নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ০৩ মে ২০২৬

উজানের ঢলে পানি বাড়ছে চলনবিলে, তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ২৬ হাজার হেক্টর ধান

উজানের ঢলে পানি বাড়ছে চলনবিলে, তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ২৬ হাজার হেক্টর ধান

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের বোরো চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আত্রাই নদীর পানি পাঁচটি প্রধান খাল দিয়ে দ্রুত বিলে প্রবেশ করায় প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফসল রক্ষায় প্রশাসন ও কৃষকরা মিলে রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির বাঁধ নির্মাণের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিচু জমির ধান ডুবতে শুরু করেছে।

উত্তর ভারত থেকে নেমে আসা আত্রাই নদীর পানি বর্তমানে সিংড়ার পাঁচটি পয়েন্ট—জোড়মল্লিকা, সারদানগর-হুলহুলিয়া, কতুয়াবাড়ি, রাখালগাছা এবং পৌর শ্মশানঘাট খাল দিয়ে সরাসরি চলনবিলে ঢুকছে।

মোট আবাদ ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর। কাটা শেষ হয়েছে ৩০ শতাংশ। মাঠে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ধান ২৬ হাজার হেক্টর। প্রয়োজনীয় সময় ফসল ঘরে তুলতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় প্রয়োজন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জোড়মল্লিকা সেতুর নিচ দিয়ে পানি ঢোকা ঠেকাতে কৃষকরা এস্কেভেটর দিয়ে সারারাত জেগে মাটির বাঁধ তৈরি করেছেন। তবে পানির উচ্চতা ও চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে ২৫০ থেকে ৩০০ হেক্টর ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

একই অবস্থা সারদানগর-হুলহুলিয়া খালের বাঁধের ক্ষেত্রেও। উপজেলা প্রশাসন বাঁধ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিলেও বৃষ্টির ধারাবাহিকতা ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁধগুলো কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।

"ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ফসল রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বাঁধ নির্মাণের সব ধরনের চেষ্টা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।" — আনোয়ারুল ইসলাম আনু, সংসদ সদস্য, নাটোর-৩।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


উজানের ঢলে পানি বাড়ছে চলনবিলে, তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ২৬ হাজার হেক্টর ধান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের বোরো চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আত্রাই নদীর পানি পাঁচটি প্রধান খাল দিয়ে দ্রুত বিলে প্রবেশ করায় প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফসল রক্ষায় প্রশাসন ও কৃষকরা মিলে রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির বাঁধ নির্মাণের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিচু জমির ধান ডুবতে শুরু করেছে।

উত্তর ভারত থেকে নেমে আসা আত্রাই নদীর পানি বর্তমানে সিংড়ার পাঁচটি পয়েন্ট—জোড়মল্লিকা, সারদানগর-হুলহুলিয়া, কতুয়াবাড়ি, রাখালগাছা এবং পৌর শ্মশানঘাট খাল দিয়ে সরাসরি চলনবিলে ঢুকছে।

মোট আবাদ ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর। কাটা শেষ হয়েছে ৩০ শতাংশ। মাঠে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ধান ২৬ হাজার হেক্টর। প্রয়োজনীয় সময় ফসল ঘরে তুলতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় প্রয়োজন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জোড়মল্লিকা সেতুর নিচ দিয়ে পানি ঢোকা ঠেকাতে কৃষকরা এস্কেভেটর দিয়ে সারারাত জেগে মাটির বাঁধ তৈরি করেছেন। তবে পানির উচ্চতা ও চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে ২৫০ থেকে ৩০০ হেক্টর ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

একই অবস্থা সারদানগর-হুলহুলিয়া খালের বাঁধের ক্ষেত্রেও। উপজেলা প্রশাসন বাঁধ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিলেও বৃষ্টির ধারাবাহিকতা ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁধগুলো কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।

"ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ফসল রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বাঁধ নির্মাণের সব ধরনের চেষ্টা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।" — আনোয়ারুল ইসলাম আনু, সংসদ সদস্য, নাটোর-৩।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত