নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৭ মার্চ ২০২৫

দুদকের মামলায় খালাস পেলেন তারেক ও মামুন

দুদকের মামলায় খালাস পেলেন তারেক ও মামুন
দুদকের মামলায় খালাস পেলেন তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। অপরদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাসের সেই রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল করলো হাইকোর্টে। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ৭ বছরের সাজা দিলেন। তার ধারাবাহিকতায় মামলা এলো আপিল বিভাগে। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ অর্থ পাচারের সেই মামলায় তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে খালাস দিয়েছেন। কারণ হিসেবে দুদকের আইনজীবী বলছেন, পাচারের কোনো অভিযোগই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নেই। এই যুক্তিতে আদালত খালাস দিয়েছেন। আর মামুনের আইনজীবীরা বলছেন, এখানে দুদকের মামলা করার কোনো এখতিয়ারই নেই। আইনগতভাবে এটা অচল। টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্মাণ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে এ টাকা লেনদেন হয়। এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটি ব্যাংক এনএতে তার নামে ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এ টাকার মধ্যে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন বলে অভিযোগ এনে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলাটি করে দুদক। এরপর ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যাদের মধ্যে চার্জশিটের বাইরের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপরোভেট। এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সেই রায় কাল হয়ে দাঁড়ালো বিচারক মোতাহার হোসেনের জীবনে। এক পর্যায়ে দেশত্যাগে বাধ্য হলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি মালয়েশিয়া ও ফিনল্যান্ডে অবস্থান করেছেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এমনকি তার গাড়িচালক ও দেহরক্ষীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিলো দুদক। যদিও ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনি স্ত্রীকে হারিয়েছেন। তবে সেই রায়ে থেমে থাকেনি দুদক। বিচারককে হয়রানির পাশাপাশি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুদক আপিল করে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুদকের মামলায় খালাস পেলেন তারেক ও মামুন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৫

featured Image
দুদকের মামলায় খালাস পেলেন তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। অপরদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাসের সেই রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল করলো হাইকোর্টে। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ৭ বছরের সাজা দিলেন। তার ধারাবাহিকতায় মামলা এলো আপিল বিভাগে। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ অর্থ পাচারের সেই মামলায় তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে খালাস দিয়েছেন। কারণ হিসেবে দুদকের আইনজীবী বলছেন, পাচারের কোনো অভিযোগই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নেই। এই যুক্তিতে আদালত খালাস দিয়েছেন। আর মামুনের আইনজীবীরা বলছেন, এখানে দুদকের মামলা করার কোনো এখতিয়ারই নেই। আইনগতভাবে এটা অচল। টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্মাণ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে এ টাকা লেনদেন হয়। এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটি ব্যাংক এনএতে তার নামে ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এ টাকার মধ্যে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন বলে অভিযোগ এনে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলাটি করে দুদক। এরপর ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যাদের মধ্যে চার্জশিটের বাইরের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপরোভেট। এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সেই রায় কাল হয়ে দাঁড়ালো বিচারক মোতাহার হোসেনের জীবনে। এক পর্যায়ে দেশত্যাগে বাধ্য হলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি মালয়েশিয়া ও ফিনল্যান্ডে অবস্থান করেছেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এমনকি তার গাড়িচালক ও দেহরক্ষীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিলো দুদক। যদিও ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনি স্ত্রীকে হারিয়েছেন। তবে সেই রায়ে থেমে থাকেনি দুদক। বিচারককে হয়রানির পাশাপাশি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুদক আপিল করে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত