"শ্রমিক দিবস বুঝি না। বুঝি কাম করলে টাকা পামু, টাকা পাইলে খাওন আর বাপের ওষুধ পামু।"— বিশ্ব শ্রমিক দিবসের সকালে এভাবেই নিজের জীবনের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরলেন শেরপুর সদর উপজেলার মধ্য শেরী এলাকার দিনমজুর মনিরুজ্জামান মনির (৪৯)।
যখন দেশজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সভা-সেমিনার আর মিছিল চলছে, তখন মনিরের মতো হাজারো শ্রমিকের কাছে মে দিবস মানে কেবলই আরেকটা অনিশ্চয়তার দিন। প্রতিদিনের ঘাম ঝরানো শ্রমে যার সংসার চলে, তার কাছে অধিকারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা পরের বেলার আহার।
মনির কখনো রিকশা চালান, কখনো রং মিস্ত্রি আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে পাহাড় কাটেন। সম্প্রতি চিকিৎসার অভাবে মাকে হারিয়েছেন তিনি। এখন অসুস্থ বাবার ওষুধের খরচ আর পরিবারের ভরণপোষণ তার কাঁধেই। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ভাড়ায় অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তিনি।
ক্ষোভের সঙ্গে মনির জানান, দুই বছর ধরে বাবার বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য সমাজসেবা অফিস আর পৌরসভায় ঘুরলেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, আমাগো জন্য কেউ নাই। কাম করি, খাই— এইটাই জীবন।"
স্থানীয়রা তাকে একজন আত্মসম্মানী মানুষ হিসেবে জানলেও বয়সের ভারে তিনি এখন ক্লান্ত। শেরপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, মনিরের বাবার বয়স্ক ভাতার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
শহরে মে দিবসের রঙিন পোস্টার আর বক্তৃতার আড়ালে মনিরদের এই লড়াই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়— অধিকার আদায়ের দিনটিতেও অনেক শ্রমিকের ভাগ্যে জোটে কেবল অনিশ্চয়তা আর অবহেলা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
"শ্রমিক দিবস বুঝি না। বুঝি কাম করলে টাকা পামু, টাকা পাইলে খাওন আর বাপের ওষুধ পামু।"— বিশ্ব শ্রমিক দিবসের সকালে এভাবেই নিজের জীবনের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরলেন শেরপুর সদর উপজেলার মধ্য শেরী এলাকার দিনমজুর মনিরুজ্জামান মনির (৪৯)।
যখন দেশজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সভা-সেমিনার আর মিছিল চলছে, তখন মনিরের মতো হাজারো শ্রমিকের কাছে মে দিবস মানে কেবলই আরেকটা অনিশ্চয়তার দিন। প্রতিদিনের ঘাম ঝরানো শ্রমে যার সংসার চলে, তার কাছে অধিকারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা পরের বেলার আহার।
মনির কখনো রিকশা চালান, কখনো রং মিস্ত্রি আবার কখনো দিনমজুর হিসেবে পাহাড় কাটেন। সম্প্রতি চিকিৎসার অভাবে মাকে হারিয়েছেন তিনি। এখন অসুস্থ বাবার ওষুধের খরচ আর পরিবারের ভরণপোষণ তার কাঁধেই। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ভাড়ায় অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তিনি।
ক্ষোভের সঙ্গে মনির জানান, দুই বছর ধরে বাবার বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য সমাজসেবা অফিস আর পৌরসভায় ঘুরলেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, আমাগো জন্য কেউ নাই। কাম করি, খাই— এইটাই জীবন।"
স্থানীয়রা তাকে একজন আত্মসম্মানী মানুষ হিসেবে জানলেও বয়সের ভারে তিনি এখন ক্লান্ত। শেরপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, মনিরের বাবার বয়স্ক ভাতার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
শহরে মে দিবসের রঙিন পোস্টার আর বক্তৃতার আড়ালে মনিরদের এই লড়াই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়— অধিকার আদায়ের দিনটিতেও অনেক শ্রমিকের ভাগ্যে জোটে কেবল অনিশ্চয়তা আর অবহেলা।

আপনার মতামত লিখুন