নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হাজারো কৃষক

তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হাজারো কৃষক

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অকাল ও টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে ১৪টি ইউনিয়নের মাঠের পাকা ধান।


একদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এই অঞ্চলের কৃষকরা। বিঘাপ্রতি হাজার টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক, ফলে চোখের সামনেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন।

বৃহস্পতিবার দিনভর টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিচু এলাকার জমিগুলোতে পানি জমে গেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে হাওর ও বিলের নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আধুনিক ‘হারভেস্টার’ মেশিন নামানো যাচ্ছে না। ফলে ধান কাটার জন্য সম্পূর্ণভাবে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক না থাকায় মাঠেই ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল হামিদ গাজী আক্ষেপ করে বলেন, "এই বছরের মতো দুর্গতি গত কয়েক বছরে দেখিনি। বাড়তি মজুরি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের জমিগুলো নিচু হওয়ায় মেশিন নামছে না, আবার বৃষ্টির পানিতে ফসলও তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন নিরুপায়।"

ধান কেটে কোনোমতে বাড়ির আঙিনায় বা খলায় আনলেও নতুন আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোদ। টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। রোদের অভাবে ধানের স্তূপে চারা গজাতে শুরু করেছে এবং অনেক জায়গায় ধানে দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। কৃষক হাবিবুর রহমান শেখ জানান, রোদ না থাকায় খলায় স্তূপ করে রাখা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন তারা। সব সংকট যেন একসাথেই হানা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ৩৫ শতাংশ ধান নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। যেসব জমিতে পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকবে, সেখানে ধানের মান নষ্ট হতে পারে।"

কৃষি কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন: ১. পানি নিষ্কাশন: দ্রুত নালা কেটে মাঠের পানি বের করে দিতে হবে। ২. উঁচু স্থানে স্থানান্তর: কাটা ধান আঁটি বেঁধে দ্রুত উঁচু স্থানে বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ৩. ফ্যানের বাতাস: রোদ না থাকলে ঘরের মেঝেতে ধান পাতলা করে বিছিয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকানোর চেষ্টা করতে হবে। ৪. দ্রুত মাড়াই: ভেজা ধান স্তূপ করে না রেখে দ্রুত মাড়াই করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ডুমুরিয়ার কৃষকরা এখন প্রকৃতির কৃপা আর সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছেন। যথাযথ নজরদারি আর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই অকাল বর্ষণ প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের জালে আটকে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হাজারো কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় অকাল ও টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে ১৪টি ইউনিয়নের মাঠের পাকা ধান।


একদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এই অঞ্চলের কৃষকরা। বিঘাপ্রতি হাজার টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক, ফলে চোখের সামনেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন।

বৃহস্পতিবার দিনভর টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিচু এলাকার জমিগুলোতে পানি জমে গেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে হাওর ও বিলের নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আধুনিক ‘হারভেস্টার’ মেশিন নামানো যাচ্ছে না। ফলে ধান কাটার জন্য সম্পূর্ণভাবে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক না থাকায় মাঠেই ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল হামিদ গাজী আক্ষেপ করে বলেন, "এই বছরের মতো দুর্গতি গত কয়েক বছরে দেখিনি। বাড়তি মজুরি দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের জমিগুলো নিচু হওয়ায় মেশিন নামছে না, আবার বৃষ্টির পানিতে ফসলও তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন নিরুপায়।"

ধান কেটে কোনোমতে বাড়ির আঙিনায় বা খলায় আনলেও নতুন আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোদ। টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। রোদের অভাবে ধানের স্তূপে চারা গজাতে শুরু করেছে এবং অনেক জায়গায় ধানে দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। কৃষক হাবিবুর রহমান শেখ জানান, রোদ না থাকায় খলায় স্তূপ করে রাখা ধান নিয়ে চরম বিপাকে আছেন তারা। সব সংকট যেন একসাথেই হানা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। তবে বাকি ৩৫ শতাংশ ধান নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। যেসব জমিতে পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকবে, সেখানে ধানের মান নষ্ট হতে পারে।"

কৃষি কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন: ১. পানি নিষ্কাশন: দ্রুত নালা কেটে মাঠের পানি বের করে দিতে হবে। ২. উঁচু স্থানে স্থানান্তর: কাটা ধান আঁটি বেঁধে দ্রুত উঁচু স্থানে বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ৩. ফ্যানের বাতাস: রোদ না থাকলে ঘরের মেঝেতে ধান পাতলা করে বিছিয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকানোর চেষ্টা করতে হবে। ৪. দ্রুত মাড়াই: ভেজা ধান স্তূপ করে না রেখে দ্রুত মাড়াই করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ডুমুরিয়ার কৃষকরা এখন প্রকৃতির কৃপা আর সরকারি সহায়তার আশায় দিন গুনছেন। যথাযথ নজরদারি আর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই অকাল বর্ষণ প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের জালে আটকে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত