খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নদ-নদী ও খাল এখন কচুরিপানার ঘন চাদরে ঢাকা। দিন দিন এই কচুরিপানা বাড়তে থাকায় নদীপথে নৌযান চলাচল এবং মাছ শিকার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মৎস্যজীবী ও কৃষক।
উপজেলার খর্ণিয়া, টিপনা, ডুমুরিয়া সদর, গুটুদিয়া, ধামালিয়া ও রঘুনাথপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ নদী-খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারণে জাল ফেলার কোনো উপায় নেই।
সরকারি উদ্যোগে নির্মিত মাছের অভয়াশ্রমগুলোও এখন কচুরিপানায় সয়লাব, যার ফলে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
টিপনা গ্রামের মৎস্যজীবী শেখ মুজিবুর রহমান জানান, গত এপ্রিল মাস থেকে তারা নদী-খালে মাছ ধরতে পারছেন না। রংপুর গ্রামের সুকুমার রায় আক্ষেপ করে বলেন, "এক লাখ টাকা ঋণ করে জাল কিনেছিলাম, কিন্তু কচুরিপানার জন্য গত তিন মাস মাছ ধরতে পারছি না। সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।"
মাছ শিকারের পাশাপাশি কৃষিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, ডুমুরিয়ায় এবার ৯৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিলসংলগ্ন নদী-খাল এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। কচুরিপানার কারণে মাঠ থেকে ধান ও সবজি নৌকায় করে বাড়ি আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শোভনা ইউনিয়নের কৃষক মহিবুল ইসলাম জানান, নদীপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে দ্বিগুণ খরচ করে ফসল ঘরে তুলতে হচ্ছে। এছাড়া কচুরিপানার কারণে হাঁসের বিচরণ ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় ডিম উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় গৃহবধূরা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, কচুরিপানা একবার সরালেও দ্রুত তা আবার ভরে যাচ্ছে। বিল ডাকাতিয়ার অসংখ্য শাখা খালও এখন চলাচলের অযোগ্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার জানান, নদ-নদী ও খাল কচুরিপানায় ভরে থাকার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জনস্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কচুরিপানা অপসারণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নদ-নদী ও খাল এখন কচুরিপানার ঘন চাদরে ঢাকা। দিন দিন এই কচুরিপানা বাড়তে থাকায় নদীপথে নৌযান চলাচল এবং মাছ শিকার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মৎস্যজীবী ও কৃষক।
উপজেলার খর্ণিয়া, টিপনা, ডুমুরিয়া সদর, গুটুদিয়া, ধামালিয়া ও রঘুনাথপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ নদী-খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারণে জাল ফেলার কোনো উপায় নেই।
সরকারি উদ্যোগে নির্মিত মাছের অভয়াশ্রমগুলোও এখন কচুরিপানায় সয়লাব, যার ফলে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
টিপনা গ্রামের মৎস্যজীবী শেখ মুজিবুর রহমান জানান, গত এপ্রিল মাস থেকে তারা নদী-খালে মাছ ধরতে পারছেন না। রংপুর গ্রামের সুকুমার রায় আক্ষেপ করে বলেন, "এক লাখ টাকা ঋণ করে জাল কিনেছিলাম, কিন্তু কচুরিপানার জন্য গত তিন মাস মাছ ধরতে পারছি না। সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।"
মাছ শিকারের পাশাপাশি কৃষিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, ডুমুরিয়ায় এবার ৯৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিলসংলগ্ন নদী-খাল এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। কচুরিপানার কারণে মাঠ থেকে ধান ও সবজি নৌকায় করে বাড়ি আনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শোভনা ইউনিয়নের কৃষক মহিবুল ইসলাম জানান, নদীপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে দ্বিগুণ খরচ করে ফসল ঘরে তুলতে হচ্ছে। এছাড়া কচুরিপানার কারণে হাঁসের বিচরণ ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় ডিম উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় গৃহবধূরা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, কচুরিপানা একবার সরালেও দ্রুত তা আবার ভরে যাচ্ছে। বিল ডাকাতিয়ার অসংখ্য শাখা খালও এখন চলাচলের অযোগ্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার জানান, নদ-নদী ও খাল কচুরিপানায় ভরে থাকার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জনস্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কচুরিপানা অপসারণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন