নজর বিডি
প্রকাশ : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

ডুমুরিয়ার মিনু সাহার ‘রাজা মানিক’ দেখতে মানুষের ঢল, দাম ১৪ লাখ টাকা

ডুমুরিয়ার মিনু সাহার ‘রাজা মানিক’ দেখতে মানুষের ঢল, দাম ১৪ লাখ টাকা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খামারিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রঘুনাথপুর গ্রামের চিরকুমারী মিনু সাহার পালিত দানবীয় আকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘রাজা মানিক’। ১৬০০ কেজি ওজনের এই গরুটি এতটাই বিশাল যে, বিক্রির জন্য এটি গোয়াল ঘর ভেঙে বের করতে হবে।


বুধবার (৬ মে ২০২৬) ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির ও ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিনু সাহার খামার পরিদর্শন করেন।

পাঁচ বছর ধরে পরম মমতায় লালন-পালন করা অস্ট্রেলিয়ান জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ৪০ মণ। মিনু রানী জানান, গরুটিকে তিনি সন্তানের মতো শিক্ষা দিয়েছেন, যা বলা হয় রাজা মানিক ঠিক তা-ই শোনে। গরুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ১৪ লক্ষ টাকা, তবে ১২ লক্ষ টাকা হলে তিনি এটি বিক্রি করবেন। প্রতিদিন এই গরুর পেছনে খাদ্য বাবদ খরচ হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫৯৮ জন খামারি বাণিজ্যিকভাবে ও পারিবারিকভাবে গবাদিপশু পালন করছেন। এবার কোরবানির হাটের জন্য ৪৫ হাজার ৮৩৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত। এবার ৩টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে তদারকির জন্য ৫ সদস্যের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মাঠে থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার এই সফল খামারির প্রশংসা করে বলেন "রাজা মানিক পালনের মাধ্যমে এই খামারি যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা আমাদের উপজেলার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।"

খামারিরা জানান, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি। খামারি নজরুল ও আমির হামজা বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান কাটিয়ে ওঠা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে দাম এবার অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির জানান, "খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এখন আর ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণের প্রবণতা নেই বললেই চলে। ৩টি মেডিকেল টিম নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করছে।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ডুমুরিয়ার মিনু সাহার ‘রাজা মানিক’ দেখতে মানুষের ঢল, দাম ১৪ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খামারিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রঘুনাথপুর গ্রামের চিরকুমারী মিনু সাহার পালিত দানবীয় আকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘রাজা মানিক’। ১৬০০ কেজি ওজনের এই গরুটি এতটাই বিশাল যে, বিক্রির জন্য এটি গোয়াল ঘর ভেঙে বের করতে হবে।


বুধবার (৬ মে ২০২৬) ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির ও ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিনু সাহার খামার পরিদর্শন করেন।

পাঁচ বছর ধরে পরম মমতায় লালন-পালন করা অস্ট্রেলিয়ান জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ৪০ মণ। মিনু রানী জানান, গরুটিকে তিনি সন্তানের মতো শিক্ষা দিয়েছেন, যা বলা হয় রাজা মানিক ঠিক তা-ই শোনে। গরুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ১৪ লক্ষ টাকা, তবে ১২ লক্ষ টাকা হলে তিনি এটি বিক্রি করবেন। প্রতিদিন এই গরুর পেছনে খাদ্য বাবদ খরচ হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫৯৮ জন খামারি বাণিজ্যিকভাবে ও পারিবারিকভাবে গবাদিপশু পালন করছেন। এবার কোরবানির হাটের জন্য ৪৫ হাজার ৮৩৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত। এবার ৩টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে তদারকির জন্য ৫ সদস্যের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মাঠে থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার এই সফল খামারির প্রশংসা করে বলেন "রাজা মানিক পালনের মাধ্যমে এই খামারি যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা আমাদের উপজেলার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।"

খামারিরা জানান, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি। খামারি নজরুল ও আমির হামজা বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান কাটিয়ে ওঠা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে দাম এবার অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির জানান, "খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এখন আর ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণের প্রবণতা নেই বললেই চলে। ৩টি মেডিকেল টিম নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করছে।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত