নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সাংবাদিক আব্দুল কাদের খান: ডুমুরিয়ার সাংবাদিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি

সাংবাদিক আব্দুল কাদের খান: ডুমুরিয়ার সাংবাদিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি

ডুমুরিয়ার সাংবাদিকতা ও জ্ঞানচর্চার আলোকবর্তিকা, এক জীবন্ত কিংবদন্তি সাংবাদিক আব্দুল কাদের খান। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি গত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে তার লেখনী ও আদর্শের মাধ্যমে সমাজকে ঋদ্ধ করে চলেছেন।


১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাত্র চার মাস আগে ডুমুরিয়া থানার ঠিক পেছনে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। পিতা মাহাতাব উদ্দিন খান ও মাতা আনোয়ারা খাতুনের আদরের সন্তান আব্দুল কাদের খানের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিপ্লব ও বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত ভদ্রা নদীর তীরে।

শিক্ষাজীবনে তিনি দৌলতপুর সরকারি ব্রজলাল কলেজ (বিএল কলেজ) থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ডুমুরিয়া শহীদ স্মৃতি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত ‘বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা বিচিত্রা’ বইটি ২০০১ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই হিসেবে মনোনীত হয়েছিল, যা তার পাণ্ডিত্যের এক অনন্য স্বীকৃতি।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় তার অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ ৫৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দেশের অন্তত ২৬টি দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেছেন। এক সময় খুলনার জনপ্রিয় দৈনিক পূর্বাঞ্চলের চিফ রিপোর্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দীর্ঘ ১৬ বছর তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ (বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার) খুলনায় সংবাদ পর্যালোচনা করেছেন তিনি। সাংবাদিকতার প্রতি তার একাগ্রতা ও দক্ষতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। ১৯৬৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার হাত ধরে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয়েছে প্রায় ছয় হাজার তরুণের, যারা আজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন। নবীন সাংবাদিকদের কাছে তিনি পরম শ্রদ্ধেয় ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত।

সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ডুমুরিয়া রাইটার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ডুমুরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা অনবদ্য। অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

ডুমুরিয়ার এই কৃতি সন্তানের জন্য রইল অফুরন্ত শুভকামনা ও দোয়া। তার আদর্শ আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সাংবাদিক আব্দুল কাদের খান: ডুমুরিয়ার সাংবাদিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ডুমুরিয়ার সাংবাদিকতা ও জ্ঞানচর্চার আলোকবর্তিকা, এক জীবন্ত কিংবদন্তি সাংবাদিক আব্দুল কাদের খান। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি গত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে তার লেখনী ও আদর্শের মাধ্যমে সমাজকে ঋদ্ধ করে চলেছেন।


১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাত্র চার মাস আগে ডুমুরিয়া থানার ঠিক পেছনে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। পিতা মাহাতাব উদ্দিন খান ও মাতা আনোয়ারা খাতুনের আদরের সন্তান আব্দুল কাদের খানের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিপ্লব ও বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত ভদ্রা নদীর তীরে।

শিক্ষাজীবনে তিনি দৌলতপুর সরকারি ব্রজলাল কলেজ (বিএল কলেজ) থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ডুমুরিয়া শহীদ স্মৃতি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার রচিত ‘বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা বিচিত্রা’ বইটি ২০০১ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই হিসেবে মনোনীত হয়েছিল, যা তার পাণ্ডিত্যের এক অনন্য স্বীকৃতি।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় তার অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ ৫৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দেশের অন্তত ২৬টি দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেছেন। এক সময় খুলনার জনপ্রিয় দৈনিক পূর্বাঞ্চলের চিফ রিপোর্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দীর্ঘ ১৬ বছর তৎকালীন রেডিও বাংলাদেশ (বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার) খুলনায় সংবাদ পর্যালোচনা করেছেন তিনি। সাংবাদিকতার প্রতি তার একাগ্রতা ও দক্ষতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। ১৯৬৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার হাত ধরে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয়েছে প্রায় ছয় হাজার তরুণের, যারা আজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন। নবীন সাংবাদিকদের কাছে তিনি পরম শ্রদ্ধেয় ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত।

সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ডুমুরিয়া রাইটার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ডুমুরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা অনবদ্য। অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে তিনি সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

ডুমুরিয়ার এই কৃতি সন্তানের জন্য রইল অফুরন্ত শুভকামনা ও দোয়া। তার আদর্শ আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত