খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ‘বিল ডাকাতিয়া’ ও ‘বিল শিংগা’ এখন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদী-খাল ভরাট এবং সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি এখন পানির নিচে। কৃষকের কষ্টের বোরো ধান কাটার আগেই তলিয়ে যাওয়ায় মাঠজুড়ে এখন কেবলই কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ।
স্থানীয়দের মতে, নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অকেজো স্লুইসগেটের কারণে বিলের পানি নামতে পারছে না। ফলে বছরের দীর্ঘ সময় জমি পানির নিচে থাকে। বিলের ভেতরের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ডোঙা বা ছোট নৌকা।
[caption id="attachment_26368" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
কোমরাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তার জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে এই গভীর পানি থেকে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে সোনালি ফসল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চড়া সুদে টাকা ধার করে চাষাবাদ করা হাজারো কৃষক এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। কৃষি কাজ ছেড়ে অনেক কৃষক এখন বাধ্য হয়ে মৎস্য শিকার বা শ্রমিকের পেশা বেছে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, "আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।"
তবে বিলের ধান তলিয়ে যাওয়া বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার জানান, "বিলের পানি সরানোর জন্য আমাকে কেউ কিছু বলেনি, বিষয়টি আমি জানি না।"
বিল ডাকাতিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে শোলমারী নদীসহ অন্যান্য খালগুলো পুনঃখনন এবং ‘টিআরএম’ (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বা জোয়ারাধার পদ্ধতির কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, দ্রুত স্লুইস গেট সংস্কার ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে বিল ডাকাতিয়া কেবল মানচিত্রেরই অংশ হয়ে থাকবে, কৃষকের মুখে হাসি আর ফিরবে না।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ‘বিল ডাকাতিয়া’ ও ‘বিল শিংগা’ এখন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নদী-খাল ভরাট এবং সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি এখন পানির নিচে। কৃষকের কষ্টের বোরো ধান কাটার আগেই তলিয়ে যাওয়ায় মাঠজুড়ে এখন কেবলই কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ।
স্থানীয়দের মতে, নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অকেজো স্লুইসগেটের কারণে বিলের পানি নামতে পারছে না। ফলে বছরের দীর্ঘ সময় জমি পানির নিচে থাকে। বিলের ভেতরের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ডোঙা বা ছোট নৌকা।
[caption id="attachment_26368" align="alignnone" width="300"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
কোমরাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তার জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে এই গভীর পানি থেকে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে সোনালি ফসল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চড়া সুদে টাকা ধার করে চাষাবাদ করা হাজারো কৃষক এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। কৃষি কাজ ছেড়ে অনেক কৃষক এখন বাধ্য হয়ে মৎস্য শিকার বা শ্রমিকের পেশা বেছে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা বলেন, "আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।"
তবে বিলের ধান তলিয়ে যাওয়া বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার জানান, "বিলের পানি সরানোর জন্য আমাকে কেউ কিছু বলেনি, বিষয়টি আমি জানি না।"
বিল ডাকাতিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে শোলমারী নদীসহ অন্যান্য খালগুলো পুনঃখনন এবং ‘টিআরএম’ (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বা জোয়ারাধার পদ্ধতির কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, দ্রুত স্লুইস গেট সংস্কার ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে বিল ডাকাতিয়া কেবল মানচিত্রেরই অংশ হয়ে থাকবে, কৃষকের মুখে হাসি আর ফিরবে না।

আপনার মতামত লিখুন