নজর বিডি
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কোরবানির বাজার কাঁপাতে নড়াইলে প্রস্তুত ‘বাহুবলী’: ওজন ২৮ মণ

কোরবানির বাজার কাঁপাতে নড়াইলে প্রস্তুত ‘বাহুবলী’: ওজন ২৮ মণ
কোরবানির বাজার কাঁপাতে নড়াইলে প্রস্তুত ‘বাহুবলী’:ছবি: প্রতিনিধিনি. নজর বিডি

কোরবানির ঈদ এলেই দেখা মেলে বাহারি নাম ও বিশাল আকৃতির গরুর। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। গরুটি শান্ত প্রকৃতির, রং কালো ও সাদা। ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের। নাম রাখা হয়েছে “বাহুবলী”। 

২৮ মন ওজনের ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের ‘বাহুবলী’ গরুটি আসন্ন কোরবানির জন্য প্রস্তুত। বিশাল বড় দানবাকৃতির ষাঁড়টি দেখতে খামারে আশপাশের এলাকা থেকে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। যতœ আর পরিচর্যায় সন্তানের মতো লালন করা ষাঁড়টি বিক্রির জন্য দাম হাঁকাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার বাজার মাতাবে নড়াইলের “বাহুবলী”। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মিনা পাড়ায় রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্মে কুরবানির জন্য ২২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাহুবলী।


খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘বাহুবলী গরুটির বয়স প্রায় ৪ বছর, দাঁত রয়েছে ২টি। গরুটির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট, ওজন প্রায় ২৮ মণ অর্থাৎ ১১০০ কেজি। খামারে বাহুবলীর খাদ্য তালিকায় রয়েছে খামারির নিজস্ব জমির কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈল, লবণ ও গম ভাঙা। নিয়মিত পরিচর্যার অংশ হিসেবে দিনে দুই থেকে তিনবার সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। খামার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বাহুবলী বাইরে বের হতে পারলেই কখনও কখনও তাÐব চালায়, যাকে সামলাতে পরিবারের সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হয়। খামারের কর্মীরা নিজ সন্তানের মত লালন পালন করছেন।’


রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্ম সূত্রে জানাযায়, ‘২০১৮ সাল থেকে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছরই খামারে কোরবানির জন্য ষাঁড় প্রস্তুত করি। চলতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে মোট ২২টি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহুবলী সবচেয়ে বড়। বাহুবলীর সঙ্গে একই খামারের তিনটি সেডে ২২টি গরু লালন পালন করা হচ্ছে। বাহুবলীর পাশাপাশি আরও ২১ টি শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে খামারটিতে। যাদের প্রত্যেকটির ওজন ২০ থেকে ২৫ মনের মধ্যে।’


রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্মের মালিক রিপন মিনা বলেন, “দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার গরুর হাট থেকে বাহুবলীকে কিনে আনি। সন্তানের মতো লালনপালন করেছি। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিক্রির জন্য তাকে প্রস্তুত করছি। ঈদুল আজহায় আমি বিক্রি করতে চাই। আমি বাহুবলীর দাম হাঁকাচ্ছি ১০ লাখ টাকা। হাটে নিতে চাই না, খামার থেকেই বিক্রি করতে চাই।”


খামারের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা পারুল ও আজিমুল বলেন, ‘খামারের সব গরুর মধ্যে বাহুবলী সবচেয়ে বড়। এটি সাধারণত শান্ত থাকে, তবে মাঝে মাঝে অশান্ত হয়ে যায়। ষাঁড়টি বিশালদেহীর হওয়াতে সচরাচর বের করা হয় না। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টাকার খাবার খায়। নিয়ম করে প্রতিদিন অন্তত দু’বার গোসল করানো হয়।’


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে নড়াইল জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা রয়েছে মোট ৪৫ হাজার ৮৯৭টি। এর মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪টি, বলদ ৬৩৯টি, গাভী ৫ হাজার ১৪১, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮৮ ও ভেড়া ৫৫টি। চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪টি, যা পার্শ^বর্তী জেলাগুলোতে রফতানি করা হবে।


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, “কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া এলাকার রাহুল ও রিয়া  অ্যাগ্রো খামারটিতে প্রায় ১১০০ কেজির ওজনের বড় একটি ষাঁড় রয়েছে। শুরু থেকে খামারটির বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। আমরা জেলার ৬টি স্থায়ী পশুর হাটে ভেটেনারি টিমের মাধ্যমে পশু পরীক্ষা করে সুস্থ পশু বিক্রিতে কাজ করছি। আশা করছি এবার কোরবানি ঈদে খামারিরা তাদের পশুর ভালো দাম পাবেন।”


এদিকে কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাহুবলীকে ঘিরে বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টি এবার কোরবানির বাজারে নড়াইল জেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।#

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


কোরবানির বাজার কাঁপাতে নড়াইলে প্রস্তুত ‘বাহুবলী’: ওজন ২৮ মণ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

কোরবানির ঈদ এলেই দেখা মেলে বাহারি নাম ও বিশাল আকৃতির গরুর। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। গরুটি শান্ত প্রকৃতির, রং কালো ও সাদা। ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের। নাম রাখা হয়েছে “বাহুবলী”। 

২৮ মন ওজনের ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের ‘বাহুবলী’ গরুটি আসন্ন কোরবানির জন্য প্রস্তুত। বিশাল বড় দানবাকৃতির ষাঁড়টি দেখতে খামারে আশপাশের এলাকা থেকে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। যতœ আর পরিচর্যায় সন্তানের মতো লালন করা ষাঁড়টি বিক্রির জন্য দাম হাঁকাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার বাজার মাতাবে নড়াইলের “বাহুবলী”। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মিনা পাড়ায় রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্মে কুরবানির জন্য ২২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাহুবলী।


খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘বাহুবলী গরুটির বয়স প্রায় ৪ বছর, দাঁত রয়েছে ২টি। গরুটির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট, ওজন প্রায় ২৮ মণ অর্থাৎ ১১০০ কেজি। খামারে বাহুবলীর খাদ্য তালিকায় রয়েছে খামারির নিজস্ব জমির কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈল, লবণ ও গম ভাঙা। নিয়মিত পরিচর্যার অংশ হিসেবে দিনে দুই থেকে তিনবার সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। খামার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বাহুবলী বাইরে বের হতে পারলেই কখনও কখনও তাÐব চালায়, যাকে সামলাতে পরিবারের সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হয়। খামারের কর্মীরা নিজ সন্তানের মত লালন পালন করছেন।’


রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্ম সূত্রে জানাযায়, ‘২০১৮ সাল থেকে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছরই খামারে কোরবানির জন্য ষাঁড় প্রস্তুত করি। চলতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে মোট ২২টি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহুবলী সবচেয়ে বড়। বাহুবলীর সঙ্গে একই খামারের তিনটি সেডে ২২টি গরু লালন পালন করা হচ্ছে। বাহুবলীর পাশাপাশি আরও ২১ টি শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে খামারটিতে। যাদের প্রত্যেকটির ওজন ২০ থেকে ২৫ মনের মধ্যে।’


রাহুল ও রিয়া এগ্রো ফার্মের মালিক রিপন মিনা বলেন, “দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার গরুর হাট থেকে বাহুবলীকে কিনে আনি। সন্তানের মতো লালনপালন করেছি। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিক্রির জন্য তাকে প্রস্তুত করছি। ঈদুল আজহায় আমি বিক্রি করতে চাই। আমি বাহুবলীর দাম হাঁকাচ্ছি ১০ লাখ টাকা। হাটে নিতে চাই না, খামার থেকেই বিক্রি করতে চাই।”


খামারের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা পারুল ও আজিমুল বলেন, ‘খামারের সব গরুর মধ্যে বাহুবলী সবচেয়ে বড়। এটি সাধারণত শান্ত থাকে, তবে মাঝে মাঝে অশান্ত হয়ে যায়। ষাঁড়টি বিশালদেহীর হওয়াতে সচরাচর বের করা হয় না। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টাকার খাবার খায়। নিয়ম করে প্রতিদিন অন্তত দু’বার গোসল করানো হয়।’


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে নড়াইল জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা রয়েছে মোট ৪৫ হাজার ৮৯৭টি। এর মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪টি, বলদ ৬৩৯টি, গাভী ৫ হাজার ১৪১, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮৮ ও ভেড়া ৫৫টি। চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪টি, যা পার্শ^বর্তী জেলাগুলোতে রফতানি করা হবে।


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, “কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া এলাকার রাহুল ও রিয়া  অ্যাগ্রো খামারটিতে প্রায় ১১০০ কেজির ওজনের বড় একটি ষাঁড় রয়েছে। শুরু থেকে খামারটির বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। আমরা জেলার ৬টি স্থায়ী পশুর হাটে ভেটেনারি টিমের মাধ্যমে পশু পরীক্ষা করে সুস্থ পশু বিক্রিতে কাজ করছি। আশা করছি এবার কোরবানি ঈদে খামারিরা তাদের পশুর ভালো দাম পাবেন।”


এদিকে কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাহুবলীকে ঘিরে বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টি এবার কোরবানির বাজারে নড়াইল জেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।#


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত