১৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করলেও ডুমুরিয়ার প্রান্তিক কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না। সরকারি সংগ্রহ অভিযান মে মাসের আগে শুরু না হওয়ায় ঋণের টাকা শোধ করতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে ফড়িয়া বা চাতাল মালিকদের কাছে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান "প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগ্রহী কৃষকরা চাইলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রয় করতে পারবেন। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি সম্ভব হলে ধান মজুদ রাখতে, যাতে পরবর্তীতে ভালো দাম পাওয়া যায়।"

আপনার মতামত লিখুন