নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

গরুর মুখে মরিচ মিশ্রিত পানি: ‘টেকনিক’ নয়, নিষ্ঠুর নির্যাতন

গরুর মুখে মরিচ মিশ্রিত পানি: ‘টেকনিক’ নয়, নিষ্ঠুর নির্যাতন

কোরবানির হাট বা পশু পরিবহনের সময় ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়া গরুকে দাঁড় করানোর জন্য মুখে মরিচের গুঁড়া বা নেশাজাতীয় তরল মিশ্রণ দেওয়ার এক ভয়াবহ চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


তথাকথিত এই ‘টেকনিক’ বা কৌশলের নামে অবলা প্রাণীর ওপর চালানো হচ্ছে চরম নির্যাতন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রাণী অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া ক্লান্ত ও অসুস্থ গরুকে দ্রুত দাঁড় করানোর জন্য তার মুখে জোর করে মরিচ মিশ্রিত পানি ঢালা হয়। এর ফলে গরুর নাক, চোখ ও গলার ভেতরে অসহনীয় জ্বালাপোড়া তৈরি হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করা গরুটি বাঁচার আকুতিতে বা আতঙ্কে তাৎক্ষণিকভাবে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। একেই অনেকে ভুল করে পশুকে দাঁড় করানোর ‘টেকনিক’ হিসেবে প্রচার করছে।

তবে প্রাণিচিকিৎসকদের মতে, এটি কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নয়, বরং পশুর ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ ধরনের কাণ্ডে গরুর শ্বাসনালীতে পানি ঢুকে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সংক্রমণ, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

[caption id="attachment_26000" align="alignnone" width="240"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]

বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী, কোনো প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট বা নিষ্ঠুর আচরণ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের ধারা অনুযায়ী, এমন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালের এই আইনটি প্রাণীর যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এতে পশুর পরিবহন, পালন ও জবাইয়ের ক্ষেত্রেও মানবিক আচরণ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রাণী অধিকার কর্মীরা বলছেন, অবলা প্রাণীর কষ্টকে যারা ‘কৌশল’ হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে, তারা নৈতিকভাবে দেউলিয়া।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতা সমাজের জন্য একটি অশনি সংকেত। এই ধরনের অমানবিক চর্চা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


গরুর মুখে মরিচ মিশ্রিত পানি: ‘টেকনিক’ নয়, নিষ্ঠুর নির্যাতন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কোরবানির হাট বা পশু পরিবহনের সময় ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়া গরুকে দাঁড় করানোর জন্য মুখে মরিচের গুঁড়া বা নেশাজাতীয় তরল মিশ্রণ দেওয়ার এক ভয়াবহ চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


তথাকথিত এই ‘টেকনিক’ বা কৌশলের নামে অবলা প্রাণীর ওপর চালানো হচ্ছে চরম নির্যাতন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রাণী অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া ক্লান্ত ও অসুস্থ গরুকে দ্রুত দাঁড় করানোর জন্য তার মুখে জোর করে মরিচ মিশ্রিত পানি ঢালা হয়। এর ফলে গরুর নাক, চোখ ও গলার ভেতরে অসহনীয় জ্বালাপোড়া তৈরি হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করা গরুটি বাঁচার আকুতিতে বা আতঙ্কে তাৎক্ষণিকভাবে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। একেই অনেকে ভুল করে পশুকে দাঁড় করানোর ‘টেকনিক’ হিসেবে প্রচার করছে।

তবে প্রাণিচিকিৎসকদের মতে, এটি কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি নয়, বরং পশুর ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ ধরনের কাণ্ডে গরুর শ্বাসনালীতে পানি ঢুকে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সংক্রমণ, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

[caption id="attachment_26000" align="alignnone" width="240"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]

বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী, কোনো প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট বা নিষ্ঠুর আচরণ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের ধারা অনুযায়ী, এমন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালের এই আইনটি প্রাণীর যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এতে পশুর পরিবহন, পালন ও জবাইয়ের ক্ষেত্রেও মানবিক আচরণ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রাণী অধিকার কর্মীরা বলছেন, অবলা প্রাণীর কষ্টকে যারা ‘কৌশল’ হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে, তারা নৈতিকভাবে দেউলিয়া।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার প্রবণতা সমাজের জন্য একটি অশনি সংকেত। এই ধরনের অমানবিক চর্চা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত